ঢাকা শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
৩৩ °সে


এ বছর বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এআইআইবি :অর্থমন্ত্রী

এ বছর বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এআইআইবি :অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল- ফাইল ছবি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, এবছর বাংলাদেশে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি)। ইতিমধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। বছর শেষে এই সহায়তা ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটিতে উন্নীত হবে।

এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) বোর্ড অব গভর্নরসের চতুর্থ বার্ষিক সভায় অংশ নিতে সম্প্রতি লুক্সেমবার্গ সফর করেন অর্থমন্ত্রী। দেশে ফিরে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অফিস করেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী একথা জানান। সভার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, এআইআইবি বার্ষিক সভায় এবার তিনটি দেশ ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ পেয়েছে। তার একটি হলো বাংলাদেশ। অপর দুটি দেশ হলো: উজবেকিস্তান এবং ফিলিপাইন। দেশগুলো তাদের অর্জনগুলো সভায় উপস্থাপন করেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বাংলাদেশের অর্জনগুলো সভায় তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, ১২ ও ১৩ জুলাই দুই দিনের এআইআইবির বোর্ড সভায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল লুক্সেমবার্গ সফর করেন। সভায় বাংলাদেশের পল্লী বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে সাড়ে ১৬ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ১১ জুলাই বাংলাদেশের পৌরসভার পানি ও স্যানিটেশনের উন্নয়নের প্রকল্পে ২০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এআইআইবি।

এআইআইবির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বাংলাদেশ তাদের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলোর অন্যতম। তিনি বলেছেন, আমাদের শক্তিশালী ও সাহসী একজন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। তিনি দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে অবিচল কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন- ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করবো এবং সেই সময়ে আমাদের যে প্রবৃদ্ধি হবে, সেটির হাত ধরে আমরা উন্নত দেশের দিকে অগ্রসর হব। বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় এআইআইবির সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জিন লিকুয়ান জানান।

আরও পড়ুন: যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রে ১০০ বছরে সর্বোচ্চ বিপৎসীমায় পানি

এআইআইবির বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধে সারা বিশ্বে প্রভাব পড়ছে। অনেক দেশেই এর বিস্তার লাভ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইরান, তুরস্ক এমন কি ভারতের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। কারণ আমরা দেখেছি, ১৯২৯ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মন্দা দ্রুত মহামন্দায় পরিণত হয়েছিল। এর কারণ সে সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উচ্চহারে ট্যারিফ আরোপ করেছিল। সে সময় মার্কিন সরকার ২০ হাজার পণ্যের ওপর ট্যারিফ আরোপ করেছিল। প্রতিটি পণ্যে কমপক্ষে ৫০ ভাগ ছিল ট্যারিফের আকার। এর ফলে সে সময় পাঁচটি বছর সারা বিশ্বে বাণিজ্য ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে ৬ শতাংশ বিশ্ববাণিজ্য কমে গেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি বিশেষ চক্রে পড়ে যাচ্ছি। বারবার বাণিজ্যযুদ্ধ ফিরে আসছে। বারবার মন্দা ফিরে আসছে। বাংলাদেশসহ যে সমস্ত উদীয়মান অর্থনীতির দেশ আছে তাদের এখন স্বপ্ন রয়েছে, তারা এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা অনেক কষ্ট করে যাচ্ছি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে, তাদের কর্মসংস্থান তৈরিতে। এআইআইবির বৈঠকে বিশ্ববাসীর কাছে দাবি হলো: কর্মক্ষম মানুষের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা, মানুষের জীবনমান উন্নত করা। বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে রাস্তাঘাট, ব্রিজ এ রকম অবকাঠামোর পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাসহ সামাজিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করতে এআইআইবি সম্মত হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

ইত্তেফাক/এমআরএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন