নাগরিক মতামত

কেমন হলো করোনাকালের বাজেট ২০২০-২১

কেমন হলো করোনাকালের বাজেট ২০২০-২১
ফাইল ছবি

অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা শিরোনামে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি আসন্ন ২০২০-২১ সালের বাজেট উপস্থাপন করেছেন। আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে বাজেট বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

এবারের বাজেটে সর্বাধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে (৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা), যা মোট বরাদ্দের প্রায় ১৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে পূর্বের তুলনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি করে এবার বরাদ্দ হয়েছে ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ২ শতাংশ, কৃষি, মত্স ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ২২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এবারের বাজেটে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি-রপ্তানি শুল্ক নির্ধারণ, অর্থাত্ ফিসক্যাল পলিসিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আয়করের ক্ষেত্রে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা এবং মহিলা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন করহার ১০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর প্রদানের বিষয়টি জনপ্রিয় করার জন্য যেসব করদাতা প্রথমবারের মতো অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদের ২ হাজার টাকা কর রেয়াত দেওয়া হবে।

ব্যাংক, লিজিং, বিমাসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন কোম্পানি ও সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানি ছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ কোম্পানির করপোরেট কর হার ৩৫ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস করে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের করের হার পূর্বের ন্যায় ১০ ও ১২ শতাংশ আরো দুই বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তৈরি পোশাকসহ সব রপ্তানি পণ্যের উেস কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে উেস কর কর্তনের হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এমএস স্ক্রাপ সরবরাহের ওপর উেস কর ৫ শতাংশের স্থলে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ, রসুন ও চিনি আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ এবং পোলট্রি খাদ্য উত্পাদনের কাঁচামালের ওপর উেস কর ৫ শতাংশের স্থলে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেসরকারি খাতে অর্থনৈতিক কর্মপ্রবাহ গতিশীল করা এবং যাদের হাতে অর্থসম্পদ রয়েছে কিন্তু কোনো কারণে আয়কর রিটার্নে পূর্বে দেখানো হয়নি তাদের সুযোগ দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার উদ্দেশ্যে আয়কর অধ্যাদেশে দুটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়—Extraordinary times require extraordinary measures নেওয়ার ফলে আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত জমি, বিল্ডিং কিংবা ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গমিটারের ওপর নির্দিষ্ট হারে এবং নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার বা বন্ডের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রদান করে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে আয়কর কর্তৃপক্ষ বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করতে পারবে না। এছাড়া তিন বছরের জন্য লকইনসহ কিছু শর্তসাপেক্ষে আগামী অর্থবছরের মধ্যে পূঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ কর প্রদান করে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে পারবেন।

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী ২০২০-২১ সালের বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে মহামারি করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, উত্তরণ এবং সপ্তম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনা, রূপকল্প ২০২১, এসডিজি ২০৩০ বাস্তবায়ন ও প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে যথাক্রমে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে উত্তরণের অনুষঙ্গ হিসেবে, যেখানে উচ্চ প্রবৃদ্ধির (৮ দশমিক ২ শতাংশ) লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সংকট উত্তরণ আগামী জুলাই-সেপ্টেম্ব্বর কোয়ার্টারে সম্ভব কি-না এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বাংলাদেশে এ মহামারির সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে। সাধারণত সংক্রমণের ওয়েভ সর্বোচ্চ মাত্রায় (Peak) পৌঁছে পরে নিচের দিকে নামে। সেটি কবে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জুন ১৫ পর্যন্ত মোট সংক্রমিত ৯০ হাজার ৬১৯ জন এবং মোট মৃত্যু ১ হাজার ২০৯ জন। বেসরকারিভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে অভিজ্ঞমহলের ধারণা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ না কমলে বাজেট বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়বে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রস্পেকটাস ২০২০’ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড়ো অর্থনৈতিক মন্দায় পড়বে বিশ্ব। ৭-১০ কোটি মানুষ চরম দরিদ্রতায় পতিত হবে। এ বছর (২০১৯-২০) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। আগামী বছর তা আরো কমে যাবে। ইতিপূর্বে আইএমএফ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হতে পারে। তবে আমরা কিছুটা আশাবাদী হয়ে বলতে পারি, যেহেতু গত জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেহেতু বছর শেষে (৩০ জুন ২০২০) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে।

আসন্ন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে বরাদ্দের বিবেচনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা খাতে। বয়স্ক, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ বরাদ্দ ব্যয় হবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য খাত দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, মহামারি সংক্রমণ মোকাবিলার জন্য কিট, পিপিই, মাস্ক, অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের লক্ষ্যে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মধ্যম স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিস্তারে অগ্রগতি ভালো। কিন্তু উচ্চ (Tertiary) স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন- আইসিইউ, ভেন্টিলেশন, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ ইত্যাদিতে দেশ এখনো পিছিয়ে আছে। করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব হলে উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষার দুরবস্থা প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে টারশিয়ারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতকরণসহ মহামারি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

বৈশ্বিক মন্দাবস্থার উন্নতি না হলে বাংলাদেশের অগ্রগতিও ব্যাহত হবে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে সময় লাগবে। বিদেশি বিনিয়োগেও আসতে পারে স্থবিরতা। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগেও কাঙ্ক্ষিত বিস্তৃতি ও প্রবৃদ্ধি লক্ষণীয় হবে বলে মনে হয় না। এছাড়া চালু শিল্পকারখানা, সার্ভিস সেক্টর যেমন- হোটেল, রেস্তোরাঁ, এয়ার লাইনস্, পরিবহন, পর্যটন ইত্যাদি কবে আবার সচল হবে তারও নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় নতুন কর্মসংস্থান হবে না বরং অনেক লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে। অর্থনীতিতে ভোগ চাহিদা কমে যাবে এবং সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হবে।

উল্লিখিত প্রেক্ষাপটে এনবিআর রাজস্ব আহরণেও আসতে পারে মন্দাভাব ও স্থবিরতা। মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হলে অর্থনীতি নিজস্ব গতিতে ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা কিছুটা আশাবাদী মনোভাব নিয়ে বলতে পারি আগামী অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও ৪-৫ শতাংশ হতে পারে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এখন পৃথিবীর কোনো দেশই চিন্তিত নয়, টিকে থাকাই বড়ো কথা। এনবিআর রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি যাওয়ারও সম্ভাবনা নেই, বরং ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির সম্ভাবনা।

আয়কর আইনে নিম্নমুখী পরিবর্তনের ফলে প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ কমে যাবে। বর্তমান করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো এবং করা হার ৫ শতাংশ নামিয়ে আনা ভালো উদ্যোগ, কিন্তু উচ্চহার ৩০ থেকে ২৫ শতাংশে নামানোর ফলে উচ্চ আয়ের করদাতাদের সুবিধা বেশি হয়েছে। ৩০ শতাংশের হারটি বহাল রাখা যৌক্তিক হবে। করপোরেট করহার শুধু ননলিস্টেড কোম্পানির ক্ষেত্রে কমানোর ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো হতাশ হয়েছে। এমনিতেই অনেক ননলিস্টেড কোম্পানির করআয় হিসাবে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে। ২ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট কর কমানোর ফলে রাজস্বের যে ঘাটতি হবে তা পূরণ করার কোনো পথ খোলা রাখা হয়নি।

অপ্রদর্শিত আয় বা ‘কালো টাকা’ বৈধ করার পথটি এবার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হয়েছে। যারা এরূপ অর্থ সম্পদের মালিক তারা যদি এবার এ সুযোগ গ্রহণ না করেন, তবে ‘বোকামি’ হবে। এত অল্প হারে কর প্রদান করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ভবিষ্যতে আসবে কি-না সন্দেহ আছে। ১০ শতাংশ আয়করের সঙ্গে অন্তত ৫ শতাংশ জরিমানার বিধান রাখা উচিত। এ আইনটি নিয়ে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিন বছরের জন্য ‘লকইন’ করার বিধানটি ওখানে বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত করবে।

মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি-রপ্তানি শুল্ক হারে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলো বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব বলা যায়। কোভিড-১৯ সংক্রমণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ব্যবসায়ী চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সিম/রিম ব্যবহারে যে মূসক বৃদ্ধি করা হয়েছে তাতে যত্সামান্য রাজস্ব হয়তো বাড়বে, কিন্তু সরকারের সমালোচনা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাবের স্থিতির ওপর এক্সাইজ কর কেটে নেওয়াও আরেকটি অজনপ্রিয় পদক্ষেপ। গাড়ি ক্রয় ও ব্যবহারে বার্ষিক করবৃদ্ধির চাপ শুধু বিত্তবানদের ওপরই পড়বে না বরং মধ্যবিত্ত এবং আমাদের মতো অবসরপ্রাপ্তদের ওপর পড়বে অধিক মাত্রায়। উপরিউল্লিখিত কয়েকটি বিধান পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে সরকারের বিবেচনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে অগ্রগামী করা হয়েছে। করনেট বাড়ানোর প্রয়োজনে এ প্রস্তাব আশু বিবেচনার দাবি রাখে। রাজস্ব আহরণে অটোমেশন তথা সফটওয়্যার ও মেশিনের ব্যবহার সময়ের দাবি। এর ফলে রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতি অনেকাংশে দূর হবে।

নতুন কাস্টম আইন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শেষ দিকে মহান সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু সময়ের স্বল্পতায় আইনটি পাশ না হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থসালের প্রথম দিকে এটি পুনরায় জাতীয় সংসদে পেশ করা হলে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। ৩০ জুনের মধ্যে এ আইনটি পাশ না হলে আবার তামাদি হয়ে যাবে। নতুন আয়কর আইনটিও আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের শুরুতেই মন্ত্রিসভা ও সংসদে ওঠা জরুরি। রাজস্ব সংগ্রহে গতি আনয়নের ক্ষেত্রে এসব সংস্কার সহায়ক হবে।

বড়ো বাজেটের অর্থায়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু অর্থায়ন বাংলাদেশে কোনো সমস্যা নয়। বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে হবে। চালু প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যয় বাড়াতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোতে যে যে খাতে সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সে খাতসমূহের প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য শিল্পমালিক ও বিনিয়োগকারীদের দ্রুত অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এখানে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা মোটেই কাম্য নয়।

লেখক :সাবেক সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত