ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬
২০ °সে

ইভিএম ভেলকি দেখাতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ওবায়দুল কাদের: রিজভী

ইভিএম ভেলকি দেখাতে গিয়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ওবায়দুল কাদের: রিজভী
[ফাইল ছবি]

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে মিথ্যার ফেরিওয়ালা বলে আখ্যা দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সিটির ভোটে ইভিএম ভেলকি দেখাতে গিয়ে ভোটের দিন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বারবার অসুস্থ হওয়ার পরও আপনি মিথ্যার ফেরিওয়ালাই থেকে যাচ্ছেন। সৃষ্টিকর্তার কথা বিবেচনা করে কিছুটা হলেও সত্য কথা বলার চেষ্টা করুন।

আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

‘সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুননির্বাচনের দাবি মামা বাড়ির আবদার’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলবো-আপনি ভোট কারচুপির এমনই মেকানিজম করেছিলেন যে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আপনার সুস্থতা কামনা করি। কিন্তু জালিয়াতির মেশিন ইভিএম দিয়ে ভোটারদের যেভাবে সর্ষে ফুল দেখিয়েছেন সেজন্য আপনাকে নিয়ে ভোটাররা কি ভাবছেন সেটি একটু ভেবে দেখুন।

ভোট ডাকাতি সরকারের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এমন দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সিটি নির্বাচনের ফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবি প্রতিটি মানুষের। ভোট ডাকাতি এখন আপনাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আপনারা এখন চরম ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। জোর করে বিনা ভোটে ক্ষমতায় থেকে কিভাবে আপনারা বেহায়ার মত অবৈধ কর্মকাণ্ডের পক্ষে কথা বলেন?

খালেদা জিযার মুক্তি দাবি করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিনা অপরাধে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। জেলের ভেতরে তাকে হত্যার চেষ্টা চলছে। ৭৫ বছর বয়সী এই নারীকে মুক্তি দিয়ে দ্রুত উন্নত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে আমরা তার জীবনহানির আশঙ্কা করছি।

জিয়া, খালেদা জিয়া এ মাটির সন্তান নয়- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান রিজভী। বলেন, জিয়া এবং খালেদা জিয়াই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। কেননা, জিয়াউর রহমানই দেশের ক্রান্তিকালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে রক্ষা করেছিলেন। বিপন্ন গণতন্ত্রকে উদ্ধারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি এখনও হারানো গণতন্ত্র এবং মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, কোন স্বৈরাচারের নিকট মাথানত করেননি বলেই তিনি আপোষহীন নেত্রী আখ্যায় আখ্যায়িত হয়েছেন। তিনি সর্বদা দেশের মানুষের পাশেই আছেন, অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর চোখ রাঙানিতে ভীত হয়ে বিদেশ পালিয়ে যাননি। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, দেশের মানুষের পাশে না থেকে কে বিদেশ পালিয়েছে কিংবা কার সন্তান কোথায় বিয়ে করেছেন বা কিভাবে আছেন তা দেশবাসী ভালভাবেই জানে। সুতরাং বাংলাদেশের মাটির সন্তান কে বা কারা তা দেশবাসীর অজানা নয়।

অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন-তিনি বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর এই কথা চিরকুটে লিখে রাখলাম। হাসতে হাসতে হার্টফেল করলে অর্থমন্ত্রী দায়ী থাকবেন। এই বক্তব্য অজ্ঞাতপ্রসুত নয়, রাজনৈতিক ধান্দাবাজপ্রসুত। অর্থমন্ত্রী এই বক্তব্যের পরের দিনই আবার বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। মূলত স্বস্বীকৃত ১নং অর্থমন্ত্রী মোস্তফা কামাল সাহেব দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়েছেন। আসলে গণতন্ত্র ধ্বংসকারী মন্ত্রীদের মুখে এ ধরণের অবান্তর বক্তব্যই মানায়।

আওয়ামী লীগের নেতাদের ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, এখন প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে দেখবেন দুই-আড়াই কোটি নয়, শত শত, হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করছে আপনাদের দলের লোকজন। বিদেশে বেগম পল্লী, সেকেন্ড হোম বানাচ্ছে। ঘরে ঘরে টাকশাল বানাচ্ছে। বিদেশে পাচার করছে। দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন আপনারা। সংসদে দাঁড়িয়ে আপনাদের অর্থমন্ত্রী স্বীকার করছেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। গত দুই দিন আগে টিআইবি সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছে-বাংলাদেশে দুই লাখ অবৈধ বিদেশি কাজ করে। যেখানে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বেকার সেখানে বাংলাদেশে অবৈধ বিদেশিদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।

সরকার বলছে, দেশে একজনও বেকার থাকবে না। কিন্তু দেশের বেকারদের কথা চিন্তা মাথায় না নিয়ে অবৈধভাবে দেশে আসা বিদেশিদের কাজ করার সুযোগ দিয়ে বেকার তৈরির কারখানা তৈরি করেছে সরকার। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আপনাদের দলের ছিঁচকে নেতাও এখন অবৈধ শত কোটি টাকার মালিক। তাদের শাস্তি হয় না। মামলা হলে দায়মুক্তি দেয় দুদক।

খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে দাবি রিজভী বলেন, যে নেত্রী একটি টাকাও তসরুপ করেননি, তাঁকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতার শিকার বানিয়ে সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে হত্যার জন্য জেলে রাখা হয়েছে। তিনি এ দেশের ১৭ কোটি মানুষের কাছে নিকট সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সেজন্য আওয়ামী লীগ প্রধান ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা হিংসা-প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছেন। গণমানুষের প্রাণাধিক প্রিয় দেশনেত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র বন্ধ করে মুক্তি দিন। অন্যথায় আপনাদের করুণ পরিণতির দিন ঘনিয়ে আসছে।

ইত্তেফাক/এমআর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন