বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
পুষ্পস্তাবক অর্পণ করছেন রাষ্ট্রদূত। ছবি: ইত্তেফাক

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দূতাবাসে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছবি আঁকা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইতালি (রোম) বাংলাদেশ দূতাবাস: ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস দুইদিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষে ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭ টা ১ মিনিটে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান দূতাবাসে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তাবক অর্পণ করেন। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তাবক অর্পণের পরে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

জাপানের টোকিও বাংলাদেশ দূতাবাস: ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাপানের টোকিও টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার সকালে অনুষ্ঠান শুরু হয় ভাষা শহীদদের স্মরণে দূতাবাসের অস্থায়ী শহীদ মিনার বেদীতে পুস্পাস্তবক অর্পণের মাধ্যমে। জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা- কর্মচারী পুস্পাস্তবক অর্পণ করেন।

ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ দূতাবাস: ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস রবিবার মহান “শহীদ দিবস” ও “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম রাত ১২টা ১ মিনিটে দূতাবাস প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি সূচনা করেন।

বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে জাতীয় নেতাদের বাণী পাঠ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সহিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন ভাষার জন্য জীবন দেয়ার মাধ্যমে বাঙালি জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ১৯৯৯ সালে মাতৃভাষার জন্য বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে।

এসময় দূতাবাসের মিনিস্টার (ইকোনমিক) মো: মেহেদী হাসান, ডিফেন্স এ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম মঈনুল হাসান, মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) দেওয়ান আলী আশরাফ এবং মিনিস্টার (কনস্যুলার) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, প্রথম সচিব এবং চ্যান্সারী প্রধান মো: মাহমুদুল ইসলাম দিবসের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সবশেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং বাংলাদেশে অব্যাহত উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ফিলিপাইন (ম্যানিলা) বাংলাদেশ দূতাবাস: যথাযোগ্য মর্যাদা, গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে রবিবার ২১ ফেব্রুয়ারি দূতাবাসে এক আলোচনা সভা, ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তো'লন ও অর্ধ নর্মিতকরণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় দূতাবাসে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। এরপর ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া পাঠ করা হয়।

ভিয়েতনাম (হ্যানয়) বাংলাদেশ দূতাবাস: ভিয়েতনামে যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ভাব গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে মান্যবর রাষ্ট্রদূত কর্তৃক জাতীয় সংগীত সহকারে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত, ১ মিনিট নীরবতা পালন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

এসময় ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজ সামিনা নাজসহ দূতাবাসের বাংলাদেশি ও ভিয়েতনামী কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং তাদের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চীন (কুনমিং): চীনের কুনমিংয়ে কনসাল জেনারেল এ এফ এম আমিনুল ইসলাম কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে এ দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত, মহান ভাষা শহিদের এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত ও দেশের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী পাঠ, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীরা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাটিকা পরিবেশন করে। অনুষ্ঠান শেষে আগত অতিথিদের দেশীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ হাইকমিশন: বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন, সিঙ্গাপুর। জাতীয় সংগীত পরিবেশনা ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে সকালে দিবসের কার্যক্রমের সূচনা করেন হাইকমিশনার জনাব মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, এনডিসি।

অতঃপর ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাইকমিশনে রক্ষিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশ হাইকমিশন, দেশীয় ব্যাংকিং হাউজসমূহ ও বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে শাহাদাতবরণকারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে করা হয় বিশেষ মোনাজাত। দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেয়া বাণীসমূহ পড়ে শোনান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা। এসময়ে মহান শহীদ দিবসের উপরে নির্মিত একটি আলেখ্যও প্রদর্শিত হয়। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি জনাব মো. হাফিজুর রহমান এবং বিডিচ্যাম-এর সভাপতি প্রফেসর ডঃ আব্দুর রহিম। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকে বাঙ্গালী জাতির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম সোপান বলে অবহিত করেন আলোচকেরা।

অস্ট্রেলিয়া (ক্যানবেরা) বাংলাদেশ হাইকমিশন: ক্যানবেরার উদ্যোগে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ক্যানবেরাস্থ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রদূত-কূটনৈতিকসহ অস্ট্রেলিয়া ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানীতে যথাযথ মর্যাদা ও ভাব গাম্ভীর্য পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছেন।

গত দু’বছরের মতো এবারও ক্যানবেরাস্থ তেলোপিয়া পার্কে মানুকা সার্কিট ও নিউ সাউথ ওয়েলস স্ট্রীট এর ক্রসরোডে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন এসিটি গভর্নমেন্টের পরিবেশ ও হেরিটেজ মিনিস্টার রেবেকা ভেসারটি, রাজনীতিবিদ মি. এলিষ্টার কো, ভারত ও রাশিয়াসহ দশজন দূতাবাস প্রধান, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সার্ক রাষ্ট্রসমূহরে বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের প্রতিনিধি, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীগণ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ। অংশগ্রহণকারীরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার, ভারতের হাইকমিশনার, এসিটি গভর্নমেন্টের পরিবেশ ও হেরিটেজ মিনিস্টার এবং অন্যরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

নেপাল (কাঠমান্ডু) বাংলাদেশ দূতাবাস: শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপন করে। দূতাবাস এ উপলক্ষ্যে সকালে প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠান এবং বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দূতাবাস প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচীর সূচনা করা হয়। সকল ভাষা শহীদসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার এবং ভাষার জন্য ও দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সকল শহিদদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি, মঙ্গল ও উন্নয়ন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় দুইটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়।

এসময় আলোচনা অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও নেপাল-বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্সের সভাপতি এল বি শ্রেষ্ঠা, নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিন দয়া রিজাল, নেপালে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রদূত সমাপনী বক্তব্যে ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানকে এবং সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন যে, জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের ফলে আজ বাংলাদেশের শিশুরা একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ লাভ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের “সোনার বাংলায়” রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

শ্রীলংকা (কলম্বো) বাংলাদেশ হাইকমিশন: কলম্বোস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত করে। এবারের উদযাপনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বন্ধুত্বের জন্য ভাষা’।

করোনা মহামারির প্রতিবন্ধকতার কারণে দিবসটি উদযাপনের মূল অংশ ছিল একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান। এতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী জনাব মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধান অতিথি হিসেবে একটি ভিডিও বার্তা দেন, যেখানে তিনি শ্রীলঙ্কার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহুভাষিকতার মূল্যবোধ প্রসারের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক জি এল পেইরিসেরও একটি ভিডিও বার্তাও প্রদর্শিত হয়। প্রফেসর পেইরিস শিক্ষাব্যবস্থায় বিভেদ অতিক্রমে ভাষার ভূমিকার উপর জোর দেন। প্যানেল বক্তাদের মধ্যে ছিলেন শ্রীলঙ্কার বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক জে বি ডিসানায়াকে, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, ভারতের হাই কমিশনার, ইতালির রাষ্ট্রদূত এবং মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার।

এছাড়া হাইকমিশনার জনাব তারেক মো. আরিফুল ইসলাম দূতাবাসে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন করে এক মিনিটের নীরবতা পালন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং ভাষা শহীদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন (যুক্তরাষ্ট্র):

জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা

এর আগে প্রভাতফেরির মাধ্যমে অডিটোরিয়ামটিতে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

কানাডা (অটোয়া) বাংলাদেশ হাইকমিশন:

কানাডার অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯ টায় বাংলাদেশ হাউজে জাতীয় পতাকা অর্ধনিমিত রাখা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

হাইকমিশনারে উপস্থিতে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। সবশেষে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ইত্তেফাক/এএএম/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x