সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি

সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি
ছবি: প্রতীকী।

সোশ্যাল মিডিয়ার যাত্রা অনেক আগে থেকে শুরু হলেও ২০১০ সাল থেকে মূলত দুনিয়া জুড়ে এর বিপ্লব ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ার মূল ফিচারই হলো সহজতর যোগাযোগব্যবস্থা।

১৯৭১ সালে রে টমিলিন্সন নামের একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার প্রথম ইমেইল পাঠিয়েছিলেন। যদিও সেটি পরীক্ষামূলক ছিল। অনেকেই মনে করেন সেই প্রথম ইমেইল পাঠানোর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় সোশ্যাল মিডিয়ার উদ্ভাবন। এরিচ থমাস নামের আরেক প্রোগ্রামার ১৯৮৬ সালে লিসেনার নামের একটি স্যাফটওয়ার ডেভেলপ করেন। যার মাধ্যমে একটি মেইল পাঠালেই নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর কাছে মেসেজ চলে যাবে। ২০০৪ সালে তৈরি হয় ফেসবুক যা বর্তমানে পৃথিবীর সব থেকে জনপ্রিয় এবং সর্ববৃহত্ নেটওয়ার্কিং সিস্টেম।

সোশ্যাল মিডিয়াকে আসলে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। বাংলায় একে বলা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যে ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারী বিভিন্ন কনটেন্ট শেয়ার করতে পারে তাত্ক্ষণিকভাবে, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা অনুভূতি শেয়ার করতে পারে তাকেই সোশ্যাল মিডিয়া বলে; কিন্তু বর্তমানে এই সোশ্যাল মিডিয়া সোশ্যাল ডিজিজে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে রাত—এমন কোনো সময় নেই যে আমরা মিডিয়ার বাইরে। মূলত ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি মানুষ এটির প্রতি বেশি আসক্ত।

বিশেষত আমরা যারা ছাত্রছাত্রী যে সময়টা আমরা বই পড়ে, বাইরে ঘুরে, পরিবারের সঙ্গে গল্প করে কাটাতে পারি সেই সময়টা আমরা কাটাচ্ছি ভার্চুয়াল জগতে। যা টোটালি আমাদের ইমোশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। যেমন ধরুন—আপনি একটি ছবি আপলোড করেছেন—তাতে শত শত লাভ, লাইক রিঅ্যাক্টসহ অনেক কমেন্টস পাস হলো, তখন আপনা আপনি আপনার মন ভালো হয়ে গেল; কিন্তু যদি হয় তা হিতের বিপরীত, তাহলে হয়তো কিছুক্ষণ পর মনটা বিষণ্ন করে ছবিটি ডিলিট করে দিবেন। ধরুন আপনি ফেসবুকে একটি কনটেন্ট সার্চ করেছেন; কিন্তু আপনি এই কনটেন্টের সঙ্গে রিলেটেড আরো অনেক কনটেন্ট পাচ্ছেন যা আপনার সময়কে নষ্ট করছে। আর যদি বলি ভার্চুয়াল বুলিংয়ের কথা একটি ছবি পোস্ট দেওয়ার পর অনেকের ইনবক্সে অনেক ধরনের কথা শুনতে হয়, যেমন ধরুন মোটা লাগছে, কালো হয়ে গেলেন কীভাবে, আপনাকে দেখতে মোটেও ভালো লাগছে না। আর সঙ্গে সাইবার ক্রাইম তো আছেই, যা অনেক নারীর আত্মহত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিছুটা মাদকাসক্তের মতো আমরা ওতপ্রোতভাবে এটির সঙ্গে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ আমি নিজের কথাই বলি, ভেবেছিলাম আমি মাত্র সাত দিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকব; কিন্তু চার দিন পর আমি হাঁপিয়ে উঠি। মনে হচ্ছিল এই পৃথিবীতে আমি একা বেঁচে আছি।

আপনি জানেন কি এই সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে তরুণদের ডিপ্রেশনের কারণ? আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে মূলত তারাই বেশি থাকে যাদের সঙ্গে আপনি স্কুল, কলেজ এবং ভার্সিটিতে পড়েছেন। এখন নিউজ ফিড স্ক্রল করলেই কারো চাকরি হয়ে যাওয়া, কারো সফলতার কাহিনি, আবার কারো নতুন জীবনসঙ্গী পাওয়ার গল্প। তখন আপনি যেটা আপনার বন্ধুর মতো করতে পারছেন না, তখনি আপনি বিষণ্নগ্রস্ত হচ্ছেন। ভাবছেন আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না, আমি ব্যর্থ; কিন্তু আজ একটি কথা বলি, মানুষ তার সফলতার গল্পই পাবলিক করে, খুব কম মানুষ আছেন যারা তাদের ব্যর্থতার গল্প পাবলিক করে থাকেন। অনুসন্ধান করে দেখবেন যে ব্যক্তিটি আজ সফল, শতবার হোঁচট খেয়েও আজ সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে। তাই হতাশ হবেন না।

সোশ্যাল মিডিয়ার যে ভালো দিক নেই তা নয়; কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ব্যবহার করা মোটেও সমীচীন নয়। আমরা এটির ব্যবহার কমানোর জন্য ফ্যামিলি মেম্বারদের সঙ্গে একত্রে গল্প করতে পারি ইউথআউট ডিভাইস, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মোবাইল, ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারি, বই পড়ার অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারি। সর্বোপরি আমরা যদি সোশ্যাল মিডিয়ার এই ব্যবহার আয়ত্ত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলেই সোশ্যাল ডিজিজ নামক এই মহামারি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব।

ইত্তেফাক/এএইচপি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x