ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কোরআনের আইন: শাহ আতাউল্লাহ

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কোরআনের আইন: শাহ আতাউল্লাহ
হাফেজ কারি মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী। ফাইল ছবি

রাজধানীর কাওরান বাজারের আম্বর শাহ শাহী মসজিদের প্রধান খতিব এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমিরে শরিয়ত আল্লামা হাফেজ কারি মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশের মাধ্যমে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ধর্ষণ বন্ধে কোরআনের আইন মৃত্যুদণ্ড। সেই আইনই করল সরকার। এখন এই আইন যথাযথভাবে কার্যকর হলে আশা করা যায় ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ কমে যাবে। সরকার যদি জিনা-ব্যভিচার, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধে শরিয়াহ বোর্ড কায়েম করে অপরাধে জড়িতদের কোরআনের আইনে দ্রুত বিচার কার্যকর করার ব্যবস্থা করে তাহলে এসব অপরাধ চিরতরে বন্ধ হতে বাধ্য। সমাজ থেকে অনাচার দূর হয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠিত হবে।

বিবাহবহির্ভূত যেকোনো যৌন সম্পর্কই ইসলামে অপরাধ হিসেবে গণ্য। ফলে ব্যভিচারী ও ধর্ষক উভয়ের জন্যই কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করেছে ইসলাম। কেউ যদি কোনো নারীকে ধর্ষণ করে তাহলে তাতে দুই ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। তার শাস্তিও দুই প্রকার। একটি অপরাধ হলো জিনা বা ব্যভিচার। ইসলামি ফৌজদারি আইন অনুযায়ী এর শাস্তি হলো বিবাহিত হলে রজম তথা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আর অবিবাহিত হলে ১০০ চাবুকাঘাত।

পারস্পরিক সম্মতিতে জিনা সংঘটিত হলেও ইসলামে এই কঠিন বিধান রয়েছে। এর শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে ১০০ বেত্রাঘাত করবে...।’ (সুরা আন-নূর, আয়াত নং-২)। রাসুল (সা.) বলেছেন, অবিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর। আর বিবাহিত পুরুষ-নারীর ক্ষেত্রে ১০০ বেত্রাঘাত ও রজম (পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড)’, (সহিহ মুসলিম)। তবে কোনো নারী ধর্ষিত হলে এ শাস্তি কেবল ধর্ষণকারীর ওপর প্রয়োগ হবে; ধর্ষিতার ওপর নয়।

আল্লামা কারি শাহ আতাউল্লাহ বলেন, আইনের পাশাপাশি ধর্ষণ-ব্যভিচার বন্ধের অনুষঙ্গগুলোও বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণের অন্যতম কারণ হলো নোংরা চলচ্চিত্র, ওয়েব সিরিজ, টিকটক, পর্নোগ্রাফির প্রচার ও প্রসার। মডেলিং, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, নারীদের অশ্লীল পোশাকও এই ধর্ষণের জন্য দায়ী। এসব বন্ধ করতে হবে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত