বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

করোনা-পরবর্তী পুনর্গঠন কর্মসূচি

কিছুতেই আবার ফিরে যেতে চাই না

কিছুতেই আবার ফিরে যেতে চাই না
প্রতীকী ছবি

করোনা মহামারি পৃথিবীর যে ক্ষতিসাধন করছে এক কথায় তা কল্পনাতীত। এই বিশাল ক্ষতি সত্ত্বেও এই মহামারি মানবজাতির সামনে একটি এমন সুযোগ এনে দিয়েছে তা আরো বেশি কল্পনাতীত। এই মুহূর্তে মানুষের মাথায় একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। করোনার এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বের হয়ে কীভাবে আবার বিশ্ব-অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করব। সৌভাগ্যক্রমে এর উত্তর আমাদের জানা। একটি পুনরুদ্ধার কর্মসূচি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হয় সে অভিজ্ঞতা আমাদের ভালোই আছে। যে প্রশ্নটা আমি তুলে ধরতে চাইছি সেটা কিন্তু ভিন্ন। সবার কাছে আমার প্রশ্ন হলো : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে পৃথিবীটা যেখানে ছিল আমরা কী তাকে সেই জায়গাতেই ফিরিয়ে নিয়ে যাব? নাকি আমরা একে নতুনভাবে গড়ে তুলব? সিদ্ধান্তটা পুরোপুরিই আমাদের হাতে।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, করোনা-পূর্ববর্তী পৃথিবীটা আমাদের জন্য মোটেই ভালো ছিল না। পৃথিবী প্রায়ই ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছে গিয়েছিল। করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগ না আসা পর্যন্ত পৃথিবীতে কী কী ভয়ানক জিনিস ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে দুর্ভাবনার অন্ত ছিল না। জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে পৃথিবী মানবজাতির টিকে থাকার জন্য একেবারে অনুপযুক্ত হয়ে যাওয়ার শেষ সীমায় এসে পৌঁছে গিয়েছিল। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স সৃষ্ট ব্যাপক বেকারত্ব সমাজকে ভয়ংকর হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে সমস্ত সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়ে মাত্র গোটা কয়েক মানুষের হাতে চলে গিয়েছিল—যার ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমরা আক্ষরিক অর্থে পৃথিবীর শেষ ঘণ্টা বাজার অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা একে অপরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলাম যে, বর্তমান দশকটাই আমাদের জন্য শেষ সুযোগের দশক; এরপর আমাদের সব প্রচেষ্টারই ফলাফল হবে অতি নগণ্য। তা দিয়ে পৃথিবীকে আর রক্ষা করা যাবে না।

আমরা যে পৃথিবীর বর্ণনা করলাম সেই পৃথিবীতেই ফিরে যেতে চাই? আমাদের কি আর কোনো উপায় নেই? করোনা ভাইরাস অকস্মাত্ প্রেক্ষাপটটা বদলে দিল এবং পৃথিবীর ক্যালকুলাস পালটে দিল। এর ফলে এমন এক প্রবল সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। অর্থনীতিকে আবারও সচল করার আগে আমাদেরকে একটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে, আর তা হচ্ছে—কোন ধরনের অর্থনীতি আমরা চাই। তবে সবার আগে আমাদের এ বিষয়ে একমত হতে হবে যে, অর্থনীতিটা হচ্ছে একটা ‘উপায়’, একটা কর্মপদ্ধতি। আমরা যে লক্ষ্যগুলো স্থির করি অর্থনীতি সেগুলো অর্জনে সাহায্য করে মাত্র। এটা এমন কোনো মৃত্যুফাঁদ নয় যেটা কোনো ঐশ্বরিক শক্তি আমাদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য তৈরি করেছেন। আমাদের এক মুহূর্তের জন্যও ভুললে চলবে না যে, এটা আমাদেরই তৈরি একটি যন্ত্র মাত্র। আমাদেরকে প্রতিনিয়তই এর নকশা তৈরি করতে ও এই নকশা পুনঃসৃষ্টি করে যেতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তা আমাদের জন্য সর্বোচ্চ সমষ্টিগত সুখ নিশ্চিত করে।

এজন্য করোনা-উত্তর পুনর্গঠনকে হতে হবে সামাজিক সচেতনতা চালিত পুনর্গঠন। এটা সম্ভব করে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হবে বিভিন্ন ব্যবসা। করোনা-পরবর্তী পুনর্নির্মাণ কর্মসূচির জন্য প্রারম্ভিক সিদ্ধান্ত হতে হবে সমাজ ও পরিবেশগত সচেতনতাকে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রস্থলে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা। সরকারগুলোকে অবশ্যই এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, ব্যয়কৃত প্রতিটি টাকা অন্য সকল বিকল্পের তুলনায় সমাজকে সর্বোচ্চ সামাজিক ও পরিবেশগত সুফল দেবে, এটা নিশ্চিত না হয়ে কাউকে একটি টাকাও দেওয়া হবে না। পুনর্গঠনের সব কর্মোদ্যোগকে দেশের এবং সার্বিকভাবে পৃথিবীর জন্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে সচেতন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিয়োজিত হতে হবে।

আমরা শুরু করব সামাজিক সচেতনতা চালিত ‘পুনর্গঠন’ প্যাকেজগুলো নিয়ে। আমাদের এখনই—যখন আমরা সংকটের গভীরতম পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি—আমাদের পরিকল্পনাগুলি তৈরি করে নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে—এই সংকট যখন সমাপ্তি পর্বের দিকে আসতে থাকবে তখন পুরোনো সব পদ্ধতির সুফলভোগীরা আবারও সুফলগুলি লুফে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় হুড়মুড় করে এগিয়ে আসবে। নতুন উদ্যোগগুলিকে পথচ্যুত করতে শক্তিশালী যুক্তি দেখানো হবে যে এই কর্মপন্থাগুলো ‘পরীক্ষিত’ নয়। (আমরা যখন প্রস্তাব করেছিলাম যে, অলিম্পিক গেম্সকে সামাজিক ব্যবসা হিসেবে ডিজাইন করা সম্ভব তখন বিরোধীরা একই যুক্তি দেখিয়েছিল। এখন প্যারিস অলিম্পিককে প্রতিটি পদক্ষেপে অধিকতর উত্সাহের সঙ্গে সামাজিক ব্যবসা হিসেবেই ডিজাইন করা হচ্ছে।) আমাদেরকে হুড়োহুড়ি শুরু হবার আগেই তৈরি হয়ে যেতে হবে। আর তা এখনই।

এই ব্যাপক পুনর্গঠন পরিকল্পনায় আমি একটি নতুন ধরনের ব্যবসাকে—যাকে আমি সামাজিক ব্যবসা বলি—কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়ার প্রস্তাব করছি। এই ব্যবসাটি সৃষ্টিই করা হয়েছে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করার জন্য। এই ব্যবসা থেকে বিনিয়োগকারী শুধু তার মূল বিনিয়োজিত অর্থটুকুই ফেরত পান, কোনো ব্যক্তিগত মুনাফা বা লভ্যাংশ পান না। বিনিয়োগকারীর মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরত দেবার পর অর্জিত মুনাফা এই ব্যবসাতেই বিনিয়োজিত হয়।

বড় ধরনের পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারগুলোর কাছে সামাজিক ব্যবসাগুলোকে উত্সাহিত করতে, অগ্রাধিকার দিতে এবং এদের স্থান করে দিতে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ থাকবে। একই সময়ে সরকারগুলোর এমনটি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না যে সামাজিক ব্যবসাগুলো চাহিদামতো সময় ও মাপে সব জায়গায় তৈরি হয়ে যাবে। সরকারগুলোকে অবশ্যই তাদের কর্মসূচিগুলো চালু করতে হবে, যেমন প্রচলিত কল্যাণ কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে হতদরিদ্র ও বেকারদের দেখাশোনা করা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা, অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো পুনরায় চালু করা এবং সেসব ব্যবসাগুলোকে সহায়তা দেওয়া, যেখানে সামাজিক ব্যবসার প্রসার ধীরগতিতে হয়।

সামাজিক ব্যবসার প্রসারকে ত্বরান্বিত করতে সরকারগুলো কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে সামাজিক ব্যবসা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড গঠন করতে পারে, বেসরকারি খাত, বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ তহবিলগুলোকে সামাজিক ব্যবসা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড তৈরি করতে উত্সাহিত করতে পারে, প্রচলিত ব্যবসাগুলোকে নিজেদের সামাজিক ব্যবসায়ে পরিণত হতে বা কোনো সামাজিক ব্যবসাকে অংশীদার করে নিতে উত্সাহিত করতে পারে। এছাড়া করপোরেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ সামাজিক ব্যবসা তৈরি করতে বা সামাজিক ব্যবসা পার্টনারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সামাজিক ব্যবসা গড়ে তুলতে উত্সাহিত করতে পারে।

পুনর্গঠন কর্মসূচির অধীনে সরকারগুলো বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসাকে অর্থায়ন করতে পা,ের যাতে তারা অন্য কোম্পানি ক্রয় করতে পারে বা কোনো অভাবগ্রস্ত কোম্পানিতে অর্থ লগ্নী করে তাকে সামাজিক ব্যবসায়ে রূপান্তরিত করতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামাজিক ব্যবসাগুলোকে অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে তহবিল নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার অনুমোদন দিতে পারে। পুনর্গঠন প্রক্রিয়া একবার শুরু হয়ে গেলে তখন আরো অনেক সুযোগ তৈরি হবে; সরকারের উচিত হবে যত বেশি সম্ভব সামাজিক ব্যবসাকে এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা। তবে বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণের প্রশংসার কারণে অর্থনীতির কোর্সগুলোতে সম্প্রতি সামাজিক ব্যবসা, সামাজিক ব্যবসায় উদ্যোগ, অভিঘাত বিনিয়োগ, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান— এগুলো সম্পর্কিত আলোচনা মূল তত্ত্বগুলোর পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

অর্থশাস্ত্র যত দিন মুনাফা সর্বোচ্চকরণের একটি বিজ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হবে, তত দিন আমরা সামাজিক ও পরিবেশগত সচেতনতাভিত্তিক একটি পুনর্গঠন কর্মসূচি হিসেবে এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারব না। আমাদের পুরো কর্মকৌশলটাকে হতে হবে অর্থনীতির সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এর মধ্যে সামাজিক ব্যবসার অনুপাতটাকে বড় করে আনা। সামাজিক ব্যবসার সফলতা তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন সমগ্র অর্থনীতিতে এর অনুপাতটাই যে শুধু বড় হয়ে আসবে তাই নয়, উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুই ধরনের ব্যবসাতেই বিনিয়োগ করছে এমন উদ্যোক্তার সংখ্যাও বিপুলভাবে বৃদ্ধি পাবে। আর এটাই সংকেত দেবে সামাজিক ও পরিবেশগত সচেতনতাভিত্তিক অর্থনীতির প্রকৃত যাত্রারম্ভের।

সরকারি নীতি সামাজিক ব্যবসায় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করলেই এই উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা এই ঐতিহাসিক সুযোগে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব পালনে প্রবল আগ্রহে এগিয়ে আসবে। সামাজিক ব্যবসায় উদ্যোক্তারা সমাজে ‘ভালো কাজ করা’ মানুষের একটা ছোট দল নয়। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইকোসিস্টেম, যার অন্তর্ভুক্ত বিশালায়তন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো, বৃহত্ সামাজিক ব্যবসায় তহবিলসমূহ, বহু প্রতিভাবান প্রধান নির্বাহী, করপোরেট সংস্থাগুলো, ফাউন্ডেশনসমূহ ও ট্রাস্টসমূহ, যাদের বৈশ্বিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ব্যবসায় অর্থায়ন ও পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সামাজিক ব্যবসার তত্ত্ব ও অভিজ্ঞতা একবার সরকারি মনোযোগ আকর্ষণ করলে অনেক কট্টর ব্যক্তিগত মুনাফাসন্ধানীও তাদের অনাবিষ্কৃত প্রতিভার একটি অংশ সফল সামাজিক ব্যবসায় উদ্যোক্তা হওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারলে এবং জলবায়ু-সংকট, বেকারত্ব সমস্যা, সম্পদ কেন্দ্রীকরণ সমস্যা ইত্যাদির সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভূমিকা রাখার সুযোগ পেলে আনন্দ বোধ করবে।

সামাজিক ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের সামজিক ব্যবসা সৃষ্টি করে বেকারদের জন্য কাজ তৈরিতে লেগে পড়তে পারেন। এর পাশাপাশি তারা বেকারেরা যাতে উদ্যোক্তায় পরিণত হতে পারেম সেই বিকল্পও তাদের সামনে খোলা রাখতে পারে, যা প্রমাণ করবে যে মানুষ মূলত উদ্যোক্তা হয়েই জন্মায়, চাকরি খোঁজার জন্য নয়। এছাড়া সামাজিক ব্যবসাগুলো সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তৈরির কাজেও নিজেদের নিয়োজিত করতে পারে।

সামাজিক ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারীকে যে অপরিহার্যভাবে কোনো ব্যক্তিই হতে হবে তা নয়, সামাজিক ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারী হতে পারে কোনো বিনিয়োগ তহবিল, ফাউন্ডেশন, ট্রাস্ট বা কোনো সামাজিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই বিভিন্ন কোম্পানির প্রথাগত মালিকদের সঙ্গে কীভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে কাজ করতে হয় তা খুব ভালো জানে। করোনা-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের দিক থেকে একটি সঠিক আহ্বান একটি বিপুল, অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ সৃষ্টি করতে পারে। এটা পৃথিবীর সামনে তরুণ, মধ্য বয়সি, বয়স্ক নারী-পুরুষদের মধ্য থেকে একেবারে অজানা বিভিন্ন উপায়ে পৃথিবীকে নবজন্মে অনুপ্রাণিত করার নেতৃত্বের একটা চমত্কার পরীক্ষা।

মূল ইংরেজি থেকে অনূদিত, অনুবাদক :কাজী নজরুল হক

লেখক :শান্তিতে নোভেল বিজয়ী

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত