যেভাবে করব দোয়া

যেভাবে করব দোয়া
[প্রতীকী ছবি]

বিপর্যস্ত হৃদয়ের আশ্রয়স্থল হলো দোয়া। একমাত্র দোয়ার মাধ্যমেই বান্দার স্বীয় প্রভুর সান্নিধ্য লাভ হয়। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে দোয়াকে স্বতন্ত্র ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দোয়া শব্দ দ্বারা বোঝা যায় মহান প্রভুকে ডাকা, আহ্বান করা এবং তার ইবাদত করা ও তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ইত্যাদি। (ইবনে মানসুর, লিসানুল আরব-১৪, ২৫৭)

দোয়া সম্পর্কে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি (রহ) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার পাক দরবারে চূড়ান্ত পর্যায়ের বিনয়, মুখাপেক্ষিতা, অক্ষমতা, নম্রতা ও বিনয় প্রকাশ করাকে দোয়া বলা হয়।’ (ইবনে হাজার আসকালানি, ফতগুল বারি-১১:৯৫) দোয়া দ্বারা আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করা যায়। দোয়া হলো মহান আল্লাহতায়ালার এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজরত নুমান ইবনে বশির (রা) বর্ণনা করেন, রাসুল (স) বলেছেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত’ (তিরমিজি, আবওয়াবু তাফসিরুল কোরআন) দোয়া শুধু ইবাদতই নয় বরং দোয়া হলো সকল ইবাদতের সার ও মজ্জা। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা) হতে বর্ণিত, রাসুল (স) বলেন, ‘দোয়া ইবাদতের সার’। (আবু দাউদ, আস মুনান, কিতাবুস সালাত)

দোয়ার অনেকগুলো নিয়ম রয়েছে। তার মধ্যে একটি নিয়ম হলো কিবলার দিকে মুখ করে দোয়া করা। প্রিয় নবি (স) যুদ্ধের সময় কিবলার দিক হয়ে দোয়া করতেন। হজরত ওমর ইবনে খত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল (স) কিবলার দিক মুখ করে দুই হাত উঠিয়ে উচ্চ আওয়াজ দিয়ে আপন প্রভুর কাছে এই দোয়া করতেন—‘হে আল্লাহ! আপনি আমার সঙ্গে যে অঙ্গিকার করেছেন, তা পূর্ণ করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমার সঙ্গে যে অঙ্গিকার করেছেন তা পূরণ করুন। হে আল্লাহ, মুসলমানদের এ দল যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পুনরায় ভূপৃষ্ঠে তোমার ইবাদত করা হবে না।’ (মুসলিম আস সহিহ কিবাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়াম)

দোয়া করার সময় অবশ্যই দুই হাত উত্তোলন করতে হবে এবং আল্লাহতায়ালার দরবারে নম্রতা ও মিনতি প্রকাশ করতে হবে। হজরত আবু মুসা আশারি (রা) বর্ণনা করেন, রাসুল (স) দোয়ার জন্য হাত উত্তোলন করেছেন এমনকি আমি রাসুল (স) এর বগল মোবারক দেখতে পেয়েছি’। (বুখারি, কিতাবুত দাওয়াত) দোয়া করার সময় যে শব্দ ব্যবহার করা হয় সে শব্দ যদি দুইবার অথবা তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়, তবে এর দ্বারা আহজারি প্রকাশ পায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, ‘নিশ্চয়ই রাসুল (স) তিনবার দোয়া এবং তিনবার ইসতিগফার করা পছন্দ করতেন’। (আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত)

দোয়া মহান আল্লাহ যে কোনো সময় কবুল করেন। তাছাড়া দোয়া কবুলের কিছু সময় রয়েছে। সেগুলো হলো রমজান মাসে, সেহরির সময়, আজান এবং একামতের মধ্যবর্তী সময়, আরাফার ময়দানে, জুমার দিনে এবং রাতে, দুই ঈদের দিনে এবং রাতে, শবে মিরাজ, শবে বরাত এবং শবে কদরের রাতে ও সিজদা অবস্থায়। এছাড়া আরো গুরুত্বপূর্ণ সময় রয়েছে যা দোয়া কবুলের জন্য উত্তম সময়। সুতরাং সর্ব সময় মহান প্রভুর নিকট দোয়া করতে হবে। মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করলে মহান আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমরা কাছে দোয়া কর আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব’। (সুরা আল গাফির-৬০)

লেখক : খতিব, প্রাবন্ধিক ও ধর্মবিষয়ক গবেষক

ইুত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x