ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মূল্যহীন হলো চামড়া

পরস্পরকে দুষছেন আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা
সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মূল্যহীন হলো চামড়া
ক্রেতা না থাকায় মাদ্রাসায় দান করা সহস্রাধিক চামড়া এভাবেই মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। ছবি: সংগৃগীত

কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে ভয়াবহ সংকট তৈরি করা হয়েছে। লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকায়! যারা কোরবানি দিয়েছেন, তারা যেমন চামড়ার দাম পাননি, তেমনি দাম পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারের এ অবস্থা। অবশ্য বিগত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ ছিল। কিন্তু এবারের অবস্থা অনেক বেশি শোচনীয়। বিক্রি করতে না পেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে কোরবানির পশুর চামড়া। অনেকেই চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন, অনেকে পানিতে ফেলে দিয়েছেন।

দেশের সবচেয়ে বড়ো কাঁচা চামড়ার আড়ত ঢাকার পোস্তা এলাকায় রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে পশুর চামড়া। ব্যাপক দরপতন ও বৈরী আবহাওয়ায় পচে যাওয়ার ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে চামড়ার স্তূপ সিটি করপোরেশনের গাড়ি ও ট্রাকে করে সরাতে দেখা গেছে। বিক্রি করতে না পেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কে চামড়া ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। যারা কম মূল্যে বিক্রি করেছেন তারাও বড়ো ধরনের লোকসানের কথা বলছেন। এদিকে মূলত বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং এবং গরিব-দুস্থদের দেওয়ার জন্য কোরবানির চামড়ার টাকা রেখে দেন কোরবানিদাতারা। কিন্তু এবার চামড়ার মূল্য না থাকায় গরিবেরা সেই সুবিধা তেমন একটা পাননি।

পালটাপালটি দোষারোপ

আড়তদারদের দাবি, ট্যানারি মালিকরা গত বছরের বকেয়া পরিশোধ না করায় তারা চামড়া কিনতে পারছেন না, ফলে দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, কোরবানির কাঁচা চামড়ার মূল্য কমিয়ে ফায়দা লুটেছেন আড়তদাররা। তারা কম দামে চামড়া কিনলেও ট্যানারিতে সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি করবেন। পরস্পর দোষারোপের ফলে কাঁচা চামড়া নিয়ে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, দুই-আড়াইশ টাকায় যেসব চামড়া আড়তদাররা কিনেছেন সেগুলো তারা ট্যানারি মালিকদের কাছে বড়ো লাভে বিক্রি করবেন। ফলে গড়ে প্রতিটি গরুর চামড়া থেকে ৮০০ থেকে হাজার টাকা লাভ করার সুযোগ পাবেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ বাণিজ্যমন্ত্রীর

চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বুধবার রংপুরে বলেছেন, ঈদের আগে ট্যানারি মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ঈদের দিন এর কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। চামড়া শিল্প বাঁচাতে আমরা কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চান ট্যানারি মালিকরা

দেশীয় শিল্প রক্ষায় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। গতকাল বুধবার ধানমন্ডিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ এ দাবি জানান। আড়তদাররা অভিযোগ করেছেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের ৩৫০ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেনি। এ কারণে টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারেননি তারা।

অবিলম্বে চামড়া কিনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ

অবিলম্বে নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করতে ট্যানারি মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুরোধ জানিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৭ আগস্ট শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া ক্রয় শুরু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

দাম নির্ধারণ করে দিলেও প্রভাব নেই বাজারে

এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারাদেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা। সে হিসাবে ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন