প্যারিসে শিক্ষক হত্যার জন্য দায়ী কে?

প্যারিসে শিক্ষক হত্যার জন্য দায়ী কে?
প্যারিসে শিক্ষক হত্যার জন্য দায়ী কে?

প্যারিসে এক মুসলমান যুবককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুবকটি স্কুলের এক শিক্ষককে হত্যা করে যখন পালাচ্ছিল, পুলিশ তার পশ্চাদ্ধাবন করে। সে আত্মসমর্পণে অস্বীকার করে, তখন পুলিশ তাকে গুলি করে।

শনিবারের (১৭ অক্টোবর) ‘গার্ডিয়ান’ গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি ছেপেছে। এবং খবরটির হেডিং দিয়েছে, ‘Teacher Killed in France after showing caricatures of Muhammad in Class’ ক্লাসে মোহাম্মদকে (দ.) নিয়ে ক্যারিকেচার (ব্যঙ্গাত্মক ছবি) দেখানোর পর শিক্ষক নিহত)।

ফরাসি শিক্ষককে হত্যার কারণ জানা গেল; কিন্তু আততায়ী যুবককে কেন গ্রেফতার না করে হত্যা করা হলো, পুলিশের রিপোর্ট ছাড়া আর কোনো কিছু জানার উপায় নেই। পুলিশ বলেছে, সে আত্মসমর্পণে রাজি হয়নি; কিন্তু তাকে রিপোর্ট অনুযায়ী উপর্যুপরি গুলি করার নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের কী দরকার ছিল তা জানা যায়নি। তাহলে এটা কি মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান ফরাসি পুলিশের ‘রিভেঞ্জ কিলিং’—এই প্রশ্নটি এখন উঠতে পারে।

আমি যে কোনো হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করি। এই যুবকের শিক্ষক হত্যারও নিন্দা করি। নিন্দা করি পুলিশ কর্তৃক এই যুবকের হত্যাকাণ্ডও। তাকে গ্রেফতার করে বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করা উচিত ছিল। এই তরুণকে হত্যার পর তার একতরফা বিচারের কাজটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন নিজেই সেরেছেন—He taught students about freedom of expression, freedom to believe or not believe. It was a cowardly attack ‘তিনি (শিক্ষক) স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের বিষয়টি ছাত্রদের শিক্ষা দান করেছিলেন। তিনি শিক্ষা দান করেছিলেন বিশ্বাস করা ও না করার স্বাধীনতা বিষয়ে। এই হত্যার কাজটি অত্যন্ত কাপুরুষোচিত।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট তো একতরফা রায় দিয়ে দিলেন। অন্যদিকে ফরাসি গোয়েন্দা বিভাগে আততায়ী তরুণের কোনো নাম তালিকাভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও ফরাসি পুলিশ সে ইসলামি টেরোরিস্টদের দলভুক্ত কি না, সে সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে এবং এ সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে। আখেরে তাকে ইসলামি টেরোরিস্ট আখ্যা দিয়ে ফরাসি পুলিশ তাদের হত্যাকাণ্ডকে ‘জায়েজ’ করার চেষ্টা করেন কি না—তা এখন দেখার রইল। এই আততায়ী তরুণের সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো মহল থেকে বলা হয়েছে, সে চেচনিয়ান মুসলিম বংশোদ্ভূত। বয়স ১৮ বছর। তার জন্ম মস্কোতে।

ক্লাসে এই তরুণ কেন শিক্ষক হত্যা করতে গেল? প্রকাশিত খবরেই বলা হয়েছে—৪৭ বছর বয়স্ক শিক্ষক ক্লাসে পড়াতে গিয়ে ১২-১৪ বছরের ছাত্রদের হজরত মোহাম্মদের (দ.) ব্যঙ্গাত্মক ছবি দেখাচ্ছিলেন। এই ছবি ফ্রান্সের স্যাট্যারিকাল নিউজ পেপার চার্লি হেবডোতে প্রকাশিত হয়েছিল। ইতিপূর্বে চার্লি হেবডো পত্রিকা ইসলামের নবির ব্যঙ্গাত্মক ছবি ছাপায় তাদের এক সম্পাদককে হত্যা করা হয়েছিল এবং প্যারিসে দাঙ্গা হয়েছিল।

চার্লি হেবডো অফিসও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ কথা জানা থাকা সত্ত্বেও ঐ ফরাসি শিক্ষক কেন ক্লাসে—তাও আবার ১২-১৪ বছর বয়সের ছাত্রদের সামনে ইসলামের নবির ক্যারিকেচার কোন বুদ্ধিতে দেখাতে গেলেন তা আমার বুদ্ধির অগম্য। এই ছবি দেখানো ঐ চেচনিয়ান তরুণকে অবশ্যই ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত করেছে। তাতে সে ক্লাসে প্রতিবাদ জানাতে পারত; কিন্তু তার উত্তপ্ত তরুণ মস্তিষ্কে হত্যা যে একটি অপরাধ হয়তো সেই উপলব্ধি তখন কাজ করেনি। এ কথা বলা তার অপরাধের পক্ষে সাফাই নয়। বাস্তব অবস্থার কথা বলা মাত্র।

খবরেই বলা হয়েছে, ক্লাসে এই ক্যারিকেচার দেখানোর ফলে ছাত্রদের অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকি শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করাও হয়েছিল। এর পরও ক্লাসে চার্লি হেবডোতে প্রকাশিত হজরত মোহাম্মদের (দ.) ক্যারিকেচার দেখানো কি সংগত হয়েছে? নাকি ‘মরাল অ্যান্ড সিভিল এডুকেশন’ সম্পর্কে শিক্ষাদানে এই ক্যারিকেচার দেখানো কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত? যদি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে ফরাসি শিক্ষাব্যবস্থা ধর্ম ও বর্ণবিদ্বেষভিত্তিক?

এই শিক্ষা অন্য ধর্মের মানুষের মনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়ায়। ফরাসি সরকার জানেন ইতিপূর্বে চার্লি হেবডোতে প্রকাশিত পয়গম্বর মোহাম্মদের (দ.) সম্পর্কে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক ছবি ও লেখা প্রকাশের পর শুধু ফ্রান্সে নয়, সারা ইউরোপে কী ধরনের হিংসাত্মক উত্তেজনা ছড়িয়েছেন। তার পরও কেন তারা চার্লি হেবডোকে তাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ঢুকতে দেন, তা বোঝা আমাদের পক্ষে মুশকিল।

অবশ্যই স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার সব দেশেই থাকা উচিত। কিন্তু এই অধিকারের অর্থ এই নয়, অন্যের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা এবং উসকানিমূলক কথা বলার অধিকার থাকা। বার্নার্ড শ তার এক লাঠি ঘুরিয়ে পথচলা বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘তোমার লাঠি ঘুরিয়ে চলার স্বাধীনতা আমার নাকের ডগা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।’ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও ভিন্নমতের অধিকার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। স্বাধীন মত প্রকাশ আর অন্যকে উসকানি দান এক কথা নয়।

ইউরোপীয় নেতারা বলেন, মুসলমান দেশগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সেজন্য সালমান রুশদি যখন তার ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসে হজরত মোহাম্মদ (দ.) সম্পর্কে অশ্লীল ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তখন তারা এমনকি পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীরাও তাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে বাহবা দিয়েছেন। কিন্তু ইসরাইল গত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় হলোকাস্টের (ইহুদি গণহত্যা) যে কথা বলে, তা ঐতিহাসিক গবেষণা দ্বারা সত্য নয় বলে বই লেখায় এক ব্রিটিশ অধ্যাপককে ব্রিটেনে চাকরিচ্যুত করে জেলে পাঠানোর জন্য তত্কালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এমনকি হলোকাস্টকে যারা বিশ্বাস করে না, তাদের জেলে পাঠানোর জন্য আইন প্রণয়নও করতে চেয়েছিলেন।

বিশ্বের মুসলমানেরা যতই অনগ্রসর হোক, তারা মুসা, ঈসা (যিশু) প্রমুখকেই পয়গম্বর বলে স্বীকার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো কুত্সা রটনা করে না। ইসরাইল রাষ্ট্রকে তারা রাজনৈতিক শত্রু মনে করে, কিন্তু খ্রিষ্টানদের তারা শত্রু মনে করে না। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, মুসলমান আরবদের সঙ্গে ইহুদিদের রাজনৈতিক বিরোধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু খ্রিষ্টান বুদ্ধিজীবীদের এক দল এবং অধিকাংশ খ্রিষ্টান শাসকেরই টানা ইসলামবিরোধিতা ও শত্রুতার কোনো সীমারেখা নেই। শুধু মুসলমানদের বিরোধিতা করা নয়, তার পয়গম্বরের বিরুদ্ধে কুত্সা রটনা তাদের একটি প্যাশন বা অভ্যাস।

মুসলমানদের সঙ্গে খ্রিষ্টানদের এই বিরোধ সেই প্রথম ক্রুসেডের যুদ্ধ থেকে। মুসলমানরা যেমন ভুলতে পারে না খ্রিষ্টান ইউরোপীয় শক্তি তাদের খেলাফত ওসমানিয়া সাম্রাজ্য ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপনিবেশ তৈরি করেছে, তাদের বুকের ওপর একটি ইসরাইলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে, তেমনি খ্রিষ্টানরাও ভুলতে পারে না, ইউরোপের অর্ধাংশ জুড়ে মুসলমানরা তাদের শাসন ও শোষণ করেছে ৫০০ বছর।

পরবর্তীকালে তারা কম্যুনিজমকে যতটাই ভয় করেছে, ততটাই তারা অতীতে ভয় করেছে ইসলামকে এবং এখন কম্যুনিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পরও ইসলামকে আরো বেশি ভয় করছে। এ কথা সোভিয়েট ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরই বলেছিলেন ব্রিটেনের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার। বলেছিলেন, কম্যুনিজমের পতন হলে কী হবে, পশ্চিমা শক্তির আরেকটি প্রতিপক্ষ মাথা তোলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এই শক্তিকে তারা অপবাদ দিয়েছিল ইসলামি সন্ত্রাস হিসেবে।

যেমন প্যালেস্টাইনের মুক্তিসংগ্রামকে তারা আখ্যা দিচ্ছে সন্ত্রাস হিসেবে। একালের মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক, জামাল নাসের, মোসাদ্দেক, সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফি প্রমুখ আধুনিক মুসলমান রাষ্ট্রনায়কদের প্রত্যেকের তারা বিরোধিতা করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়েছে। ইসলামকে তারা টেরোরিস্টদের ধর্ম এবং মুসলমানদের যে কোনো মুক্তি আন্দোলনকে তারা টেরোরিস্ট তত্পরতা আখ্যা দিয়েছে।

কম্যুনিজমের প্রবর্তক কার্ল মার্কসকে যেমন তারা নানা অপবাদ দেয়, তেমনি অপবাদ দেয় ইসলামের প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ (স.)-কে। কারণ, ধর্ম হিসেবে একমাত্র ইসলাম এবং তত্ত্ব হিসেবে কম্যুনিজম পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শাসন ও ধনবাদী স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলে। কম্যুনিজম এখন বিপর্যস্ত। কিন্তু ইসলাম এখন রক্ষণশীলদের হাতে বন্দি থাকা সত্ত্বেও তার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার নীতি রয়েছে। কম্যুনিজম যেমন শ্রেণিসংগ্রামের কথা বলে, তেমনি ইসলাম বলে জিহাদের কথা। এ দুটিকেই বর্তমান খ্রিষ্টান শক্তি ভীষণ ভয় করে। কম্যুনিজম ও কম্যুনিস্ট রাষ্ট্রনায়কদের বিরুদ্ধে কুত্সা রটনার জন্য পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সব দেশে একশ্রেণির নামকরা বুদ্ধিজীবীদের ভাড়া করেছিল।

এখন ভাড়া করেছে ইসলামের বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়িয়ে যে কোনো মুসলিম জাগরণকে নিরুত্সাহিত করার জন্য। অতীতে কম্যুনিজমের বিরুদ্ধে কুত্সা রটানোর জন্য যেমন আর্থার কোয়েসলারের মতো বিশ্ববিখ্যাত বুদ্ধিজীবীকে ভাড়া করেছিল, তেমনি ইসলামের বিরুদ্ধে কুত্সা রটানোর জন্য সালমান রুশদিসহ বহু ছোট-বড় বুদ্ধিজীবীকে ভাড়া করা হয়েছিল। এখন তো জানতে বাকি নেই সালমান রুশদির ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ গ্রন্থ লেখার প্রণোদনা ছিল ইসরাইলের এবং আর্থিক উত্সাহদান ছিল ইউরোপীয় খ্রিষ্টান শক্তিগুলোর। রুশদির পক্ষ সমর্থন করে যে শতাধিক বুদ্ধিজীবী সংবাদপত্রে যুক্ত বিবৃতি দিয়েছিলেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন ইহুদি বুদ্ধিজীবী। বর্তমানে ইসলামি টেরোরিস্ট নামে দেশে দেশে ঘাতক বাহিনী তৈরি করা হয়েছে।

এরা ইসলাম ও জিহাদের আদর্শ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এদের তৈরি করেছে পশ্চিমা শক্তি। বিশেষভাবে আমেরিকা ও ইসরাইল। এককালে কম্যুনিজমকে নিন্দিত করার জন্য পশ্চিমা শক্তির অর্থে সন্ত্রাসী কম্যুনিস্ট তৈরি করা হয়েছিল, এখন তেমনি একই সূত্র থেকে ইসলামি টেরোরিস্ট ও জিহাদিস্ট তৈরি করা হচ্ছে। যারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে একশ্রেণির মোল্লার মতো সম্পূর্ণ অজ্ঞ। এরা ধর্মের নামে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনকে এদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করে। এদের মতো শক্তির হাতেই এখন আফগানিস্তান দেশটির কর্তৃত্ব চলে গেছে। আমেরিকা এদের সঙ্গেই আপস করতে চায়।

ফ্রান্সে শিক্ষক হত্যার যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা দুঃখজনক ও নিন্দাজনক। আঠারো বছরের এক তরুণের হঠকারিতাকে আর কীভাবে নিন্দা করব? সে যদি চেচনিয়ান বংশোদ্ভূত হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে তার পিতৃপুরুষদের নির্মমভাবে হত্যার কথা সে জানে। সুতরাং তার চোখের সামনেই তার প্রিয় নবিকে নিয়ে ক্যারিকেচার দেখানো তার হয়তো সহ্য হয়নি। এ ধরনের সহিংসতা ততদিনই চলতে থাকবে, যতদিন পশ্চিমা শক্তিগুলোর উসকানিমূলক কাজ ও ইসলামবিদ্বেষী প্রচার বন্ধ না হবে।

ইসলাম কেন, কোনো ধর্মই যে সন্ত্রাস ও হিংসা প্রচার করে না, সমর্থন করে না—এ কথা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষাদানের কোনো সাহসী তত্পরতাও আমাদের আলেম সম্প্রদায় অথবা বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেই নেই। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে যতদিন হিংসা ও সন্ত্রাসের পথ থেকে ফেরানো না যাবে, ততদিন ফ্রান্সের শিক্ষক হত্যার মতো ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এক জন, দুই জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে কোনো লাভ হবে না।

লন্ডন, ১৭ অক্টোবর, শনিবার, ২০২০-১০-১৭

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত