বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
৩১ °সে

সময় এসেছে রাজনীতি ভুলে দেশের কল্যাণে কাজ করার

সময় এসেছে রাজনীতি ভুলে দেশের কল্যাণে কাজ করার
ছবি: সংগৃহীত

করোনা ভাইরাসে পুরো দেশ যখন লকডাউন তখন সকলের কথা ভেবে রাজনীতি ভুলে দেশের কল্যাণে কাজ করা উচিত বলে জানিয়েছেন 'লাইফ ইজ বিউটিফুল' অনুষ্ঠানের আলোচকবৃন্দ। যমুনা টেলিভিশনের এই নিয়মিত আয়োজনে শনিবার অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।

এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সুন্দর থানাকটা নিজের ওপর। আজ আপনি হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করবেন; সেটা কী সুন্দরভাবে আয় করলেন নাকি অসুন্দরভাবে আয় করলেন সেটা কিন্তু নিজের ওপর। আবার কম টাকা আয় করে আপনি কি ভালো থকিবেন নাকি খারাপ থাকবেন সেটাও নিন্তু নিজের ওপর। আমি মনে করি, আমাদের কালো মেঘ কেটে যাবে। আমাদের সুন্দর সোনার বাংলা। সুন্দর এ ঢাকা শহর হবে।এটি নিয়েই কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডাক্তার বা নার্সদের জন্য কিছু নিয়ে যেতে হবে; এমন ভাবনা নিয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছি। তারা খুবই খুশি হয়েছে। দুইজন কেঁদে দিয়েছে। তারা হাসপাতালে যায়, সেখান থেকে হোটেলে। পরিবারের সঙ্গে দেখা নেই। তাদের বললাম, আপনাদের পাশে সকল জনগণ, সকল এমপি, প্রধানমন্ত্রী রয়েছে। স্যালুট ডাক্তার, আমাদের পুলিশ, আমাদের সেনাবাহিনীকে। যখন মাকে রাস্তায় ছেলে ফেলে যায়, তখন পুলিশ তাকে আশ্রয় দেয়।

নাহিম রাজ্জাক বলেন, সব পরিস্থিতিতে আমি ইতিবাচক একটি পরিস্থিতি আমি দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে নিজের মনটাকে সুন্দর করলে আমরা অপরের জন্য সুন্দরভাবে কাজ করতে পারি। রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা পরিবারকে সময় দিতে পারিনা। পরিবারকে একটু সময় দেয়া। আমরা যাচ্ছি তাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যদি মানুষের সমাবেশ করে যদি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করি, তাহলে ভুল হবে।মোট কথা হলো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটি মানুষ সামর্ অনুযায়ী যার যাকিছু ছিলো তারা কিন্তু তাই নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এটা কিন্তু পজিটিভলি দেখতে হবে। এখন সময় এসেছে রাজনীতি ভুলে একত্রে দেশের কল্যাণে কাজ করার। নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে এ বিষয়ে আমি একমত।

নিক্সন চৌধুরী বলেন, লকডাইনের পর থেকে বেশ কিছুদিন এলকায় ছিলাম। আসলে এ সময় ব্যস্ততা আরো বেড়েছে। মানুষ ফোন করছে। আমাদের সকালটা শুরু হয় রাজনীতির মাধ্যমে। এখন চিন্তাও বেশি, কাজও বেশি। তিন থানার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্চিত করেছেন। আমি আমার জীননের থেকে বেশি চিন্তা করি তাদের জীবন কীভাবে সুন্দর করা যায়। তাদের জীবন সুন্দর হলে কিন্তু আমার জীবনটা সুন্দর হয়ে যাবে। যতদিন না তাদের জীবন সুন্দর করতে না পারবো ততদিন নিজের জীব সুন্দর করার চেষ্টা করবো না। তারা যখন সুন্দর যোগাযোগ ব্যাবস্থা পাবে, চাকরি হবে, তারা পুরোপুরি বিদ্যুত পাবে। এছাড়া সব কিছু দিয়ে যখন তাদের জীবন সুন্দর করতে পারবো তখন আমার জীবনটা এমনিতেই সুন্দর হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের যদি অকারণে কেউ গালি দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইন করে শাস্তি দেওয়া উচিত। তারা এই দুর্যোগের মধ্যেও দেশে অর্থ আয় করে পাঠাচ্ছে। আর তাদের গালি দিয়ে হিরো সাজার চেষ্টা করছে। এটা বেশ কষ্টের। একটা খবরে দেখলাম। বিএনপি নেতার দাফন দিচ্ছে ছাত্রলীগ। এটাই এখন সময়। রাজনীতি ভুলে মানুষের কল্যাণে কাজ করার। দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।

ইত্তেফাক/বিএএফ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত