চীনের 'ভ্যাকসিন কূটনীতি': দুর্বল দেশগুলোকে 'কবজা' করার হাতিয়ার 

চীনের 'ভ্যাকসিন কূটনীতি': দুর্বল দেশগুলোকে 'কবজা' করার হাতিয়ার 
ল্যাবে পরীক্ষার প্রতীকী ছবি

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আবির্ভাবস্থল চীন ইতোমধ্যে নিজ দেশে ভাইরাসটির লাগাম টেনে ধরেছে। সেইসঙ্গে দেশটি তার 'বন্ধুত্বপূর্ণ' দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে 'ভ্যাকসিন কুটনীতি' চালু করেছে। কিন্তু এর মাধ্যমে চীন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোতে ইতোমধ্যে 'শোষণ' করা শুরু করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নীতিতে চলছে এই কাজ।

তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, চীন তার সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিন 'বিশ্বের জনসাধারণের মঙ্গলের' জন্য তৈরি করতে প্রস্তুত।

যখন ধনী রাষ্ট্রগুলো যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে তারা করোনার ভ্যাকসিনের জন্য ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে তখন চীন ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে তাদের প্রচেষ্টা পরিচালনা করেছে। সেইসঙ্গে ঘোষণা দেয় মেকং নদীর অববাহিকায় অবস্থিত প্রতিবেশী ক্যাম্বডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামে তাদের ভ্যাকসিনের অগ্রাধিকার পাবে।

এছাড়া চীনের লক্ষে রয়েছে, ল্যাটিন আমেরিকার কিছু দেশ, পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, এবং ইস্টার্ন ইউরোপ এবং তালিকায় রয়েছে নেপালও।

গত ২৭ বাংলাদেশ সরকার চীনা কোম্পানি সাইয়নোভ্যাক বায়োটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমোদন দেয়। সুত্র ইকোনোমিকস টাইমসকে জানায়, এই ভ্যাকসিক ৪০ হাজার বাংলাদেশির ওপর দেওয়া হবে। এই অনুমোদনকে বাংলাদেশিদের 'গিনিপিগ' বানালো বলে ঢাকা থেকে অনেকে মতামত জানিয়েছে।

এটি চীনের জন্য নতুন কিছু নয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি বিশেষকরে উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিয়ে আসছে। এমন খবর আছে যে চীন তাদের ভ্যাকসিনের এক্সপেরিমেন্টের জন্য উইঘুরদের ওপর ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উইঘুরদের দিয়ে পিপিই এবং মাস্ক বানানো হয়েছে হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চীন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোতে 'শিনজিয়াং মডেল' নীতি প্রয়োগ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এবং তাদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল এর উদাহরণ।

বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, চীন এসব দেশকে তাদের ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহার করছে। সেইসঙ্গে চীনের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রস্তাবও বিআরআই প্রকল্পগুলিতে শর্তাধীন।

ইত্তেফাক/এসআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত