লকডাউন

লকডাউন
ছবি: ইত্তেফাক।

লকডাউনে আপনি কেমন আছেন? এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর আশঙ্কাজনক ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এক সপ্তাহের জন্য ঘোষিত এবারের লকডাউন সর্বোচ্চ কঠোরতার দাবি রাখলেও বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবারও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গ্রামের দিকে ছুটেছেন। লকডাউন চলাকালে শহর ও প্রান্তিক পর্যায়ে হালকা ও ব্যক্তিগত যানবাহন অনেকটা বাধাহীনভাবেই চলাচল করছে।

মাস্কের ব্যবহার বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপেক্ষিত সামাজিক দূরত্ব। আবার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা খোলা রাখা এবং নিত্যপণ্যের বাজারের চরম অস্থিরতায় অন্য সব কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবে চালু না থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তাই পুনরায় আর্থিক ও মানবিক বিপর্যয় এড়াতে ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী, অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী শুরু থেকেই লকডাউনের বিপক্ষে। তারা লকডাউনের পরিবর্তে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের শর্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পক্ষে।

আবু ফারুক

বনরুপা পাড়া , সদর, বান্দরবান।

প্রায় ১৭ কোটি মানুষের জনঘনত্বের দেশে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মানুষের আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিত, যাপিত জীবনের অনিবার্য চাহিদা ও জীবিকার যোগান প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় সমগ্র দেশ লকডাউনের আওতায় থাকাকালীন মোটা দাগে দেশের আপামর জনতার ভালো থাকার কথা নয়। এক্ষেত্রে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার অবস্থা অন্যদের চেয়ে মোটেও ব্যতিক্রম কিছু নয়। বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ জড়িত। বর্ণিত পরিসংখ্যানের অন্তর্গত সিংহভাগ মানুষ দিন আনে দিন খায় ঘরানার। লকডাউন থাকা অবস্থায় এসব মানুষের জীবন ও জীবিকা সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং অর্থনৈতিক অভিঘাত একটি বৃহত্ প্রেক্ষিত হিসেবে আবির্ভূত হয়। কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ প্রশমনে দেশে লকডাউন অনিবার্য বিবেচিত হওয়ার পূর্বেই রাষ্ট্রযন্ত্রের যথাযথ প্রস্তুতি থাকা উচিত বলে মনে করি।

ওয়ারেছ আলী খান

সদর, নরসিংদী

করোনা এখন আগ্রাসি হয়ে দ্রুত গতিতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। মৃত্যুর হারও আগের চেয়ে অনেক বেশি। সরকার এরই মধ্যে দেশজুড়ে লকডাউন দিয়েছে। করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের সময়সীমা বাড়তেও পারে। লকডাউনের ফলে সাধারণ মানুষ একপ্রকার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ এখন প্রায় কর্মহীন। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার ও স্বল্পপুঁজির ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। করোনা সংক্রমণের ভিত্তি এবং লকডাউনের ফলে সার্বিকভাবে মানুষের আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রণোদনাসহ আর্থিক সাহায্য দেওয়া প্রয়োজন। আর আমাদেরও করোনা প্রতিরোধে কষ্ট শিকার করে হলেও লকডাউন পালনে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুর, গাজীপুর।

হাজারো মধ্যবিত্ত পরিবার আছে লকডাউন নামক বিধিনিষেধ থেকে মুক্তির অপেক্ষায়। কারণ সবকিছু খোলা রেখে মার্কেট আর গণপরিবহন বন্ধ রেখে কোনো কার্যকর লকডাউন হতে পারে না। করোনার প্রথমদিকে একে অপরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করলেও এখন সবাই কমবেশি আর্থিক সংকটপূর্ণ। তার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। লকডাউন ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের জন্য প্রশাসনকে কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

মো. সাইমুন

দোহাজারী, চট্টগ্রাম।

আমরা অনেকেই লকডাউনে স্বাস্থবিধি মানি না। আমাদের মধ্যে না মানার সংস্কৃতিটা অনেক বেশি। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন কি না সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। গত বছর স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে।

অ্যাড. এস কে মো. রমিজ উদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা

সংক্রমণের উচ্চহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার লকডাউনের ঘোষণা দিলেও অধিকাংশ মানুষ নির্দেশনা মানছে না। উপজেলা শহর ও গ্রামগুলোতে মানুষজন অসচেতনতভাবে চলাফেরা করছে। তাছাড়া প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এবার অনেকটা নমনীয়। এই সময়ে নিজের ও অন্যদের স্বাস্থ্য ও জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।

মোহাম্মদ ফয়সাল

পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।

সরকার সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষজন পেটের তাগিদে ঘরবন্দি থাকতে অপারগ। স্বাস্থ্যবিধির শর্ত কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে সব কাজকর্ম চালু করা উচিত।

আবুল কাশেম

বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।

লকডাউনের মতো ব্যবস্থা বাংলাদেশে কার্যকর হয় না, এটাই বাস্তবতা। এমন অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, টিকা প্রদান—এসব বিষয়কেই মূল কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে নিতে হবে। টিকা প্রদান কার্যক্রমকে ভাইরাসের গতির আগে নিয়ে যেতে হবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

লকডাউনে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ স্বস্তিতে নেই। তারপরও লকডাউনে সরকার ঘোষিত নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থবিধি মেনেই করোনা মোকাবেলা সম্ভব হবে।

সাইফুল ইসলাম তানভীর

গুলশান, ঢাকা

লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কেউ সচেতন নয়, এটাই সত্যি। সরকারি প্রচার/প্রচারণা থাকা সত্ত্বেও জনগণ কেন সচেতন হচ্ছে না, এ বিষয়ে সরকারের বিশেষভাবে ভেবে দেখা উচিত। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি নিজে মেনে চলা এবং অন্যকে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতন করাই প্রকৃত দেশপ্রেমিকের লক্ষণ ।

মাখরাজ খান

সাটুুরিয়া, মানিকগঞ্জ

করোনা বিস্তার ঠেকাতে এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ চলছে সারা দেশে। তার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার দাবিতে সারা দেশের বিক্ষোভ করেছেন ব্যবসায়ীরা। আমরা মনে করি লকডাউন সঠিকভাবে মানতে হবে। তা না হলে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

লকডাউনে কর্মজীবীদের ভোগান্তি সীমাহীন বেড়েছে। পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। নিম্ন মধ্যবিত্তের টানাপোড়েনের মধ্যে দিন যাপন চলছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবুও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

লকডাউনে ভোগান্তিতে রয়েছে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। লকডাউনের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন গণপরিবহন না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবুও লকডাউনকে মানতে হবে।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চর ভৈরবী

দেশে লকডাউন চলছে। করোনা মহামারিতে সামাজিক, আর্থিক ও পারিবারিকভাবে অশান্তিতে মানুষ বসবাস করছে। বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।

প্রহরী মনিরুজ্জামান

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

লকডাউনে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া, দিনমজুর মানুষরা ভালো নেই। অতিরিক্ত খরচ আর শ্রম দিতে না পারায় তাদের কঠিন সময় কাঠছে।

মো. মামুন

বংশাল, ঢাকা

লকডাউনে সাধারণ মানুষ উপার্জন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। দেশের মানুষ যাতে প্রণোদনা সঠিকভাবে পায় তার ব্যবস্থা করা দরকার। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবার কর্তব্য।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধের চেষ্টায় সাত দিনের লকডাউনের মধ্যে গণপরিবহন চালু করা হলেও যথারীতি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে কর্মজীবী মানুষদের। আমাদের মূল কথা হচ্ছে, লকডাউনের বিষয়টি পুরোটাই লকডাউন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কাজ হওয়া দরকার।

বজলুল

পিলখানা, ঢাকা

সরকার লকডাউন পালনের যে নির্দেশনা দিয়েছে তা জনগণ মানতে পারছে না। কারণ এক সপ্তাহের পূর্বে ঘোষণা দিলে জনসাধারণের পক্ষে তাদের কাজকর্ম গুছিয়ে নেওয়া সহজ হতো। গত বছর লকডাউনে অসহায় মানুষের জন্য সরকারের প্রেরিত খাদ্য ও অনুদান কীভাবে কতিপয় অসত্ রাজনৈতিক ব্যক্তি লুটেপুটে খেয়েছে তা জনগণ স্বচক্ষে এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে ও জানতে পেরেছে। তাই এ বছর সরকারি সাহায্যের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে লকডাউন মানতে অসহায় মানুষ অস্বীকার করছে।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সরদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

করোনার নতুন ধরনের সংক্রমণের আক্রমণাত্মক গতি ক্রমশ বাড়ছে। নাজুক পরিস্থিতির লাগাম টানতে ঘোষিত লকডাউনের যৌক্তিকতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই কেবল গণপরিবহন বন্ধ হলেও এবারের লকডাউনে মানুষের বিক্ষিপ্ত চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও এব্যাপারে বেশ নমনীয় মনোভাবের পরিচয় দিচ্ছে; কিন্তু সবাই কঠোরভাবে সচেতন না হলে শনাক্ত ও মৃত্যুর হারের ঊর্ধ্বগতি ঠ্যাকানো অসাধ্য হয়ে পড়বে।

এ এফ এম সালাহউদ্দীন

বান্দরবান সদর

লকডাউনে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে খোলা জায়গায় অনেকে মিলে আড্ডা দিচ্ছেন, সেই সঙ্গে জট বেঁধে একসঙ্গে অনেক মানুষের খাওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। টিসিবির ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়ায় কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। লকডাউন গরিবদের কষ্ট ছাড়া আর কিছু নয়।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

মেরাদিয়া, ঢাকা।

লকডাউনে সাধারণ আমজনতা ভালো নেই কারণ মেগাসিটিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুব খারাপ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, আনুষঙ্গিক খরচ, পারিবারিক ব্যয় সবকিছুই নির্ভর করে ব্যবসার ওপর, ব্যবসা না থাকলে এসব ব্যয় কোথা থেকে আসবে ! অনেকে এরই মধ্যে বিকল্প চিন্তা করছে খরচ কমানোর জন্য, বাসা ছেড়ে দিয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রপআউট করেছে, ক্ষুদ্র, মাধ্যম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলছে, দোকান, বাসাবাড়িতে টু-লেট বাড়ছে, লোনের কিস্তি বাকি পড়ছে। রাইডশেয়ারিং করে যারা সংসার চালায় এমন অনেকেই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সিএনজিচালক দৈনিক জমার টাকা দিতে পারছেন না মালিকদের। ফুটপাতের হকার পণ্য কিনে বিক্রয় করতে না পেরে টিকে থাকার জন্য লোকসানে পণ্য বিক্রয় করছে। যে যতক্ষণ বেঁচে আছে বোনাস হিসেবে যতদিন চলে এই হলো লকডাউনে থাকা।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর, ঢাকা।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x