ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


উত্তরে কমছে, মধ্যাঞ্চলে বন্যার চাপ বাড়ছে

উত্তরে কমছে, মধ্যাঞ্চলে বন্যার চাপ বাড়ছে
বন্যার পানিতে ডুবে গেছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ রেল স্টেশন। ছবি : ইত্তেফাক

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় এখনো কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যার কারণে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। বন্যকবলিত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির অপ্রতুলতায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে। লালমনিরহাট, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও অবনতি হয়েছে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, শেরপুরে। প্লাবিত এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে বহু পুকুরের মাছ। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য মাটির ঘর। আঞ্চলিক অফিস, জেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা সংবাদদাতাদের পাঠানো রিপোর্টে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশু মারা গেছে। অপরদিকে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের মালমারা গ্রামে আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশু বন্যার পানিতে পড়ে মারা যায়। আব্দুল্লাহ স্থানীয় মো. ফারুকের ছেলে।

সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে :পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের ২৩টি পয়েন্টে প্রধান নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া দেশের সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি বাড়তে পারে। কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। তবে, লালমনিরহাট, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্লাবনের সঙ্গে ভাঙন :যমুনা ও ধলেশ্বরীর পানি বৃদ্ধি পাওয়া টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার আগদিঘুলিয়া, নিশ্চিন্তপুর ও পাইকশা মাঝাইল গ্রামে ও কাজীবাড়ি, কেদারপুরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে গৃহহীন হচ্ছে বহু পরিবার। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দুই একদিনের মধ্যে পাইকশা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভূঞাপুরে যমুনা নদীর ব্যাপক ভাঙ?নে তিন গ্রা?মে ঘরবা?ড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ২০ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ১৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ৭০ হাজার মানুষসহ জেলায় তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি। রংপুরের পীরগাছায় বন্যার সঙ্গে দেখা দিয়েছে সাপ আতঙ্ক। ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নেত্রকোনা পৌর এলাকার নাগড়া মধ্যপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই সড়কটি পানির নিচে চলে যায়। জেলায় দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : শীর্ষেই আছেন সাকিব​

জামালপুরে ৭টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নসহ তিনটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ। বন্যার কারণে সাড়ে তিনশরও বেশি স্কুল-মাদ্রাসা বন্ধ রয়েছে। পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি বাড়িঘর। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর ভোগাই নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে ৪২ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঝিনাইগাতীতে বন্যায় ৪০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ পনিবন্দি। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

সিলেটের ১৩ জেলায় বন্যায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভেঙেছে ২৪৫ মিটার বাঁধ। বন্ধ রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক স্কুল-মাদ্রাসা। সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। এখনো বন্ধ আছে ১৬৮টি বিদ্যাপীঠ। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের কারণে জেলা সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি, মাটিরাংগা, পানছড়ি ও রামগড় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফসল ও বীজতলা, প্রধান প্রধান সড়ক, রাস্তাঘাট এবং ব্রিজ-কালভার্টের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেসরকারি হিসেব মতে, এ জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে সাত কোটি টাকা।

দেওয়ানগঞ্জের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ : জামালপুরের ইসলামপুর স্টেশন মাস্টার মো. মিজানুর রহমান জানান, দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন ইয়ার্ড পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনসহ সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ইসলামপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করলেও যে কোনো মুহূর্তে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ইত্তেফাক/ইউবি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন