নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদের

‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ক্ষমতায় ফিরে এলে দেশে রক্তের নদী বইয়ে দেবে, লাশের পাহাড় সৃষ্টি করবে’

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  নোয়াখালী প্রতিনিধি ও কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (ছবি : ইত্তেফাক)

বিজয়ের পতাকাকে সমুন্নত রাখতে, মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ক্ষমতায় ফিরে এলে দেশ অন্ধকারে চলে যাবে, মানুষ আগুন সন্ত্রাসের কাছে জিম্মি হয়ে যাবে। ক্ষমতায় আসার আগে নোয়াখালী সদরে যুবলীগ নেতা হানিফকে হত্যা করেছে। ক্ষমতায় এলে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হবে এবং একদিনেই তারা রক্তের নদী বইয়ে দেবে, লাশের পাহাড় সৃষ্টি করবে।’

রবিবার নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা পরিষদ আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

ওবায়দুল কাদের আরো বলন, ‘বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে সাথে এই নিয়ে আওয়ামী লীগ এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। এ বিজয়ের মাসে বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ আজ দুই মেরুকরণে বিভক্ত। একদিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক উজ্জীবিত মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বে ঐক্যফ্রণ্টের ব্যানারে রয়েছে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি। তারা ’৭১ সালে পরাজিত শক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছে। বিএনপির মুক্তিযুদ্ধে মুখোশ খসে পড়েছে।’ 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি যতই গণতন্ত্রের কথা বলুক, যতই মুক্তিযুদ্ধের কথা বলুক বাস্তবে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।জঙ্গিবাদকে মদদ দিচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরেকবার পরাজিত করবই। সারা দেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ রকম গণজোয়ার আমি আর কখনো দেখিনি।

মন্ত্রী তার প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী মওদুদ আহমদকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ছদ্মবেশী গণতন্ত্রধারীদের গণতন্ত্র নেই। এখনো ঘরে বসে চক্রান্ত করছে তারা। নদীর ওপার থেকে সন্ত্রাসী এনে অস্ত্র দিয়ে ২০০১ সালের মতো ভোট ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আর দেয়া হবে না।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমার গত ১২ বছরের ক্ষমতার ৭ বছরে যে উন্নয়ন করেছি, মওদুদ আহমদ ২২ বছরেও তা করতে পারেননি। আজ বিজয় দিবসে চ্যাঞ্জেল করছি-কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় তিনি উল্লেখযোগ্য একটি কাজও দেখাতে পারবেন না। যে কাজ দেখিয়ে তিনি ভোট চাইতে পারবেন। আর আমি মাকড়সার জালের মতো গ্রামে গ্রামে রাস্তা, স্কুল, বিদ্যুৎ সংযোগ ও মওদুদ আহমদের বাড়ির দরজার রাস্তা পাকা করে দিয়েছি এবং তার বাড়ির পাশের স্কুলের ভবনও নির্মাণ করে দিয়েছি।’ 

ওবায়দুল কাদের উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে, যদি উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে চান। শুধু আমি নিজে জিতলেই হবে না। সারাদেশে আওয়ামী লীগকে জেতাতে হবে। যে যে দলই করেন আমার আপত্তি নেই। আমি সবার জন্য কাজ করেছি। উন্নয়নের জন্য আমাকে ভোট দিতে হবে।’ 

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গ্রামকে শহরে পরিণত করা হবে। গ্রাম এখন শহরে পরিণত হয়েছে। এলাকায় কোনো তরুণ যুবককে বেকার রাখবো না। নারীরাও বেকার থাকবে না। বেকারত্ব জাদুঘরে পাঠানো হবে। উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা জাদুঘরে গিয়েছে। দেশের উন্নয়ন চান নৌকায় ভোট দিন। এ সময় তিনি কবিরহাট উপজেলায় নির্বাচনের পর গ্যাস সংযোগেরও ঘোষণা দেন।’ 

আরো পড়ুনঃ স্পেনে শাকিরার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ

কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট সরকারি হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমদ ও কবিরহাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।

এ দুটি সংবর্ধনা সভায় বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন, কবিরহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার শিউলি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বাদল, কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, এলিন গ্রুপের পরিচালক গোলাম শরিফ চৌধুরী পিপল ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল প্রমুখ।

পরে ওবায়দুল কাদের রাতে জেলা শহর মাইজদীর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন।

ইত্তেফাক/কেকে