‘আওয়ামী লীগের কথায় নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টাচ্ছে’

‘আওয়ামী লীগের কথায় নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম পাল্টাচ্ছে’
রুহুল কবির রিজভী।ছবি: ইত্তেফাক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কথায় নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানের নাম ও পদের নাম পাল্টাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এখন কোনো কাজ নাই। নির্বাচনকে এই আওয়ামী লীগ গোরস্থানে পাঠিয়েছে, দিনের ভোট রাতে করছেন। এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইউনিয়ন পরিষদকে পল্লী পরিষদ করবেন, উপজেলা চেয়ারম্যানকে উপজেলা পিতা করবেন, সিটি মেয়রকে মহানগর পিতা করবেন। উনি এদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য যে প্রতিষ্ঠান, যে পদ্ধতিগুলো সেটা পরিবর্তন করছেন সরকারের নির্দেশে।অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের মতামত নিচ্ছেন না।কারোর কথা পাত্তা দিচ্ছেন না।’

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খানের রুহের মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

গত কয়েকদিন উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা একটা মরণযজ্ঞের মধ্যে আছি। কয়েকদিন আগে আমি উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফর করেছি, যে বাড়িতে গেছি শুনেছি সেখানে মারা গেছে কোভিড-১৯ এ। সরকার গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। মফস্বলের হাসপাতালগুলোতে কোনো চিকিৎসা নেই। ওখানে হাসপাতালে যাওয়া মানে মৃত্যুর নিশ্চিত সার্টিফিকেটে পকেটের মধ্যে করে নিয়ে যাওয়া। এর বাইরে অন্য কিছু নেই।এই সরকার শুধুমাত্র ক্রসফায়ার, গুম, খুনের মধ্য দিয়ে একটা অমানবিক, মনুষ্যত্বহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিই শুধু চালু করেনি, তারা গোটা দেশের জনগণের মৃত্যুকূপে ঠেলে দেওয়ার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করেছে।’

আরও পড়ুন: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আইন মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী কর্মসূচি

তিনি বলেন, ‘আজকে তারা (সরকার) মেগা প্রজেক্ট করেন, আজকে ফ্লাইওভার করেন, টাকা চলে যায় কানাডায়, টাকা চলে যায় মালয়েশিয়ায়, শুনি বেগম পল্লী, শুনি সেকেন্ড হোমের কথা। আর বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে করোনায় সংক্রামণে ধুকে ধুকে মরছে সাধারণ মানুষরা। আর করোনার আক্রমণে মানুষ রাস্তায় মারা যাচ্ছে, হাসপাতালের বারান্দায় মারা যাচ্ছে। সবচাইতে ভয়াবহ কাণ্ড হচ্ছে যে, নেগেটিভ করোনা পরীক্ষায় বলে দিচ্ছেন করোনা পজিটিভ, পরীক্ষায় পজিটিভ বলে দিচ্ছেন নেগেটিভ। এই প্রতারণা, জ্বাল-জালিয়াতি প্রত্যেকটার সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক আছে, আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটে লোক, আওয়ামী লীগের টকশোয়ার-এরা হচ্ছে সব এই সরকারের লোকজন। সমস্ত অমানবিকতার জন্মদাতা হচ্ছে এই সরকার।’

ছাত্র দলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের পরিচালনায় সাবেক ছাত্র নেতা খায়রুল কবির খোকন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহিদুল ইসলাম বাবুল, আকরামুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, মাজেদুল ইসলাম রুমণ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহসভাপতি হাফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত