শেখ হাসিনার চার দশক অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার চার দশক অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ
প্রতীকী ছবি

আজ ১৭ মে। বাংলাদেশের মানুষের আশার বাতিঘর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দীর্ঘ ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার চার দশক আজ। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্বেও চার দশক।

সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম মেয়াদের পাঁচ বছর এবং টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রায় সাড়ে ১২ বছর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে বাংলাদেশ এক অনন্য পরিচিতি লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার যোগ্য নেতৃত্ব, দক্ষতা, সততায় আজকের এই অবস্থান। হেনরি কিসিঞ্জারের সেই ‘বটমলেস বাসকেট’-এর দেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলই শুধু নয়, মানবতার অনন্য উদাহরণ। আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদ (১৯৯৬-২০০১) এবং ২০০৮ থেকে টানা তিন মেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করায় বিজয়ের ৫০ বছরে অর্থ ও বাণিজ্যের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অর্জন বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক মুক্তি, রিজার্ভ, প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ে উন্নত দেশগুলোকেও টেক্কা দিচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি মাসেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধির অর্থ হলো অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। ১৯৭১ সালে ১২৯ ডলার মাথাপিছু আয়ে শুরু করা বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের আগে যেখানে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত ৮০ শতাংশ মানুষ, আজ সেই সংখ্যা ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রথম অর্থবছরে (১৯৭২-৭৩) দেশের বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ৫০ বছরের মাথায় এসে বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

গ্রামাঞ্চলে এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। বার্ষিক মোট বিদ্যুত্ উৎপাদনের সর্বশেষ পরিমাণ ২৪ হাজার মেগাওয়াট। খাদ্যশস্যের উৎপাদন ৪৫১ লাখ টন। স্বাধীনতার আগে এর পরিমাণ ছিল অনেক নিচে। অন্যদিকে স্বাধীনতা-পরবর্তী ৩৪৮ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় বেড়ে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ডলার। শিক্ষা, গড় আয়ু, আমদানি, রপ্তানি, রিজার্ভ, ডলারের মান, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এবং মাথাপিছু আয়ের মতো প্রতিটি সূচকে এখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। অনেক সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ এখন ভারত থেকে এগিয়ে। বিস্ময়কর উত্থানের কারণ খুঁজছে ভারতও।

স্বাধীনতার পরপর আমাদের ১০০ টাকা দিয়ে ভারতীয় ৩৫-৪০ রুপি পাওয়া যেত। আর এখন পাওয়া যায় ৮৫-৯০ রুপি। সবকিছু সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন বলেই। তিনি আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আছেন বলে করোনার মহামারিতেও আল্লাহর রহমতে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা সচল আছে। বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কও রীতিমতো ক্লান্ত। করোনাযুদ্ধে একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়কই নন, ইতিহাসে নাম লেখাচ্ছেন যুদ্ধজয়ের বীরত্বগাথা গৌরবে। মানুষের জীবন-জীবিকার চাকা সচল রাখতে একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন সরকারপ্রধান। বড়, মাঝারি, ক্ষুদ্র শিল্প বাঁচাতে বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়াসহ সাহস ও উদ্দীপনা জুগিয়েছেন। বেকার ও কর্মহীন মানুষের জন্য বরাদ্দ করেছেন মানবিক সহায়তা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকা আনা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের অনেক ধনী দেশগুলোও যখন টিকা পায়নি, তখন দেশের মানুষের জন্য বিনা মূল্যে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে ৭০ হাজার গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে পাকা ঘর দেওয়া হয়েছে। আশ্রয় প্রকল্পের আওতায় আরো ৫৫ হাজার ঘর আগামী জুন মাসে হস্তান্তর করা হবে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনা সেই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছেন।

আজ থেকে চার দশক আগে। দিনটি ছিল রবিবার। দিনটিতে বইছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল বেগে কালবৈশাখী ঝোড়ো হাওয়া। অথচ প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়াও গতিরোধ করতে পারেনি গণতন্ত্রকামী লাখো মানুষের মিছিল। সারা দেশের গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর থেকে অধিকারবঞ্চিত মুক্তিপাগল জনতা ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী লাখো কণ্ঠের স্লোগানে প্রকমিপত পুরো রাজধানী। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে দেখার জন্য কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিদেশে থাকাকালেই ১৯৮১ সালের ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর তার হাতে তুলে দেন দেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সর্ববৃহত্ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পতাকা। লাখো মানুষের প্রাণঢালা উষ্ণ সম্ভাষণ এবং গোটা জাতির ভালোবাসা মাথায় নিয়ে প্রিয় স্বদেশভূমিতে ফিরে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৮১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের লাখো মানুষের সঙ্গে স্কুলপড়ুয়া একজন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য আমারও হয়েছিল। ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখ লাখ মানুষের সংবর্ধনা ও হূদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা-ভালোবাসার জবাবে পিতা-মাতা-ভাইসহ স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমি সবকিছু হারিয়ে আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার বিচার করতে আমি জীবন উত্সর্গ করতে চাই। বাংলার দুঃখী মানুষের সেবায় আমি আমার এ জীবন দান করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতামাতা, ভাই সবাইকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই।’

সামরিকতন্ত্রের বেড়াজাল থেকে দেশের জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন ছেড়ে শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বলেই আজকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশেরই নয়, এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল। শুধু দেশের বৃহত্তম দলই নয়, এই ৪০ বছরে জনগণের আস্থা অর্জন করে প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটসংখ্যা বাড়িয়েছেন দ্বিগুণ-ত্রিগুণ হারে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন বলেই সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সামরিকতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দেশবাসী পেয়েছিল কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে স্রোতের বিপরীতে সেই যে উজানে নাও বাওয়া শুরু করেছিলেন, জাতির জীবনে সাফল্যের পালক পরিয়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। জীবনে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে কুড়ি বারের বেশি। যারা স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না, তাদের সব হিসাবনিকাশ যেন মুহূর্তের মধ্যে পালটে গেল। দেশের মাটিতে নেমেই অন্ধকার দুঃসময়ে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে তিনি নামলেন গণতন্ত্রের সংগ্রামে। গণমানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে নিরন্তর সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় গণজাগরণই ঘটালেন না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন করে দেশের জনগণকে সুসংগঠিত করে ঐক্যের রাজনীতির শুভসূচনা করলেন।

আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর স্নেহসান্নিধ্য পাইনি, তারা তার যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার স্নেহসান্নিধ্যে ধন্য হলাম। আমরা তার স্নেহছায়ায় কাছে থেকে দেখলাম দুঃখী বাংলার মানুষের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও আস্থা এবং দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট। তার সাহসী সংগ্রামের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে বিস্ময়ের সঙ্গে দেখেছি তিনি কীভাবে একের পর এক প্রাণনাশের আঘাত, হামলা, নির্যাতনের মুখে অমিত সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্বই দিলেন না, আমাদের বুকের ভেতরে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আগুনও জ্বালিয়ে দিলেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের বাঁকে বাঁকে কত ষড়যন্ত্রের জাল ফেলা হয়েছে! তিনি ছিন্ন করেই অশুভশক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও কল্যাণের বাতি জ্বালিয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে বৈরী স্রোতের বিরুদ্ধে তার সংগ্রামকে অভীষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে গেছেন। কর্মীদের কাছে কখনো তিনি এক স্নেহময়ী মা, মমতাময়ী বড় বোন, কখনো বা আদর্শ অভিভাবক। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নিয়মিত ছাত্রদের হাতে রাখতে তিনি বয়সের সীমানাই টেনে দেননি, আমাদের হাতে তিনি তুলে দিয়েছিলেন বই-খাতা-কলম। ছাত্রলীগের কর্মীদের আগে পড়ালেখা, মানুষ হওয়া, তারপর রাজনীতির তাগিদ তিনি বারবার দিয়েছেন। এই মহান নেত্রীর রাজনীতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জীবনকেই ধন্য করেনি, গণতন্ত্রকামী অসাম্প্রদায়িক শক্তির পায়ের তলার মাটিই শক্ত করেনি, দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে তিনি প্রাইম মিনিস্টার আওয়ার্স চালু করে প্রতি সপ্তাহে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার ধমনিতে, কোনো ভয়ডর তাকে দমাতে পারে না। তা তিনি ফের প্রমাণ করেছেন। ওয়ান-ইলেভেনে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও দেশি-বিদেশি চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনিই প্রথম তার সাহসী প্রতিবাদী চরিত্র উন্মোচন করে গণতন্ত্র ও ব্যালটের পথে ক্ষমতা হস্তান্তররের কথা বলেছেন। সব বাধা অতিক্রম করে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন এই দেশ ও মানুষের জন্য জীবন দিতেও তিনি কার্পণ্য করবেন না। তিনি সব সময় বলেন, দেশের জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনে তার জীবন উত্সর্গ করবেন। সংগ্রামমুখর জীবনের পরতে পরতে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। আমরা যারা তার কর্মী, তাদের জীবনকে তিনি মহিমান্বিত করেছেন। মাইনাস ফর্মুলার ষড়যন্ত্র, কারা নির্যাতন তাকে দমাতে পারেনি। মানুষ ও কর্মীর জন্য তার দরদ, গরিবের জন্য ভালোবাসা উপলব্ধি করা যায়, বোঝানো যায় না। তাহাজ্জুতের নামাজ দিয়ে রাত শেষ হয়; ফজরের নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও সংবাদপত্র পড়ে তার দিন শুরু হয়। খাওয়া-দাওয়ায় একেবারেই সাদামাটা। তিনি নিজে রান্না করতে যেমন পছন্দ করেন, তার চেয়ে বেশি আতিথেয়তার সঙ্গে খাওয়াতে পছন্দ করেন। সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করলেও ক্ষমতার কাছে ভিড়তে দেন না।

আজ তার এই দেশে ফেরার শুভদিনে মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্থ, কর্মঠ ও দীর্ঘজীবন প্রত্যাশা করি। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের মনের দোয়া কবুল করুন। শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন।

লেখক: উপমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও জাকসুর সাবেক ভিপি

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x