পাঁচ শূন্য আসনে উপনির্বাচন

ঢাকার দুই আসনে মনোনয়ন চান কেন্দ্রীয় নেতারাও

সিরাজগঞ্জ-১ আসনে মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র জয়কে উপজেলা আওয়ামী লীগের সমর্থন
ঢাকার দুই আসনে মনোনয়ন চান কেন্দ্রীয় নেতারাও
ছবি: সংগৃহীত

সরকারদলীয় এমপিদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পাঁচটি সংসদীয় আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে কে পাচ্ছেন নৌকার মনোনয়ন—তা নিয়ে নানা হিসাব কষছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এক্ষেত্রে এসব আসনে আগের মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের পরিবারের এক বা একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। শূন্য হওয়া ঢাকার দুই আসনে আগে মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় নেতারাও এবার মনোনয়ন পেতে চান বলে জানা গেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র সাবেক এমপি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়কে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়ে রেজুলেশন পাস করেছে কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ। আগামী সপ্তাহে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় পাঁচ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সিরাজগঞ্জ-১, নওগাঁ-৬, পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সোমবার থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নির্দেশক্রমে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সকলকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে এবং কোনো প্রকার লোকসমাগম না করে (এক/দুই জন ব্যক্তির বেশি প্রবেশ না করা) আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আবেদনপত্র সংগ্রহের সময় অবশ্যই প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। মোহাম্মদ নাসিম, ইসরাফিল আলম, শামসুর রহমান শরিফ ডিলু, হাবিবুর রহমান ও সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে আসনগুলো শূন্য হয়। গত দুই দিনে এই পাঁচ আসনে মোট ৪২ জন মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন।

সিরাজগঞ্জ-১ :মোহাম্মদ নাসিম ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনের এমপি নির্বাচিত হন। মাঝখানে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের দেওয়া মামলার কারণে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি মোহাম্মদ নাসিম। ঐ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিজয়ী হন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়। গত ১৩ জুন মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে দলের হাইকমান্ড বাবার অবর্তমানে ছেলে তানভীর শাকিল জয়কেই এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অনেকটাই নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগও তাকে সমর্থন দিয়েছে।

আমাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং ইউপি চেয়ারম্যানগণ তানভীর শাকিল জয়কে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়ে রেজুলেশন পাস করেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, ‘আমরা সর্বসম্মতিক্রমে প্রথমে কণ্ঠভোটে এবং পরে কার্যকরী কমিটির সদস্যরা স্বাক্ষর করে প্রস্তাব পাস করেছি। আশা করছি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জয় ভাইকে প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ দেবেন।’

পাবনা-৪ আসন :ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন শামসুর রহমান শরিফ ডিলু। প্রার্থিতা প্রত্যাশীদের মধ্যে স্থানীয়দের চোখে এগিয়ে রয়েছেন তার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা গালিবুর রহমান শরিফ। গালিবের সঙ্গে নৌকার প্রার্থী হতে স্থানীয় মাঠে সক্রিয় রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রবিউল আলম বুদু সরদার, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, সাবেক এমপি পাঞ্চাব আলী বিশ্বাস, মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম রবি, আটঘরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানভীর ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাসসহ অনেকে। ইতিমধ্যে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন এ এস এম নজরুল ইসলাম, বশির আহম্মেদ, সৈয়দ আলী, মো. রবিউল আলম বুদু, মেহজাবিন শিরিন পিয়া ও মিজানুর রহমান স্বপন।

ঢাকা-৫ আসন :হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুর পর এই আসনে তার পরিবারের কেউ কিংবা কেন্দ্রীয় নেতা মনোনয়ন পেতে পারেন। মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সরব তার বড় ছেলে মশিউর রহমান মোল্লা সজল। তিনি ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এই আসনে ইতিমধ্যে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন মো. আতিকুর রহমান আতিক, হারুন উর রশিদ, এম এ কাশেম, হারুন উর রশিদ মুন্না, কাজী মনিরুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের স্ত্রী ক্রীড়াবিদ সুলতানা কামালের ছোট ভাইয়ের মেয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য নেহরীন মোস্তফা দিশি মনোনয়ন পেতে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসন :এ আসনে গত ১২ বছর ধরে এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এ আসনে নৌকার হাল ধরতে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, বিমানবন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান আলী মন্ডল, আলহাজ হাবিব আহসান, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার সক্রিয় আছেন। এছাড়া প্রয়াত সাহারা খাতুনের ভাগনে আনিসুর রহমানও মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতাও এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। ইতিমধ্যে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন মো. শাহজাহান আলী মন্ডল ও মুজিবুর রহমান।

নওগাঁ-৬ আসন :গত ২৭ জুলাই সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনটি শূন্য হয়। মনোনয়ন পেতে অনেকেই শুরু করেছেন আগাম নির্বাচনী গণসংযোগ, পথসভা, মিটিং ও সিটিং। ইতিমধ্যে আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন নাহিদ ইসলাম, শেখ মো. রফিকুল ইসলাম ও আবুল বাশার।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত