উন্নয়ন বিনিয়োগের নতুন প্রেক্ষাপট

উন্নয়ন বিনিয়োগের নতুন প্রেক্ষাপট
ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছে। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন বাংলাদেশের পরিকল্পনার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং তা সরকারের প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সাক্ষ্য বহন করে। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যা সমগ্র একুশ শতাব্দী ব্যাপী বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনা দলিলটি প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/বাস্তবায়নকারী সংস্থা, উপকারভোগীসহ সব স্তরের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়। ইতিমধ্যে বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ অনুমোদনের দুই বছর সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এ প্রক্ষাপটে বদ্বীপ পরিকল্পনা বিষয়ে আলোকপাত করছি।

বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে বিনিয়োগ প্রয়োজনীয়তা ও বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অনেক। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন করা না হলে সামষ্টিক ও খাতভিত্তিক অর্থনীতি যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের পদক্ষেপহীন অবস্থায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভৌত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রতি বছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ কম অর্জিত হচ্ছিল। এছাড়া স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং জীব বৈচিত্র্যের ধ্বংসের ফলে অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাচ্ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম পর্যায়ে এসব ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে পানি, পরিবেশ, ভূমি, কৃষি (বন, প্রাণিসম্পদ ও মত্স্য) ইত্যাদি খাতে উৎপাদনকৌশল প্রণয়ন এবং যথাযথ বিনিয়োগ, নতুন নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন নির্দেশিত হয়েছে বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনায়।

নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে প্রতি বছর মোট দেশজ আয়ের প্রায় ২.৫ শতাংশ পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে এ ব্যয় প্রতি বছর মোট দেশজ আয়ের মাত্র ০.৯৫ শতাংশ। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ অনুযায়ী মোট দেশজ আয়ের ২.৫ শতাংশের মধ্যে ০.৫ শতাংশ অর্থায়ন বেসরকারি খাত হতে এবং প্রায় ২ শতাংশ সরকারি খাত হতে নির্বাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি খাত হতে প্রাপ্ত ২ শতাংশ মোট দেশজ আয়ের মধ্যে প্রায় ০.৫ শতাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা (O&M) খাতে ব্যয় করার পর অবশিষ্ট মোট দেশজ আয়ের ১.৫ শতাংশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা খাত খুব অবহেলিত এবং এ ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণও দেশজ আয়ের ০.১ শতাংশের বেশি নয়। বদ্বীপ পরিকল্পনায় রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা খাতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না করা হলে পানিসম্পদ খাতে সৃষ্ট অবকাঠামোর স্থায়িত্বের দ্রুত অবনতি ঘটবে এবং পরবর্তীকালে এসব অবকাঠামো অধিক ব্যয়ে পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে বর্তমান বিনিয়োগ চিত্র: সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ কর্তৃক ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপির বিনিয়োগ ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে বর্তমানে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতের প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ এডিপির ১২.৪৩ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ০.৯৫ শতাংশ যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় খুব নগণ্য। বদ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণের পর বদ্বীপসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও তা বিনিয়োগের চাহিদার তুলনায় কম। যেমন ২০১৯-২০ অর্থবছরে বদ্বীপ পরিকল্পনায় বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা ছিল জিডিপির ১.৮ শতাংশ সেখানে ঐ অর্থবছরে এডিপিতে ডেল্টা-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে ব্যয় হয় জিডিপির ০.৮৮ শতাংশ যেটি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ০.৯২ শতাংশ কম। ২০২৫ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ এবং পানিসম্পদ স্থাপনাসংক্রান্ত পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ কর্মসূচি/প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের পরিমাণ জিডিপির ২.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান ব্যয়ের প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি। এটা স্পষ্ট যে, বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছি।

বিনিয়োগ অগ্রাধিকার ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিনিয়োগের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-তে চিহ্নিত বিনিয়োগ অগ্রাধিকার তালিকা দীর্ঘ। এক্ষেত্রে প্রকল্প গ্রহণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর বেশির ভাগ সরকারি অর্থায়ন বন্যা থেকে রক্ষা, নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং নাব্য রক্ষাসহ সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজন হবে। এগুলো অত্যন্ত পুঁজিঘন বিনিয়োগ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন, নদী খনন, নদী শাসন এবং নৌ-পরিবহনসহ নদী ব্যবস্থাপনা বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ মোট বদ্বীপ পরিকল্পনা বিনিয়োগের প্রায় ৩৫ শতাংশ। এছাড়া, দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও অধিকতর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংবলিত প্রধান প্রধান নগরে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা প্রভৃতি খাতে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ অর্থের প্রয়োজন হবে।

বর্তমানে সরকার বদ্বীপ ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত প্রকল্প এবং কর্মসূচিতে মোট দেশজ আয়ের ০.৯৫ শতাংশ ব্যয় করে, যেখানে প্রয়োজন মোট দেশজ আয়ের প্রায় ২ শতাংশ। এজন্য কিছু সৃজনশীল প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। কর হতে প্রাপ্ত অর্থ, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে আহরিত অর্থ (Beneficiary Pay Principle) গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডসহ বৈদেশিক অর্থায়নের সমন্বয়ে সরকারি তহবিলের জোগানকৌশল নির্ধারিত হতে হবে।

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগে বদ্বীপ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সর্বোত্তম অনুশীলন হিসেবে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে ‘বিনিয়োগ ব্যয় পুনরুদ্ধার নীতি’ প্রয়োগে জোর দেওয়া উচিত। বাংলাদেশের শহর এলাকায় পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসংক্রান্ত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ‘সুবিধাভোগীদের’ কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যয় পুনরুদ্ধারের প্রচলন নেই। তাছাড়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পুনরুদ্ধারও অতি নগণ্য। গতানুগতিকভাবে নগর পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগকৃত মূলধন পুনরুদ্ধারেরও প্রচলন নেই যদিও বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ইতিমধ্যে (২০১৯-২০২০) কয়েক গুণ বেড়েছে। বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং সেচের ক্ষেত্রেও এসব ব্যয় পুনরুদ্ধার করা হয় না। এক্ষেত্রে স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা সংগঠনগুলোর নিষ্ক্রিয়তা একটি কারণ।

সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যয় পুনরুদ্ধার নীতির প্রয়োগ করা আবশ্যক। শহর এলাকায় পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং বিধিবিধান রয়েছে। এ বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে এমন একটি যুগোপযোগী নীতি গ্রহণ করা উচিত, যাতে পানি ও পয়োনিষ্কাশন-সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সেবার অন্তত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ক্রমান্বয়ে শতভাগ পুনরুদ্ধার করা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী ওয়াসা থেকে শুরু করে অন্যান্য এলাকাতেও মূলধন ব্যয় পুনরুদ্ধারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। কঠিন বর্জ্যের ক্ষেত্রে একটি আধুনিক সম্পদ কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও এর সঙ্গে বার্ষিক ভিত্তিতে সেবার মূল্য যুক্ত করে ব্যয় পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। জলবায়ুর অভিঘাত প্রশমন এবং অভিযোজন কর্মসূচিতে অর্থায়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স হিসেবে বিবেচিত হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন অভিঘাত মোকাবিলায় বেসরকারি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কার্যকর প্রচেষ্টার মাধ্যমে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড হতে বাংলাদেশের প্রতি বছর ২.০ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতি বছর মোট দেশজ আয়ের ন্যূনপক্ষে ০.৫ শতাংশ জোগান পেতে হবে। বিশ্বের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, পানি পরিশোধন, পানি সরবরাহ এবং পয়োব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে আরো দুটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হলো সেচ ও ড্রেজিং। ড্রেজিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। ড্রেজিংয়ে প্রাপ্ত বালি-মাটি বিক্রি করে ড্রেজিং ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যেতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে কারিগরি বিষয়াদি এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ভূমি পুনরুদ্ধারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পিপিপি অনুমোদন কাঠামোতে নদীখননের সঙ্গে ভূমি পুনরুদ্ধারের সমন্বয় করা হলে তা বেসরকারি খাতের জন্য আকর্ষণীয় হবে। পিপিপি উদ্যোগের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (আইডব্লিউটি)-এর জন্য নদীবন্দর-অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা করাও সম্ভব।

বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর বিনিয়োগ পরিকল্পনা: বদ্বীপ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য মোট ৮০টি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তার মধ্যে ৬৫টি ভৌত অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাবিষয়ক প্রকল্প রয়েছে। বর্তমানে মোট ৮০টি বিনিয়োগ প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ২২টি বিনিয়োগ প্রকল্প ভিন্ন ভিন্ন নামে ও কর্মসূচি হিসেবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পরিশেষে বলা প্রয়োজন যে, আমাদের গতানুগতিক বিনিয়োগ ধারা থেকে বের হয়ে আরো কার্যকর ও গতিশীল বিনিয়োগে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ সরকারি ভবন নির্মাণ অবকাঠামো খাতে আমাদের ব্যাপক বিনিয়োগ হয়েছে। নতুন রাস্তাঘাট তৈরির প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে। কেননা প্রতি বর্গকিলোমিটারে রাস্তার প্রাপ্যতা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। এখন বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ বাস্তবায়ন ও পানিসম্পদ খাতকে কীভাবে আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যায়, সেদিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে, স্থানীয় পর্যায়ের বিদ্যমান জলাধার (খাল, পুকুর, বাওড় পুনঃ খনন এবং সংরক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে পানি সংরক্ষণ) এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, নদী ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার এবং জীববৈচিত্র্যে রক্ষা, স্থানীয়ভাবে পাইপের মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বর্ষার পানি ধরে রেখে নতুন জলাধার নির্মাণ ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়নে আরো বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা, গ্রিন ক্লাইমেন্ট ফান্ড পেতে প্রকল্প তৈরি ইত্যাদির ওপর জোর দেওয়া আশু প্রয়োজন।

লেখক: সদস্য (সিনিয়র সচিব), সাধারণ অর্থনীতি

বিভাগ, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন।

ইত্তেফাক/কেকে

Nogod
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত