ইমানের সঙ্গে আল্লাহতালার নিয়মকানুন মান্য করতে হবে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

ইমানের সঙ্গে আল্লাহতালার নিয়মকানুন মান্য করতে হবে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু
কয়েকটি উন্নয়নকাজ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি।

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, ‘আমাদের সবাইকে ইমানের সঙ্গে আল্লাহতালার নিয়মকানুন মান্য করতে হবে। আমরা যদি বিবেক দ্বারা পরিচালিত হই, তাহলে দুনিয়ায় বসে গুনাহ্-ঝগড়া-ফ্যাসাদ করা উচিত নয়। আল্লাহতালা ঝগড়া-ফ্যাসাদ করতে নিষেধ করেছেন। আমরা যদি আল্লাহতালার আদেশ-নিষেধ না মেনে জেনেশুনে অন্যায় করি, সেটা তিনি মাফ করবেন না।’

তিনি গত বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বাড়ির জামে মসজিদ কমপ্লেক্স ময়দানে ১৪তম বার্ষিক আট দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে আখেরি মোনাজাতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি আরো বলেন, ‘আল্লাহতালা বলেছেন, মানুষের সেবা করাই ধর্ম। আমাদের সীমাবদ্ধতা, আমাদের চরিত্রের দুর্বলতার কথা মনে রাখতে হবে। আমরা বেঁচে থাকার জন্য আহার-বিহার, কাপড়চোপড়, যা কিছু ব্যবহার করি তা সবকিছু আল্লাহর সৃষ্টি। এর কোনো কিছুই মানুষের সৃষ্টি নয়। আল্লাহ যখন যে অবস্থায় রাখে, যেভাবে রাখে সেভাবে থেকেই শুকরিয়া করা উচিত। অন্যের গিবত করা ঠিক নয়। এতিমদের সঙ্গে কখনোই খারাপ ব্যবহার করা ঠিক নয়। আমরা নিজেকে অনেক ক্ষমতাধর মনে করি এটা ঠিক নয়। ক্ষমতা আল্লার দান, যা মানুষের উপকারের জন্য ব্যবহার করা উচিত। ক্ষমতা অপব্যবহারকারীদের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না। আল্লাহ মানুষকে ক্ষমতা দেন।

৩৬ বছর ধরে আমি আপনাদের মাঝে আছি, ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে বলে এসেছি, ভিন্ন ভিন্ন দলমতের মানুষ একত্রে যে যার কাজ করবে। দলমতের পার্থক্য থাকলেও এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করেছি। কখনোই ধৈর্য হারাইনি। আল্লাহতালা ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন। তিনি পরিশ্রম করতে বলেছেন। কোরআন শরিফে বলেছেন, তোমরা পরিশ্রম করো, পরিশ্রমের ফল কখনো বৃথা যাবে না। সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে। মুখে নিয়মের কথা বলে কাজে অনিয়ম করা কাঙ্ক্ষিত নয়।’ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় নিয়ামত। অতীতে দেশে বিভিন্ন সময় জুলুমবাজ ক্ষমতাধরদের কঠিন পরিণতি দেখেছি। আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে, মৃত্যুর স্বাদ সকলকেই গ্রহণ করতে হবে। সেজন্য সব সময় তওবা করা উচিত।’

আখেরি মোনাজাতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ জাকির হোসেন নিজাম মিয়া। হযরত মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী (কুয়াকাটা) মোনাজাত পরিচালনা করেন।

অন্যান্যের মধ্যে মোনাজাত ও দোয়ায় শরিক হন ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মাহমুদ হোসেন, উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দৌহিত্র রাইয়ান মোহাম্মদ হোসেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, থানার ওসি মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস, জেপির উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান টুলু (ধাওয়া), মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী (গৌরীপুর), মো. শামসুদ্দীন হাওলাদার (তেলিখালী), মো. হুমায়ূন কবির (ইকড়ি), বীর মুক্তিযোদ্ধা খান এনায়েত করিম, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত হোসেন তালুকদার, জেপির উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক কায়ছারুল ইসলাম মালকর, যুগ্ম আহ্বায়ক হায়দার আলী হাওলাদার, ইন্দুরকানী উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন হাওলাদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, সহ-সভাপতি সহিদুল ইসলাম দোদুল, ভাণ্ডারিয়া জেপি নেতা শফিকুল আলম খোকন সিকদার, শাহারিয়ার হোসেন দুলাল মল্লিক, মো. মোশারফ হোসেন, ভাণ্ডারিয়া পৌর জেপির সদস্য সচিব আহসানুল কিবরিয়া ফরিদ মল্লিকসহ ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, ইন্দুরকানী উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ভাণ্ডারিয়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিগণ।

