অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান প্রেক্ষিত

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান প্রেক্ষিত
প্রতীকী ছবি

অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে প্রয়োজন কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি, শ্রম উত্পাদনশীলতার উন্নয়ন এবং উচ্চ প্রকৃত মজুরি নিশ্চিত করা। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে মোট ১২.৯০ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উক্ত লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ২০১৬-২০২০ পরিকল্পনা মেয়াদে ১০.৯০ মিলিয়ন অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান এবং ২.০ মিলিয়ন বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট ৯.৫ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান (৬.০ মিলিয়ন) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্জিত না হলেও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের (৩.৫ মিলিয়ন) ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়। এ সময়ে গ্রামীণ অকৃষি খাতের ব্যাপক বিকাশের ফলে কৃষি খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের হার হ্রাস পেলেও শিল্প, সেবা এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি খাতে ক্রমহ্রাসমান শ্রমশক্তির ফলে দেশের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে যে রূপান্তরের চিত্রটি আমরা দেখতে পাই, এতে প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশ শিল্পায়িত অর্থনীতি রূপান্তরের সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বই একটি সংকটকালীন সময় অতিক্রম করছে। গত প্রায় এক বছর ধরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সব দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী লকডাউনের প্রভাবে লাখ লাখ মানুষের কর্মচ্যুতি ঘটেছে। বিশেষ করে, ২০২০ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশেই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের অনেকেই অর্থনৈতিক স্থবিরতার শিকার হয়েছে। এমন একটি ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সরকারকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হয়েছে। গুরুত্বের দিক থেকে এ পরিকল্পনাটির অবস্থান অন্যান্য পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে অনেক বেশি। সরকারের রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে এটি প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির অভীষ্ট অর্জন, বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ বিনির্মাণে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরও পড়ুন: উপসাগরীয় সংকট নিরসন: কাতারকে শক্তিশালী করবে

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে (জুলাই ২০২০-জুন ২০২৫) দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি গড় ৮ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে উক্ত মেয়াদে প্রায় ১১.৩৩ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের অংশ ৮.০৮ মিলিয়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অংশ ৩.২৫ মিলিয়ন। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, যার প্রধান কারণ হলো কোভিড-১৯ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ক্রমাগত জোরদার হওয়ার কারণে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে উচ্চ কিংবা অগ্রসর প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় যুগে প্রবেশ। এ প্রেক্ষিতে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে প্রবৃদ্ধিতে কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা ০.৩০-এ নির্ধারণ করা হয়েছে মানে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে দশমিক ৩ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া। উল্লেখ্য, ২০০০-২০১৬/১৭ মেয়াদে কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা ছিল প্রায় ০.৪৪-এর কাছাকাছি, ২০১০-২০১৬/১৭ মেয়াদে তা হ্রাস পেয়ে ০.২৫-এ দাঁড়িয়েছিল। তবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে সরকার উপযুক্ত নীতি এবং কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বর্ধিত শ্রমশক্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে বিধায় এ স্থিতিস্থাপকতা ০.৩০-এ স্থির করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে দেশের ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিতে স্থিতিস্থাপকতা উন্নীতকরণে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

কোভিড-১৯-পরবর্তী সময়ে স্বল্পকালীন বেকারত্ব দূরীভূত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইতিমধ্যে ১১৯২.৪ বিলিয়ন টাকার (জিডিপির ৪.৩৫ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ) সমপরিমাণ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মাধ্যমে কৃষিজীবীদের প্রণোদনা, শিল্প খাতে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি প্রদান, দরিদ্র জনগণের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গৃহহীনদের জন্য বাড়ি নির্মাণ, রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানসহ এমএসএমই (MSME) খাতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ করোনা মহামারিকালেই সৃষ্ট সাময়িক বেকারত্ব হ্রাস করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতিশীলতা সঞ্চারে সফল হয়েছে। দুটি নতুন সমুদ্রবন্দর, পদ্মা সেতু নির্মাণ, বিদ্যুতে টেকসই স্বয়ম্ভরতা এবং ১৫টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জোয়ার সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা মানে কি দুমুঠো খেতে পাওয়া?

শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৬-১৭ অনুযায়ী দেশে সেবা খাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির প্রায় ৭২ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সেবা খাতে কাঠামোগত রূপান্তর আনয়নের লক্ষ্যে সেবা খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সেবা খাতের উন্নয়ন কৌশল হিসেবে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, সেবা খাতে অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মদক্ষতার মানোন্নয়ন, রেমিট্যান্সের উত্পাদনমুখী ব্যবহারসহ নানা বিষয়ে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিশদভাবে কর্মসূচি উল্লেখ করা হয়েছে।

সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। পরিবহন (১৫%), টেলিকম ও আইসিটি (১৪%), ব্যবসায়িক সেবা (১৩%) এবং পর্যটন (৫%)—এ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত থেকে মোট সেবা রপ্তানির মাত্র ৪৭ শতাংশ অর্জিত হয়, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। পরিবহন খাতে নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি, কৌশল এবং অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসৃজন এবং সেবা রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটন খাতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আইন এবং বাংলাদেশ পর্যটননীতি ২০১০ গ্রহণ করা হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পর্যটননীতির সফল বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আইসিটির ক্ষেত্রে যুগোপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিকাশের মাধ্যমে কর্মসৃজন তৈরির বিষয়টি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: উন্নয়নের বিস্ময় রূপপুরে

গ্রামাঞ্চলকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কেন্দ্রীয় দর্শন হিসেবে বিবেচনাপূর্বক বর্তমান সরকার গত নির্বাচনি ইশতেহারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ নীতি অনুযায়ী নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকীকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের লক্ষ্যে গ্রামাঞ্চলকেন্দ্রিক বাজেট বরাদ্দ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। এরই অংশ হিসেবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ দ্রুত সমাপ্তকরণ, গ্রামীণ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র উন্নয়ন, স্থানীয় পণ্যের বাজার তৈরি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও কৃষি ভ্যালু-চেইন প্রতিষ্ঠা এবং ই-কমার্স ব্যবস্থা প্রসারের লক্ষ্যে কৌশল ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে ১০ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান হবে মর্মে আশা করা হচ্ছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহ সরকার কর্তৃক সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদ সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছিল যার বাস্তবায়ন অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে অব্যাহত থাকবে এবং সমাপ্ত হবে। এর মধ্যে হচ্ছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র, ঢাকা ম্যাস র?্যাপিড ট্রানজিট এবং মাতারবাড়ী কয়লা ট্রান্সশিপমেন্ট টার্মিনাল প্রকল্প অন্যতম। এ প্রকল্পসমূহের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সুবিধার উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি ও বিপুল পরিমাণে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি অবশ্যই হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মোট বিনিয়োগের পরিমাণ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে দ্বিগুণের বেশি বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন: উন্নয়ন বিনিয়োগের নতুন প্রেক্ষাপট

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে। এবারের পরিকল্পনায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে ৩.২৫ মিলিয়ন। অভিবাসী কর্মীদের জন্য সরকার সম্প্রতি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স ও আচরণ) বিধিমালা ২০১৯, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইন ২০১৮, অভিবাসী ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৭ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট শ্রেণিবিভাগ) বিধিমালা ২০২০ প্রণয়ন করেছে। এছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ ও অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য ১০ দফা এজেন্ডা গ্রহণ করেছে, যার বিস্তারিত বর্ণনা আছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। ১০ এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বাজার সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন সুবিধার সুযোগ সৃষ্টি, অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সাধন, ডিজিটালাইজেশন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ হচ্ছে অন্যতম।

শিক্ষা খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসৃজনের লক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের ১৫-২৯ বছর বয়সি প্রায় ৩০ শতাংশ জনগণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে (NEET) অবস্থান করছে, যা কাম্য নয়। এ জনগোষ্ঠীকে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের (TVET) আওতায় এনে এদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করার কৌশল বাস্তবায়িত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জোয়ারে উন্নয়নের উপযোগী কর্মী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্প এবং গণিত শিক্ষার (STEAM) প্রসারের লক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নীতি কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগী করে তোলার বিষয়টিও পরিকল্পনা দলিলে জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলামে কারিগরি এবং ভোকেশনাল পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারেও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ২০২০ অর্থবছরে ১১,৩৬২ বিলিয়ন টাকা থেকে ২০২৫ অর্থবছরে ২১,০১৯ বিলিয়ন টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানের প্রায় দ্বিগুণ। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং তা বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া পুঁজিবাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব ও নিরীক্ষা পদ্ধতি হালনাগাদ করে বাজারে আস্থা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত কৌশল অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের টার্নওভার গত এক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার মুদ্রাবাজারের সুদহার হ্রাস, মানসম্পন্ন স্টকের তালিকাভুক্তিকরণ এবং সক্রিয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, উক্ত পরিকল্পনা মেয়াদে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।

লেখক: অর্থনীতিবিদ ও সদস্য (সিনিয়র সচিব), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x