ঢাকা রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ মাঘ ১৪২৭
১৭ °সে

খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার ডিক্টেশনে: রিজভী

খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার ডিক্টেশনে: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘‘গুরুতর অসুস্থ ৭৫ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে শেখ হাসিনার ডিক্টেশনে, অ্যাটর্নি জেনারেল সেটি লিপিবদ্ধ করে আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করেছেন। সর্বোচ্চ আদালতে একজন মহিয়সী নারীকে জামিন না দেয়া সাম্প্রতিক কালের সেরা নিষ্ঠুরতা।'’

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির নয়াপল্টন অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘‘অবৈধ সরকারের চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে দেখে আবারো অস্থির হয়ে গেছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আবারো উদ্ভট, বানোয়াট, আজগুবি মামলার প্লাবন বইয়ে দিচ্ছে। সরকারের মতো পুলিশরাও এখন গায়েবী তথ্য উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। গত এক সপ্তাহে সিনিয়র নেতাদের নামে একের পর এক মামলা দিয়েই যাচ্ছে। মৃত ব্যক্তি, কারাবন্দী নেতাদেরও গায়েবী মামলার পাইকারি আসামি করা হচ্ছে। সরকার বর্তমানে নতুন কোন ইস্যু পাচ্ছে না। তাই আগের মতো আবার আগুনের খেলা শুরু করছে। বুধবার মধ্যরাতে এই মধ্যরাতের ভোট ডাকাত সরকার তাদের ‘খয়ের খাঁ’ পুলিশকে দিয়ে আমাদের ১৩৫ জন নেতাকে আসামী করে মোটরসাইকেল পোড়ানোর উদ্ভট দুই মামলা করেছে।’’

রিজভী বলেন, হাইকোর্টের সামনে মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় ১৩৫ জনের মধ্যে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার বহুদিন ধরে জেলে। গত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজ কারাগারে অথচ তাকেও আসামি করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, জয়নাল আবেদিন (খালেদা জিয়ার আইনজীবী), শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ প্রায় সব নেতার নামে। এই মামলা সুপরিকল্পিত এবং গায়েবী মামলা। এই সমস্ত ঘটনায় যে সরকারের লোকেরাই জড়িত সেটির অতিতে অনেক নজীর রয়েছে, তাদের লোকেরা সেটি স্বীকার করেছেন। পঙ্কজ দেবনাথ নিজেই যে তার নিজের বিহঙ্গ গাড়ী পুড়িয়েছেন সে কথা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মাইদুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গাড়ীতে আগুন ও মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় যুবলীগ নেতাকর্মীরা আটক হয়েছিলেন। এসব মানুষ ভুলে যায়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতারা কিভাবে গাড়ী পুড়িয়েছে সেটি তারা নিজেরাই ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে স্বীকার করেছে যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে পেট্রোল বোমাসহ ধরা পড়েছিল যুবলীগের নেতারা। সেইসময় গাজীপুরের একটি ঘটনায় প্রথম আলোর একটি হেডলাইন ছিল থানায় গাড়ী অক্ষত, গাড়ী পোড়ানোয় আসামী বিএনপি নেতারা। আর গত বছর জুড়ে গায়েবী মামলার কথা মানুষ ভুলে যায়নি। কবরে শায়িত লাশের নামে, হজ¦ব্রত পালনকালে সেই ব্যক্তির নামে, হাসপাতালে শায়িত পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির নামে, প্রবাসীর নামে গায়েবী মামলার মতোই এই মামলাটিও একটি গায়েবী মামলা। জামিন শুনানীর আগের দিন হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বেষ্টিত ছিল এবং একধরণের সান্ধ্য আইন জারী ছিল, সেখানে মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর ঘটনা তারা ছাড়া কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। এভাবেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকার টিকে আছে। আইন-আদালত, প্রশাসন, পুলিশ সবকিছুই শেখ হাসিনার হুকুমের দাসে পরিণত হয়েছে। উড়ো অবান্তর মিথ্যা প্রচারে পারঙ্গম শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে অসত্য এবং সম্পূর্ণরূপে চক্রান্তমূলক বানোয়াট মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাঁদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন