বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি পররাষ্ট্র সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে কী? বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়টি বন্ধুত্ব ও সংযুক্ততার ঐতিহাসিক বন্ধনের দিকে সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করছে। দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও শ্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের বর্তমান মেয়াদকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক একের পর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

বাংলাদেশ-ভারতের এই সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে সামজিক-সাংস্কৃতিক-সভ্যতার ঐতিহ্যগত অংশীদারিত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অকৃত্রিম সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে ফেনী নদীর ওপর স্থাপিত বহুল প্রতিক্ষিত মৈত্রী সেতু গত ৯ মার্চ ২০২১ তারিখে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে উদ্বোধনের ঘটনা দুই প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যকার আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্কের সাম্প্রতিক উদাহরণ। বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফেনী নদীর ওপর ‘মৈত্রী সেতু’ তৈরি করা হয়েছে। ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু বাংলাদেশের রামগড় ও ভারতের সাবরোমকে যুক্ত করেছে। গত ৯ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত ‘মৈত্রী সেতু’ উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে আসার এক পক্ষেরও কিছু বেশি দিন আগে এই ‘মৈত্রী সেতু’ উদ্বোধন করা হলো। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ফেনী নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের নিকটতম ভারতীয় নগরী হবে আগরতলা। এর আগে আগরতলার নিকটতম সমুদ্রবন্দর ছিল কোলকাতা।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগরতলা থেকে কোলকাতার দূরত্ব ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতুর কারণে চট্টগ্রাম থেকে আগরতলার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম হয়েছে।’

ফেনী নদীর ওপরের মৈত্রী সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ আসাম, মিজোরাম ও মনিপুরের মাধ্যমে এর সংযুক্ততা উন্নত হবে এবং বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সেতু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি জীবনরেখা হয়ে উঠবে। আপনারা জানেন, ভারতে এবং ভারত থেকে পণ্য চলাচলের জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতকে সংযুক্ততা প্রদানের মাধ্যমে আমরা দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন যুগ সৃষ্টি করছি। আমরা এমন এক অঞ্চলে আছি, যা উন্মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে খুবই রক্ষণশীল এবং যেখানে আন্ত-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্ভাবনার চেয়ে অনেক নিচে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক সীমানা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শারীরিক বাধা হওয়া উচিত নয়। আমরা আশা করি, যে কাঠামো আজ আমরা উদ্বোধন করলাম তা বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু ভারতেরই নয়, নেপাল ও ভুটানের বাণিজ্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।’

২০১৯ সালের আগস্টে দুই দেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ যৌথ নদী কমিশনের সভায় মিলিত হয়েছিলেন। এই সভায় মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা, দুধকুমার ও ফেনী—এই সাত নদীর জল বণ্টনের ব্যাপারে তারা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ২০১৯ সালের ৩ ও ৪ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর শেষে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বিবৃতিতে যৌথ নদী কমিশনের প্রশংসা করা হয়। এতে বলা হয়, ‘উভয় নেতা (মোদি ও হাসিনা) পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের ঢাকায় অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত ত্রিপুরার সাবরোম শহরের জনগণের পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্যে ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক জল উত্তোলনের কাজ দ্রুত শুরু করার ব্যাপারে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন।’ ত্রিপুরার দক্ষিণে অবস্থিত সাবরোম শহরের উপকারের জন্য এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ‘সাবরোম’ শহরে বর্তমানে জল সরবরাহের অবস্থা অপর্যাপ্ত। এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলে প্রচুর আয়রন। তাই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা সাবরোম শহরের ৭ হাজার মানুষের উপকারে আসবে। তবে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সম্পর্কিত সমঝোতা না হওয়ার বিষয়টিতে বাংলাদেশের মানুষ উদ্বেগের সঙ্গে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সাধারণত রাষ্ট্রসমূহের বৈদেশিক নীতি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক উপাদান। এ ধরনের দাবি, যুক্তি ও প্রমাণের একটি প্রচলিত অপরিশোধিত পরিমাপ হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক সংগঠন’ সম্পর্কে প্রকাশিত প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ, যা কম-বেশি স্পষ্টভাবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা অভ্যন্তরীণ-রাজনৈতিক উপাদানসমূহকে বৈদেশিক নীতি পছন্দের ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ‘অ্যানুয়াল রিভিউ অব পলিটিক্যাল সায়েন্স’ জার্নালের ১৯৯৮ সালের জুন সংখ্যায় প্রকাশিত ‘ডমেস্টিক পলিটিকস, ফরেন পলিসি অ্যান্ড থিওরিজ অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক জেমস ডি. ফিয়ারসন এ ধরনের যুক্তি প্রদর্শন করেন।

ফিয়ারসন ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৮ সালে এ ধরনের ১৯৩টি গবেষণা প্রবন্ধের এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি সারসংক্ষেপ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করার পর বৈদেশিক নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ-রাজনৈতিক উপাদানসমূহকে স্বাধীন বা হস্তক্ষেপকারী চলক হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মবদ্ধ করতে সক্ষম হন। তাত্পর্যপূর্ণসংখ্যক প্রবন্ধ বৈদেশিক নীতি ব্যাখ্যা সম্পর্কিত না হলেও, যেসংখ্যক প্রবন্ধে অভ্যন্তরীণ-রাজনৈতিক উপাদানকে বৈদেশিক সম্পর্কের নির্ধারক হিসেবে প্রমাণ করেছে ,তা খুবই উল্লেখযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক কালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলোতে এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ফিয়ারসন তার এই যুক্তির সপক্ষে বেশ কয়েকটি বইয়ের শিরোনাম উল্লেখ করেছেন। ২০১৩ সালের ৪ মার্চ টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উদাহরণ তুলে ধরা সংগত মনে করছি।

পাঠকদের অনেকেরই মনে থাকবে হয়তো, সে সময় ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রয়াত শ্রী প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফর করছিলেন। সফররত মহামান্য ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনেক আগে থেকেই তত্কালীন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সাক্ষাতের ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশের তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা সাক্ষাত্সূচি বাতিল করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছিল, Domestic politics overshadowed the first Indian presidential visit to Bangladesh since the 1970s as leader of opposition and Bangladesh National Party (BNP) chief Khaleda Zia cancelled her meeting with President Pranab Mukherjee scheduled for Monday citing security concerns. সেসময় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব রঞ্জন মাথাই বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের সময় বেশ আগেই আমরা নির্ধারণ করেছিলাম এবং এটি আমাদের কর্মসূচিতে বেশ কিছুকাল যাবত্ অন্তর্ভুক্ত ছিল।’

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। ১৯৭১-এর সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের হাত থেকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রায় ১ কোটি বাঙালি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিল। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭১ সালের ১ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটিতে দাখিলকৃত এক প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন :‘মাঠ পর্যায় থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে পাঠানো প্রতিবেদন, অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের বিবরণ, বিশ্বব্যাংক এবং এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিবেদনসমূহ এবং সাব কমিটি থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত তথ্য পূর্ব বাংলায় (পূর্ব পাকিস্তানে) সন্ত্রাসের রাজত্বের গ্রাস হওয়ার দালিলিক প্রমাণ দেয়। সবচেয়ে কঠিন আঘাতের শিকার হয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা, যাদের জমি ও দোকানপাট অপহূত হয়েছিল, সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল এবং কিছু স্থানে হলুদ রং দিয়ে ইংরেজি ‘এইচ’ [ইংরেজি হিন্দু/Hindu-এর আদ্যক্ষর] অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই সবগুলোই ইসলামাবাদের সামরিক আইনের অধীনে অফিশিয়ালি অনুমোদনপ্রাপ্ত, নির্দেশিত ও বাস্তবায়িত হয়েছিল।’

গ্যারি বাসের বই দ্য ব্লাড টেলিগ্রামে (ভিনটেজ, ২০১৪) ১৯৭১ সালে ঢাকায় কর্মরত আমেরিকার কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড (সেই সময়ের পূর্ব) পাকিস্তানি ‘হিন্দুদের ওপর গণহত্যার নিন্দা করা আন্তর্জাতিক নৈতিক বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ৫০ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিচিত্র পথ অতিক্রম করেছে। সম্পর্কের এই বৈচিত্র্য প্রধানত বন্ধুত্বের আবরণে আচ্ছাদিত থাকলেও তা কখনো কখনো শত্রুতার পর্যায়ে পৌঁছাতেও দেখা গেছে। বস্তুত, উভয় দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতায় কোন রাজনৈতিক দল অধিষ্ঠিত থাকে, তার ওপরই নির্ভর করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কটি বন্ধুত্বপূর্ণ হবে, নাকি শত্রুতামূলক হবে। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের মধ্যে আরো একটি উপাদান স্বাভাবিকভাবেই এসে যায়, তা হচ্ছে পাকিস্তান ও পাকিস্তানের চেতনা। যখন বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়, তখন পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এর নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি পাকিস্তানের জামায়াত-ই-ইসলাম এর প্রতিবাদ জানায়।

২০১৫ সালে ঢাকার ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনের কনস্যুলার সেকশনের অ্যাটাশে মোহাম্মদ মাজহার খানকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সার্ভিস ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মাজহার খান ঢাকায় ব্যাপক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারতীয় জাল মুদ্রা উত্পাদন ও বিতরণ করছিল। গোয়েন্দা রিপোর্টের সূত্র উল্লেখ করে ডেইলি স্টারের এই সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয় যে, মাজহার খান তার কিছু সহকর্মীর সহযোগিতায় জাল মুদ্রার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ হিজবুত তাহরির, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম ও জামায়াত-ই-ইসলামির কাছে বণ্টন করছিল। উল্লেখ্য, জামায়াত যখন সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিল, তখন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বেশ কয়েক জন জামায়াত নেতাকে বিএনপির ধানের শীষ মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছিল। এভাবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ভারতবিরোধিতা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না থাকলেও বিএনপি-জামায়াতপন্থি গোষ্ঠী দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরের মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিবর্তে পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক চেতনার বিস্তার ঘটানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অফিশিয়াল ভার্সন এবং জনমনের ধারণার মধ্যে সব সময়েই একটা পার্থক্য থাকে।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসছেন। স্বাভাবিক কারণেই ওপরে উল্লিখিত জঙ্গিগোষ্ঠীর সমর্থক বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল এই সফরকে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

লেখক: ‘ইনস্টিটিউশনালাইজেশন অব ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশ’ গ্রন্থের লেখক; ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; সদস্যসচিব, বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x