গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখার জন্য গণতন্ত্রচর্চা আবশ্যক

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখার জন্য গণতন্ত্রচর্চা আবশ্যক
মামুনুর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত

আগস্টের যে হত্যাকাণ্ড, সেটি আমরা কেউ অনুমান করতে পারিনি। কিন্তু যেসব লোক এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছড়ি ঘুরিয়েছিল, তারা খুব দ্রুতই সামনে চলে এলো। যদিও আমাদের ইতিহাসে এই ধরনের প্রাসাদ ষড়যন্ত্রকারী এবং বিশ্বাসঘাতকদের অতীতেও অভাব ছিল না। ভ্রাতার হাতে ভ্রাতার রক্তে রঞ্জিত হওয়ার ইতিহাসও বিরল নয়। কিন্তু আমরা ভাবিনি, এত দ্রুত এই ঘটনা ঘটতে পারে। জাতির অবিসংবাদিত নেতাকে এত দ্রুত সপরিবারে হত্যা করার নজির খুব একটা দেখা যায়নি। স্তম্ভিত ও বিস্ময়াভূত হয়ে সমগ্র জাতিকে এই ঘটনাটিকে দেখতে হলো এবং এই দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাই কয়েক জন বিপথগামী মেজরের দখলকৃত রাষ্ট্রক্ষমতার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

বাংলাদেশের জন্মের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় এই ধরনের একটি নিকৃষ্টতম ঘটনার উদাহরণ হিসাবে জাতিকে অনেক দিন বহন করতে হবে। এ কথা সত্যি যে, আমাদের দেশ কখনো স্বাধীন ছিল না। নানা ধরনের বিদেশি শাসক দ্বারা আধাশাসিত রয়েছে। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা নিজেদের হাতে শাসনক্ষমতা পেয়েছিলাম কিন্তু তাও পাকিস্তান শাসকদের স্টাইলে জনগণের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে চলে যায়। তার পরের ইতিহাস আমাদের জানা। অধিকারহীনভাবে ১৫টি বছর আমাদের সংবিধান স্থগিত থেকেছে এবং এ কথাও সামরিক আইনে বলা হয়েছে যে, ঐ সময়ের কোনো অপরাধে বিচার করা যাবে না। যদিও পরবর্তীকালে অনেক সংগ্রাম করে সেই কালাকানুনটি রদ করা হয়েছে। বারবার আমাদের সংসদ অকার্যকর হয়েছে।

গণতন্ত্র নানাভাবে কুক্ষিগত হয়েছে। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে নানা ধরনের শাসনব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এতে দেশ এগিয়ে যায়নি, বারবার পিছিয়ে পড়েছে। একটি ট্রেন যেন লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছে, আবার তাকে টেনে তুলতে হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য প্রথমদিকে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড নানাভাবে দায়ী হয়েছে। তবে এ কথাও সত্যি, সেই ঘাতকেরা কোনো অবস্থাতেই রেহাই পায়নি এবং তারাও জেনে গেছে, এইভাবে পার পাওয়া সম্ভব নয়। কাজেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুমুন্নত রাখার জন্য গণতন্ত্রের চর্চা করা অত্যাবশ্যক।

লেখক : নাট্যব্যক্তিত্ব

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত