রাসুলের অপমানে যদি কাঁদেনা তোর মন... 

রাসুলের অপমানে যদি কাঁদেনা তোর মন... 
ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি ফ্রান্সে বিশ্বনবী ও শ্রেষ্ঠনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটাক্ষ করে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এরপূর্বে মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা স্যাম বাসিল ও তার কলাকুশলীরা ‘ইনোসেন্স অব মুসলিম’ নামক চলচ্চিত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-কে অত্যন্ত অশালীন ও বিকৃতভাবে বিদ্রুপ করেছিল। এসব ঘটনায় একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে আর এমনটা প্রত্যেক মুসলমানেরই হওয়ার কথা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

বিশ্বনবী ও খাতামান্নাবেঈন হজরত মুহাম্মদ (সা.) যাকে সাদা-কালো, ধনি-গরীব সবার ত্রাণ কর্তা হিসেবে আল্লাহতায়ালা প্রেরণ করেছেন, তার বিরুদ্ধে কেউ যদি বিকৃতভাবে কিছু উপস্থাপন করে সে ক্ষেত্রে তাকে উন্মাদ বলা ছাড়া আর কি-বা বলা যেতে পারে। কেননা এই উন্মাদদের এমন হীন আচরণে বিশ্বনবীর সম্মানে কি সামান্যতম ঘাটতি দেখা দিবে? অবশ্যই না, বরং এতে মুসলিম উম্মাহ মহানবীর (সা.) অতুলনীয় জীবনাদর্শ সবার কাছে আরো ভালো করে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।

যেই মহান রাসুলের জন্য আল্লাহতায়ালা এ জগৎ সৃষ্টি করেছেন তার সম্মানের ওপর আঘাত হানবে এমন সাহস কি কারো আছে? বিধর্মীরা যত চেষ্টাই করুক না কেন কিন্তু শ্রেষ্ঠনবীর সন্মানে এক চুল পরিমাণও বেঘাত ঘটবে না, কারণ এই মহান নবীর সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহতায়ালা যেখানে এই সার্টিফিকেট দিয়ে দিয়েছেন যে, ‘ওয়া ইন্নাকা লা আলা খুলুকিন আজীম’ অর্থাৎ নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপরে অধিষ্ঠিত’ (সুরা কলম: আয়াত ৪)। তাই যারা এমন গর্হিত কাজে জড়িত তারা ইসলামের কোন ক্ষতি করতে পারবে না বরং তারা নিজেরাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের দেখা উচিৎ, মহানবী (সা.)কে যারা কটাক্ষ করার চেষ্টা করে এবং চলচ্চিত্র নির্মান করে তারা কোন পর্যায়ের ব্যক্তি। আমরা যদি ক্ষতিয়ে দেখি তাহলে দেখব এই ধরনের লোকদের কোন ধর্ম নেই এবং তাদের চরিত্রও ঠিক নেই। কেননা কোন ভাল চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি, সে যে ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন তারা এমন কাজ করতে পারে না।

আমরা দেখতে পাই মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা স্যাম বাসিল ও তার কলাকুশলীরা মূলত অশ্লিল ও নগ্ন ছবি নির্মাণ করে থাকে, এদের মত লম্পটদের কথায় কি ইসলাম কলঙ্কিত হয়ে যাবে? মহানবী (সা.)-এর সম্মানের হানী হবে? অবশ্যই তা কখনো হতে পারে না। কেননা ইসলামই কেবল একমাত্র পরিপূর্ণ ধর্ম। তবে আমরা এধরনের গর্হিত কাজের তীব্র নিন্দা জানাই এবং আল্লাহপাকের দরবারে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করি। যখন কেউ ইসলামের অবমাননা, কোরআনের অবমাননা এবং রাসুলের (সা.) অবমাননা করবে এর প্রতিবাদ আমরা অবশ্যই করব। তবে আমাদের প্রতিবাদের ধরণ হবে শ্রেষ্ঠনবীর অনুপম আদর্শের প্রতিফলন ঘটিয়ে। কোন দেশের পতাকা পুড়িয়ে বা কোন দেশের রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা চালিয়ে বা হত্যা করে অথবা অগ্নিসংযোগ ও অপহরণ করে এর প্রতিবাদ আমরা করব না। কারণ এগুলোর কোনটাই ইসলাম আমাদেরকে অনুমতি দেয় না।

আমাদের প্রতিবাদের ধরণ হবে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য, কোরআনের অনিন্দ্য সুন্দর শিক্ষা এবং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অতুলনীয় আদর্শ সারা বিশ্বের মাঝে ফুটিয়ে তোলা। প্রতিটি দেশে বড় বড় সভা-সেমিনার করা, কোরআন প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা এবং সকল ধর্মের লোকদের ডেকে ইসলামের শান্তির শিক্ষা সম্পর্কে অবগত করা। আর এ কাজের জন্য যে বিষয়েটি সবচেয়ে প্রথমে প্রয়োজন তাহল সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আজকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের যদি এক ঐশী নেতা থাকত তাহলে এধরণের গর্হিত কাজের কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না।

আমরা যদি প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইসলামের আদর্শ ভুলে জুলুম নির্যাতনের রাস্তা অবলম্বন করি তাহলে বিধর্মীরা এটা বলতে আরো সাহস পাবে যে, মুসলমানরা সন্ত্রাসী আর এরাই পৃথিবীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। তাই বিধর্মীদেরকে কোনভাবেই অভিযোগের সুযোগ দেয়া আমাদের মোটেও ঠিক হবে না। আমরা যদি প্রতিবাদ করতে গিয়ে দেশের রাস্তা বন্দ করে রেখে জনগনের কষ্ট দেই তা কিন্তু শ্রেষ্ঠ নবীর আদর্শের বিপরিত হবে।

কাজি নজরুল ইসলাম তার কবিতায় কত চমৎকারভাবেই না বলেছেন ‘রাসুলের অপমানে যদি কাঁদেনা তোর মন, মুসলিম নয় মুনাফিক তুই রাসুলের দুশমন।’ আসলেই তাই, ইসলামের বিরুদ্ধে যখন কোন বিষয়ে অভিযোগ হানা হয় তখন প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় কাদে এবং ব্যথা পায় আর এটাই স্বাভাবিক।

আজ যারা বিশ্বনবী ও শ্রেষ্ঠনবী (সা.) সম্পর্কে কটাক্ষ করে তারা কি এটা জানে না যে, মহানবী (সা.) তো শুধু ইসলামের অনুসারীদের নবী নোন, তিনি তো সারা বিশ্বের সকল জাতি এবং সকল ধর্মের নবী। আর আল্লাহতায়ালা এই মহান নবীকে সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তি ও রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। এই নবীর আগমন বার্তা সকল নবীরাই (আ.) দিয়েগেছেন এবং অন্যান্য নবীগণ এই নবীর উম্মত হওয়ার ইচ্ছাও পোষন করেছেন।

নাউযুবিল্লাহ! আজ সেই মহান রাসুলকে নিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে। অথচ এই শ্রেষ্ঠনবী (সা.) পশুতুল্য মানুষকে ফেরেশতায় রূপান্তর করেছিলেন। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে মানুষ যখন সমাজ তাদের নিজস্ব পরিচয় মনুষত্ব হারিয়ে ইচ্ছা মাফিক ও স্বেচ্ছাচারী জীবন নিয়ে মত্ত ছিল ঠিক তখনই কোরাইশ বংশের মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরব জাহান তথা বিশ্ব মানবকূলের জন্য প্রেরণ করেন শান্তির বাণী দিয়ে হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)কে। জন্মলগ্ন থেকে যাঁর উছিলায় শান্তির স্বপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বময় রহমত আসতে থাকে। কতই না চমৎকার তার আদর্শ, বিশ্বস্থতা, একনিষ্ঠতা, সত্য, ন্যায় এবং ইসলামের শান্তির কথা বলে, কোটি কোটি হৃদয়কে আকর্ষিত করেছিলেন। সমাজে তার (সা.) লড়াই ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠার লড়াই আর এ লড়াই ছিল ভালবাসার মাধ্যমে।

তিনি (সা.) প্রকৃত ইসলামী দর্শন, কোরআন মাফিক বিশাল এলাকা গড়ে তুলতে শাসক হিসেবে, যোদ্ধা হিসেবে, সঠিক সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষেত্রে অসাধারণ দৃষ্টান্ত তার উম্মতের জন্য রেখে গেছেন। তিনি (সা.) সমাজে কোন ধরনের অশান্তির লেশমাত্র রেখে যান নি। অন্ধকার সমাজ ছিল, যেখানে কোন আলো দেখা যেত না, সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন দেশটির বুকে আলো জ্বালিয়ে দেখিয়েছেন ইসলাম আসলেই যে শান্তির ও কল্যাণের ধর্ম। তিনি (সা.) শুধুমাত্র একটি সুন্দর সমাজই প্রতিষ্ঠা করেন নাই বরং প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা কি? ইসলাম পালন করলে কি লাভ এবং ইসলাম পৃথিবীতে কেন এসেছে এ সব কিছুই তিনি (সা.) তার কর্ম দ্বারা শিখিয়ে গিয়েছেন।

ইসলাম প্রকৃতই যে জীবনের সকল ক্ষেত্রে শান্তির নিশ্চয়তা দেয় তা-ও তিনি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। ইসলামের গৌরবজনক ইতিহাস, অনুশাসন, ঐতিহ্যবাহী জীবন ব্যবস্থায় নারীর মূল্যায়ণ। পুরুষসহ সকল মানুষের সমান অধিকারের প্রশ্ন ও প্রেক্ষিত এবং সমাধান দেখে ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই ঈমান এনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। সবাই এ কথাও বলতে বাধ্য হয়েছিল, ইসলামই একমাত্র শান্তির ধর্ম হতে পারে। তাই সবাই ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবেই গ্রহণ করেছে। এই শান্তির ধর্মে কোন ধরনের বল প্রয়োগের শিক্ষা নেই। ইসলাম কাউকে হত্যা করার শিক্ষা দেয় না। কাউকে হত্যার ব্যাপারে বিশ^নবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম যে মোকদ্দমার ফয়সালা করা হবে তা হবে রক্তপাত (হত্যা) সম্পর্কিত’ (বোখারি)। কাউকে হত্যা করাকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে, শুধু নিষেধ করেই শেষ করে নাই বরং যারা এসব সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রম করে তাদের শাস্তি কত ভয়াবহ সে সম্পর্কেও অবহিত করা হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা কত উন্নত যে বল প্রয়োগ করে ইসলামের প্রচার করতে পর্যন্ত বারণ করা হয়েছে।

এত উন্নত শিক্ষা ইসলামের থাকা সত্বেও আজ গুটিকতক উন্মাদরা ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে অভিযোগ করে যে, ইসলাম নাকি সন্ত্রাসের শিক্ষা দেয়। নাউযুবিল্লাহ। অথচ ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সব সময় সোচ্চার। ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাই কতই না উন্নত শিক্ষা ছিল আমাদের নবী করীম (সা.)-এর। আঘাতে জর্জরিত করা হয়েছে কিন্তু তিনি পাল্টা প্রতিশোধ না নিয়ে করেছেন ক্ষমা। শত্রুদের জন্য দু’হাত তুলে তাদের সংশোধনের জন্য দোয়া করেছেন। আমরা দেখতে পাই কেউ কেউ এমনও আছেন যারা মহানবীর জিহাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি ইসলামের জন্য অস্ত্র হাতে নিয়েছেন। হ্যাঁ, মহানবী (সা) জিহাদ করেছেন ঠিকই। কিন্তু তিনি তা কেন করেছেন তাও বুঝতে হবে। তিনি কি কোন লোভে বা রাজত্ব দখলের আশায় জিহাদ বা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন?

একটু ভেবে দেখুন! যার জন্য এই জগৎ সৃষ্টি, যিনি সমস্ত জগতের জন্য রহমত স্বরূপ হয়ে এসেছেন। আর সেই মহান নবীকে মক্কা নগরীতে ক্রমাগতভাবে তেরটি বছর কিনা যুলুম অত্যাচার নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। মহানবী (সা.) তো ছিলেন নিষ্পাপ ও ন্যায়পরায়ণ, যার কোন দোষ-ত্রুটি নেই, আর সেই নবীকে (সা.) কতই না অত্যাচার করা হলো, নির্দোষ সাহাবীদেরকেও তারা ছাড়লেন না। এসব নজীরবিহীন নিষ্ঠুর যুলুম, অত্যাচার থেকে অব্যাহতি লাভের জন্য তারা মদীনাতে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু মদীনাতেও শত্রুরা তাদেরকে স্বস্থিতে থাকতে দিল না। কাফেরদের বিরুদ্ধে যে অস্ত্র ধারণ তা মূলত মুসলমানরা বাধ্য হয়েছিলন সেদিন অস্ত্র হাতে নিতে। মহানবীর (সা.) জিহাদ ছিলো তাদের বিরুদ্ধে, যারা ধর্মকে মিটিয়ে দিতে চেয়েছিল। সেদিন জিহাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো আল্লাহতায়ালার একত্ব বা তৌহিদকে প্রতিষ্ঠা করা। মুসলমানদের অস্ত্র হাতে নেয়া কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কখনই ছিলো না। মুসলমানরা কেবল আত্মরক্ষার্থেই বিধর্মীদের বিরুদ্ধে জিহাদে লিপ্ত হয়েছিল। মুসলমানরা নিজেদের পক্ষ থেকে কখনও প্রথমে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়নি। মুসলমানদের অস্ত্র হাতে তুলে নেয়ার ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে-যেমন ২২নম্বর সুরার ৪০ আয়াত, ৪ নম্বর সুরার ৭৫ আয়াত, ২২নম্বর সুরার ৩৯ আয়াত। এসব আয়াতগুলো পাঠ করলেই বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট হবে মুসলমানরা কেন জিহাদ করেছিলেন।

আবারো বলতে চাই, মহানবীর (সা.) সময়ের জিহাদের লক্ষ্য ছিল আত্মরক্ষা করা, ইসলামকে রক্ষা করা। এছাড়া তখন অস্ত্র হাতে নেয়ার এটাও উদ্দেশ্য ছিলো ধর্মীয় স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখা, অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোকে যথা মঠ, মন্দির, আশ্রম, শিনাগগ, গীর্জা প্রভৃতিকে রক্ষা করা। কোন ধর্মের উপাসনালয়কে ধ্বংস করার কোন নির্দেশ তিনি (সা.) কখনো দেন নি।

মুসলমানদেরকে যুদ্ধ অনুমতি কেবল তখনই দেয়া হয়েছিল যখন বিরোধী শক্তি তাদের ওপরে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। আর এ যুদ্ধ সে সময় পর্যন্ত চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যে পর্যন্ত না ধর্মের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হলেই যুদ্ধ থামিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এ জন্যই মহানবী (সা.) অনেকগুলো সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। আল্লাহতায়ালার নির্দেশ যদি এমন হতো যে, অবিশ্বাসীরা ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, তা হলে মহানবী (সা.) কখনই ঐসব সন্ধি স্থাপন করতেন না।

আসলে ইসলাম কখনো তরবারীর জোরে বিস্তার লাভ করেনি। তরবারীর জোরে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম হতে পারে, শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। মূলত মহানবী (সা.) তরবারী দিয়ে মানব হৃদয়ের পাপ কালিমা সাফ করেছেন। তরবারীর মাধ্যমে তিনি একজনকেও ইসলামের ছায়াতলে আনেন নাই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অমুসলমানেরা তরবারীর ভয়ে সেদিন কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি বরং শ্রেষ্ঠনবীর উন্নত আদর্শের ফলেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। হায়! বিধর্মীরা যদি এই শান্তির ধর্মের বিরোধিতা না করে শান্তির ছায়াতোলে আশ্রয় নিত তাহলে কতই না উত্তম হত।

শেষে এটাই বলব, যারা আজ বিশ্বনবীকে (সা.) নিয়ে কটাক্ষ করে আল্লাহতায়ালা এ ধরণের জঘন্য ব্যক্তিদেরও হেদায়াত দান করুন এবং তারা যেন তাদের অন্যায় উপলব্ধি করতে পারে। একই সাথে মুসলিম উম্মাহ হিসেবে আমরাও যেন প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা এবং শ্রেষ্ঠনবীর আদর্শ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করতে পারি, সেই তৌফিক আল্লাহ আমাদেরকে দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

[email protected]

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত