হাসান শাহরিয়ার ছিলেন নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ

হাসান শাহরিয়ার ছিলেন নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ
হাসান শাহরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

চলে গেলেন দেশের কিংবদন্তিতুল্য সাংবাদিক বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলাদেশের কৃতিসন্তান হাসান শাহরিয়ার। গত ১০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার ইমপালস হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।

বাংলাদেশের সৎ, নিষ্ঠাবান, দৃঢ়চেতা ও পাহাড়সম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষটি ৭৭ বছর বয়সে করোনার কাছে পরাজিত হয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার।

মৃত্যুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমের অনলাইন ভার্সন ও টিভি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে খবরটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যু সংবাদটি গুরুত্বসহকারে প্রচার হয়। অনেকের ফেসবুকের টাইমলাইনে সৎ ও স্বচ্ছ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হাসান শাহরিয়ারের জীবন-কর্ম ও তাঁর সাথে কাজের অভিজ্ঞতা, সম্পৃক্ততা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ এমপিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হাসান শাহরিয়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

হাসান শাহরিয়ারকে কেবল জাতীয় পর্যায়ের একজন সাংবাদিক ও কলামিস্ট বললে তাঁর কর্ম ও অবদানকে খাটো করা হবে। তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিকতা যুক্ত করেছেন। হাসান শাহরিয়ারের মাধ্যমে বিশ্বের প্রথিতযশা সংবাদপত্রের পাঠকগণ বাংলাদেশ সম্পর্কে জেনেছেন; বাংলাদেশের সমস্যা-সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় সংকটে দেশ ও বিদেশের সংবাদপত্রে তিনি শুধু লেখালেখি করেননি; বিষয়ভিত্তিক মন্তব্য করেছেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও তাঁর পরিবেশিত সংবাদ ও লিখিত কলামসমূহে সেটাই ফুটে উঠতো। আওয়ামী লীগের আদর্শ ও চিন্তাচেতনার সাথে একাত্ম হলেও সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষ ও নৈবক্তিক থেকেছেন। অহেতুক বা নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে তোষামোদ করেননি; আবার কারো অবদানকে খাটোও করেননি। কাউকে অহেতুক সমালোচনা করেননি। আজকের যুগে হাতে গোনা যে কয়েকজন ব্যক্তি সাদাকে সাদা বা কালোকে কালো বলতে সক্ষম হাসান শাহরিয়ার ছিলেন তাদের একজন।

দেশের সংকট ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অনেক সংবাদ পরিবেশন করেছেন; কলাম লিখেছেন। কিন্তু দেশকে, দেশের ব্যবস্থাকে কোনো সময় খাটো করেননি। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের দায়িত্বশীল সাংবাদিক। তাঁর লেখনির মাধ্যমে দেশের অনেক জাতীয় সংকটের সমাধান হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন সংকট তৈরি করেননি; পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেননি। তাঁর সাংবাদিক জীবনে ৬ দফা থেকে শুরু করে ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০’র নির্বাচন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি সংকট ও ক্রান্তিকাল নিয়ে রিপোর্ট করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে মাঝে মধ্যে টিভি টকশোতে আসতেন।

সেখানে তিনি যৌক্তিক ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে কথা বলেছেন। কখনও বিব্রত বিষয় আসলে সরাসরি এড়িয়ে যেতেন। সংবাদ পরিবেশনে ভুক্তভোগী বা ভিকটিমের বক্তব্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতেন। ইত্তেফাকে দীর্ঘসময় কর্মরত থাকাকালীন ওই পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদে কোনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী যাতে অবমাননার শিকার না হন সে ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। সাংবাদিকতায় যে নীতি-নৈতিকতা বলে একটি ব্যাপার আছে আমরা হাসান শাহরিয়ারের সাংবাদিক জীবনে তা পুরোপুরি দেখেছি।

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজনসহ আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী-এমপির সাথে সুসম্পর্ক থাকলেও হাসান শাহরিয়ার তা বিকিয়ে কোনো ফায়দা নিয়েছেন বলে জানা নেই। রাষ্ট্রীয় ও সরকারি পদ-পদবি তথা লাভজনক পদ-পদবি থেকে দূরে থেকেছেন দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও আগাগোড়া পেশাদারী সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ার।

হাসান শাহরিয়ারের জন্ম ১৯৪৪ সালে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় তথা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিন্নাকুলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক পরিবারে। আজ ২০২১ সালেও ওই এলাকা প্রত্যন্ত। প্রত্যন্ত হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে; প্রত্যন্ত হলো সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে। প্রত্যন্ত হলেও তাঁর পরিবার ছিল সম্ভ্রান্ত। মূলত সাংবাদিকতা হচ্ছে হাসান শাহরিয়ারের রক্তে প্রবাহিত। তাঁর পিতা মকবুল হোসেন চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত আসাম-বাংলার বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, খেলাফত আন্দোলনের নেতা, পাকিস্তান আন্দোলন ও সিলেট রেফারেন্ডামের নেতা এবং ভাষাসংগ্রামী।

ঐতিহ্যবাহী সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মকবুল হোসেন চৌধুরী ১৯৩৭ সালে আসাম ব্যবস্থাপক সভার সদস্য (এমএলএ) নির্বাচিত হন। তিনি পূর্ব বাংলা ও আসামের অন্যতম প্রাচীন পত্রিকা ‘যুগভেরী’র (১৯৩২) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তিনি সিলেটের ‘যুগবাণী’ (১৯২৫) ও কলকাতার দৈনিক ‘ছোলতান’ (১৯৩০) পত্রিকারও সম্পাদক ছিলেন। হাসান শাহরিয়ারের বড় ভাই হোসেন তওফিক চৌধুরীও ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার প্রতিনিধি ও কলামিস্ট। পরে তিনি আইন পেশায় জড়িত হন। জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও হাসান শাহরিয়ার নামের সাথে কখনও চৌধুরী ব্যবহার করেননি। সুদর্শন, সদাহাস্যোজ্জল ও পোষাকেআশাকে পরিপাটি হাসান শাহরিয়ারের মায়াবী মুখ দেখলে অনেকেই বিমুগ্ধ হয়ে যেতেন।

যেকোনো ব্যক্তির পেছনে সমালোচনা করা বা কুৎসা রটনা যেখানে আমাদের সমাজের বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে হাসান শাহরিয়ারকে নিয়ে কাউকে সমালোচনা করতে দেখেনি। তিনি নিজেও কারো পেছনে বা অনুপস্থিতিতে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতেন না। দেখতে যেমন সুদর্শন ব্যক্তিজীবনেও পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করতেন। এমন একজন সুদর্শন, স্মার্ট, পরিপাটি, সামাজিক ও বন্ধুসৎবল ব্যক্তি চিরকুমার থাকার রহস্যটি অজানাই থেকে গেলো। যদিও এটি তাঁর একান্ত ও সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত বিষয়।

হাসান শাহরিয়ার লেখাপড়াকালীন সময়েই ইত্তেফাকের সুনামগঞ্জ মহকুমা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৬৭ সালের দিকে উচ্চশিক্ষার্থে পশ্চিম পাকিস্তান বা বর্তমান পাকিস্তানের করাচিতে যান। সেখানে তিনি পাকিস্তানের জনপ্রিয় দৈনিক ডনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি ছিলেন ইত্তেফাকের পশ্চিম পাকিস্তান প্রতিনিধি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ইত্তেফাকের পাকিস্তান প্রতিনিধি ছিলেন। দেশে ফিরে ১৯৭৪ সালের ১ জানুয়ারি ইত্তেফাকে যোগ দেন। ইত্তেফাকের কূটনৈতিক রিপোর্টার, চিফ রিপোর্টারের দায়িত্ব পালন করে নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন ২০০৮ সাল পর্যন্ত। ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে জিয়াউল হক, বেনজির ভুট্টো, মাদার তেরেসাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে।

হাসান শাহরিয়ার দৈনিক ইত্তেফাকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউজ উইক, আরব নিউজ, ডেকান হ্যারাল্ড, ডেইলি সান, খালিজ টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এশিয়ান এজ, পাকিস্তান’স মর্নিং নিউজ, ডন, ইভেনিং স্টার পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছিলেন। নিউজ উইকে বাংলাদেশের রাজনীতি বিশেষত সামরিক শাসন বিরোধী বিশ্লেষণধর্মী লেখাসমূহ বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে সাড়া জাগায়। ইংরেজি, উর্দু ও হিন্দি ভাষায় দক্ষ ছিলেন হাসান শাহরিয়ার।

পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ও মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ কাভারেজ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য হন। ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজনও। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় দলনিরপেক্ষ ও নৈর্বক্তিক অবস্থানের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। সেজন্য তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ বিএনপির মহাসচিবকেও শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়।

হাসান শাহরিয়ার একজন পেশাদার সাংবাদিকের পাশাপাশি সাংবাদিকদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৩-৯৪ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি হাসান শাহরিয়ার কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিজেএ) আন্তর্জাতিক সভাপতি হিসেবে দু’মেয়াদে দায়িত্বপালন করেন। পরে সিজেএ’র আমৃত্যু ইমেরেটাস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ছিলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংগঠন ওভারসিজ করেসপন্ডেন্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওকাব) এর সভাপতি। তিনি ছিলেন সাংবাদিকদের একজন সত্যিকারের অভিভাবক। যা তাঁর মৃত্যুর পর সর্বস্তরের সাংবাদিকবৃন্দের স্মৃতিচারণমূলক লেখায় ও ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ফুটে ওঠে।

হাসান শাহরিয়ার তাঁর কলমের মাধ্যমে নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। সিলেটের মানুষজন ঢাকায় যেকোনো প্রয়োজনে বা সংকটে পড়লে হাসান শাহরিয়ারের সহায়তা পেতেন। হাসান শাহরিয়ারের রেফারেন্স এর মাধ্যমে অনেক কাজের সমাধান হতো। তিনি সিলেট বিভাগ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

সংবাদ পরিবেশনায় অনেক সময় সাহিত্যিক হয়ে উঠতেন। সিলেটের গুচ্ছগ্রাম নিয়ে লিখতে গিয়ে লিখেছেন,‘আমি আমার প্রেমিকারে লইয়া ভাবতে থাকি। হারাইয়া ফেলছি তারে। যেন রাস্তায় হাঁটতেছি একদিন আর পকেট থেইকা পইড়া গেল রূপার আধুলি। কাদা ছিল রাস্তায়। শব্দ শুনি নাই। যেন সময় থেইকা অনেক আগে যেই অবসাদ আর হাহাকার লইয়া আমাদের মাঝখানে একা একা বিপুল আকাশে কাতর নক্ষত্রের তাপ মাপতেছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল আর সবচেয়ে আহত কবিটি, তার হৃদয়ের সব ঘাস জমতেছিল আমার বুকে। আস্তে আস্তে। আমার কথা শুনবে কে? ও গুচ্ছগ্রাম, এই বিনীত বৃষ্টির রাতে আমি ফের ধসে পড়তেছি আমার নিজের অসীম শূন্যস্থানে। এই টিলার শহরে। আর তোমারে ভাবতেছি। যেমন ভাবতাম আমার প্রেমিকারে লইয়া। খর পানির জঙ্গলে। যেন ফের মুখোশ খুইলা বসতেছি আমি ঘরের জানালায়। ও গুচ্ছগ্রাম, আসো তোমারে একটা গান শুনাই এইবার আর্টসেলের স্বরে-‘অবশ অনুভূতির দেয়াল’। ‘তোমার জন্য বিষণ্ণ এক নিথর হৃদয়/ আমার ভেতর দাঁড়ায় সরব একা/ তোমার পৃথিবী স্বর্গের মতো চির অদেখা’...”

একটি মফস্বল এলাকায় জন্ম নিয়ে এক জীবনে একজন মানুষ কতদূরই বা যেতে পারে। তাও আবার রাজনীতি বা সরকারি আমলা হয়ে নয়; একজন সাংবাদিক হিসেবে। হাসান শাহরিয়ার সেদিক থেকে একজন সফল মানুষ। জাতীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নামযশ। বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা একজন হাসান শাহরিয়ারের প্রয়োজন অনুভব করবে দীর্ঘদিন।

লেখকঃ ড. জহিরুল হক শাকিল। অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট। ই-মেইলঃ [email protected]

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x