স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, অগ্নিঝরা মার্চ

সার্বভৌম নেতা ও তার সার্বভৌম জনতা

সার্বভৌম নেতা ও তার সার্বভৌম জনতা
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। ছবি: সংগৃহীত

অগণিত মানুষের ত্যাগ আর আত্ম-দানের ফসল হচ্ছে আমাদের এই জাতিরাষ্ট্র বাংলা-দেশ, আমাদের স্বাধীনতা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মার্চ মাসের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগের ডাক, ৭ই মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের মানুষ কী করবে, কী করবে না— সে ব্যাপারে ‘সার্বভৌম মুজিবের বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌমত্বের ঘোষণা’ ও ‘স্বাধীনতার ডাক’ সবকিছু এখন একেকটি কালোত্তীর্ণ মাইলফলক এবং ইতিহাসের অমোঘ সত্য হিসেবে স্বীকৃত।

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে ‘সার্বভৌম মুজিবের বাংলাদেশের ওপর তার এবং বাংলার মানুষের সার্বভৌমত্ব’র ঘোষণাটি ছিল আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যমণ্ডিত। বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা শুধু মুখ্য নয়, বলা যায় একমাত্র প্রতিনিধি ও মুখপাত্র হিসেবে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ তার ভাষণে যখন ঘোষণা করলেন যে, আজ থেকে সব অফিস-আদালত, কোর্ট-কাচারি, হাইকোর্ট, (সুপ্রিম কোর্ট), জজ কোর্ট, সব মিল-কলকারখানা, স্কুল-কলেজ, রেল-লঞ্চসহ সব যানবাহন, ব্যাংক-বিমা (শুধু নির্দিষ্ট সময় খোলা থাকবে যাতে শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন নিয়ে আসতে পারেন) ইত্যাদি সবকিছু বন্ধ থাকবে; কার্যত সেই মুহূর্ত থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শাসন চালু হয়ে গিয়েছিল। ৩২ নম্বর হয়ে উঠেছিল তখন থেকে সব আদেশ-নির্দেশের কেন্দ্রবিন্দু।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, সেদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর এই আদেশ-নির্দেশ পালন করতে বা করাতে কাউকে কোনো অনুরোধ করার প্রয়োজন হয়নি; কোনো পিকেটিংয়ের দরকার পড়েনি। নেতা ঘোষণা দিয়েছেন, আর অমনি সাড়ে সাত কোটি মানুষ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে শুরু করে দিয়েছিল। ২৬শে মার্চ পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি হওয়ার আগ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার আগেই বঙ্গবন্ধু নিজেকে যেমন সার্বভৌম নেতার প্রতিরূপ হিসেবে দাঁড় করালেন তেমনি সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তা প্রতিপালন করার ক্ষেত্রে প্রতিটি বাঙালিকেও সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্রের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেললেন।

২৬শে মার্চ সেই স্বাধীনতার দিন থেকে এই ৫০ বছর ধরে বহু উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। অনেক শ্রীবৃদ্ধি ঘটছে। দেশের সার্বভৌমত্বকে আরো শানিত করছে। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বেরিয়ে অর্থনৈতিক তথা সমৃদ্ধির সোনালি দিন ছুঁইছুঁই করবে আজকের বাংলাদেশ। অগ্নিঝরা দিনে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x