গণতন্ত্র শুধু বইয়ের পাতায় থাকলে চলবে না: ড. কামাল

মন্টু সাইয়িদ সুব্রতসহ আটজনকে গণফোরাম  থেকে বহিষ্কার

মন্টু সাইয়িদ সুব্রতসহ আটজনকে গণফোরাম  থেকে বহিষ্কার
ফাইল ছবি

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এবার মোস্তফা মহসিন মন্টু, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীসহ আটজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর বিশেষ বর্ধিত সভা ডেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াসহ চারজনকে বহিষ্কার করেছিলেন মন্টু-সাইয়িদ-সুব্রতরা। ওই বর্ধিত সভা থেকে তারা আগামী ২৬ ডিসেম্বর দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। আর শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা থেকে আটজনকে বহিষ্কারসহ আগামী ১২ ডিসেম্বর কাউন্সিলের ঘোষণা দেন রেজা কিবরিয়া।

আটজনের মধ্যে বহিষ্কৃত বাকি পাঁচজন হলেন- জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরী। এদের মধ্যে শেষের চারজনকে আগে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। গণফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মোশতাক আহমদ সভার সিদ্ধান্ত পড়ে শুনান।

সভায় উপস্থিত সদস্যরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানালেও মহানগর গণফোরামের হারুন তালুকদার দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এসব সিদ্ধান্ত সমর্থন করি না। পরে সভায় সভাপতিত্বকারী মোকাব্বির খান এমপি বলেন, একজন সমর্থন করেনি। বাকিরা হাততালি দিয়ে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। আজ যেভাবে গণফোরামকে নিয়ে কতিপয় ব্যক্তি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, গণফোরামকে নিয়ে একটা খেলায় মেতে উঠেছেন। সেটা মেনে নেওয়া যায় না।

ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এক দলকে ছেড়ে আরেক দল করা বা অন্য দলে চলে যাওয়া- এটা অনেক হয়েছে গণফোরামে। কিন্তু দলকে ছেড়ে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করাটা অন্যরকম ব্যাপার। যারা এটা করছে ভাগ্য ভালো যে আমরা তাদেরকে চিনতে পেরেছি। যারা ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে কটূক্তি করেছে আমি মনে করি তাদের এই দলে স্থান থাকতে পারে না।

গণতন্ত্র শুধু বইয়ের পাতায় থাকলে চলবে না: ড. কামাল

শনিবার কেন্দ্রীয় কমিটির এই সভায় টেলিফোনে দেওয়া বক্তব্যে দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আপনারা জেলায়-জেলায় দলকে সংগঠিত করুন, দলে তরুণ ও নারীদের সংখ্যা বাড়ান। দলের পক্ষ থেকে সারাদেশে সভা-সমাবেশ করুন এবং গণফোরামের নীতি-আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরুন। তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হবে। গণতন্ত্র শুধু বইয়ের পাতায় থাকলে চলবে না, মানুষকে অধিকার ভোগ করে দেওয়ার সুযোগ আমাদের তৈরি করে দিতে হবে।

আরেক পক্ষের মানববন্ধন

এদিকে, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ধর্ষণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে মন্টু-সাইয়িদ-সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। এতে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আজকে সারা দেশে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে। আজকে হেরোইনে আসক্ত হয়ে ক্ষমতাসীন যুবকরা যাকে-তাকে ধর্ষণ করে যাচ্ছে।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, বিশ্বের কিছু কিছু দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৪০টি দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নেই, কারণ ধর্ষণ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। আসলে মানুষের মনের খোরাক তোষামোদি করার জন্য ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কারণ যারা ধর্ষক তারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এসব করছে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত