কক্সবাজারের বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই!

কক্সবাজারের বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই!
ছবি: ইত্তেফাক

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পার হয়েছে। আর এবারের স্বাধীনতা দিবসে উদ্যাপন হবে দেশ স্বাধীনের অর্ধশত বছর। এত দীর্ঘ সময়েও কক্সবাজারে সরকারি সুবিধা নেওয়া ৮ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে উঠেনি। আর প্রায় দেড়শ মাদ্রাসার কোনোটিতে নেই ভাষা শহীদদের স্মৃতির এ ফলক। ফলে, ভাষার জন্য জীবন দেওয়া ভাষা শহীদদের বিষয়ে কিছু জানে না শিক্ষার্থীরা। এতে মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও জন্মাচ্ছে না তাদের মনে। ফেব্রুয়ারি মাসে যেনতেন ভাবে ভাষা শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও, আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের তাৎপর্য বা গুরুত্ব নেই শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলেও তা অনেকটা ভগ্নদশায়।

২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গান চালিয়ে নামমাত্র অনুষ্ঠান পালন করা হয়। আবার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এদিন বন্ধও থাকে। মাদ্রাসাগুলোতে শহীদ মিনারের অস্তিত্বতো নেই-ই, তার ওপর সিংহভাগ মাদ্রাসা এসব দিবস পালনে বিমুখ। কারণ, অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষকরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণকে ‘শরিয়তবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কে জানাতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এর গুরুত্ব, উৎপত্তি, ইতিহাস সম্পর্কে এখনো অনেক কিছু জানে না প্রাথমিকসহ নানা স্তরের শিক্ষার্থীরা। শহীদ মিনার কী, কী কারণে ফুল দিতে হয় তা জানিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হতে পারে শহীদ মিনার। কিন্তু জেলার উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি।

জেলার একমাত্র প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতেও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। জাতীয় দিবসগুলোতে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। কিন্তু জেলায় কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজো শহীদ মিনার গড়ে উঠেনি বা কয়টিতে আছে তার সঠিক তথ্য জানাতে পারেননি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তারা।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলায় কামিল-ফাজিল-আলিম ও দাখিল মিলে মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ১৪৭টি। এর মধ্যে কামিল তিনটি, ফাজিল ১৩টি, আলিম ২৩টি, দাখিল ১০৮টি।

দেখা যায়, জেলায় মাদ্রাসা শিক্ষায় সর্বোচ্চ এবং প্রাচীন প্রতিষ্ঠান হাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসাসহ তালিকায় থাকা মাদ্রাসার কোনোটিতেই শহীদ মিনার নেই। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটিতে দোয়া মাহফিল হলেও ফুল দিয়ে শহীদদের সম্মান জানানো হয় না এখানে।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x