পৌর শহরের কানুয়ায় আরসিসি গার্ডার সেতুর উদ্বোধন —ইত্তেফাক

বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

গতকাল শুক্রবার বিকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ভাণ্ডারিয়ার কয়েকটি উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মোনাজাত মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এখানে তিনি বলেন, ‘ভাণ্ডারিয়ায় আমরা ঝগড়া-বিবাদ প্রশ্রয় দিই না। এখানে আমরা এক থাকি বলে আল্লাহর রহমত রয়েছে। এখানে যার যার রাজনীতি করবেন, কাজের সময় এক থাকবেন। আমি যেদিন থেকে এই ভাণ্ডারিয়ায় এসেছি সেই ৮৪ সালের ভাণ্ডারিয়া আর আজকের ভাণ্ডারিয়া এক নয়। অনেক উন্নয়নের পাশাপাশি ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা হয়েছে, ইউপি মেম্বাররা এখন পৌর কাউন্সিলর। এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সবাই এক থেকে আল্লাহর নির্দেশে মানুষের সেবা করতে হবে। ভাণ্ডারিয়ার যে সুনাম আছে তা কোনো সময় ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের নিয়ত ভালো, কোনো সময় আমরা অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা করি না। যারা আমাদের ভাণ্ডারিয়ায় পুরোনো অবস্থা দেখেন নাই তারা চিন্তাও করতে পারেন না এখানে কী পরিবর্তন হয়েছে। রাজনীতি মানে হলো মানুষের সেবা করা। বাংলাদেশে যখনই কোনো নতুন উন্নয়ন শুরু হয়েছে তা ভাণ্ডারিয়া দিয়ে শুরু হয়েছে। আপনাদের ভালো থাকার জন্য আধুনিক দূরদর্শী, পরিবর্তনশীল, নতুন নেতৃত্ব আসবে।’

বিকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ভাণ্ডারিয়া বাসস্ট্যান্ড-গাজীপুর-বানাই (কাঁঠালিয়া)-ভগীরথপুর বাজার (মঠবাড়িয়া) সড়কে ৭৩ মিটার দৈর্ঘ্যের নবনির্মিত আরসিসি গার্ডার সেতু উদ্বোধন করেন। এরপর ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন। এসব উন্নয়ন কাজ ছাড়াও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের সরকারি বাসভবন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি বাসভবন এবং উপজেলা পরিষদের অফিসার্স কোয়ার্টার ও ডরমেটরি ভবন উদ্বোধন করেন।

এসব উদ্বোধনকালে দোয়া ও মোনাজাতে আরো শরিক হন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির কনিষ্ঠ কন্যা দৈনিক ইত্তেফাকের অন্যতম পরিচালক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক আনুশে হোসেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সুশান্ত কুমার রায়, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহামুদ হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশিদ খশরু জোমাদ্দার, পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশিদ তারিক জোমাদ্দার, উপজেলা প্রকৌশলী মো. বদরুল আলম, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ফারুক খানসহ ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, পৌর কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।

যুব সংহতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল শুক্রবার সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির নবগঠিত বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পার্টি-জেপির রাজনীতি খুব জটিল। আমরা মারমুখী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিই না। এই রাজনীতি আমরা বিশ্বাস করি না। পরাধীন আমলে মার দেওয়া বা মার খাওয়ার রাজনীতি করতে হয়েছে। স্বাধীন দেশে যা অভিপ্রেত নয়। ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে অনেক কাজ হয়েছে, যার অনেক কিছুই সবার জানা নাই। জাতীয় পার্টি-জেপি মনে করে সরকারি অর্থ অপচয় নয়, নিয়মকানুনের মধ্যে অর্থের সদ্ব্যবহার করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা জনপ্রতিনিধি হন তাদেরও এ ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত। আমাদের রাজনীতি হলো স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনীতিকে রূপ দেওয়া। আমরা ঐক্যের রাজনীতি করি। যারা মূল উত্পাটনের রাজনীতি করতে চান তাদের মনে রাখতে হবে এসব অপরাজনীতি পরাধীন আমলের, স্বাধীন দেশের নয়।’

ভাণ্ডারিয়ার ‘তাসমিমা ভিলা’ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপজেলা সদস্য সচিব মো. মামুনুর রশিদ সরদার, ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যে মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার, মো. হাসান জোমাদ্দার, মো. লিটন তালুকদার, আব্দুর রহমান হাওলাদার, মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার, আনোয়ার হোসেন আনোয়ার, মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক সালাহ্উদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার, পৌর ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব মাহাবুব শরীফ শুভ প্রমুখ। এ সময় জেপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপির মহিলা পার্টির উপজেলা সভানেত্রী এবং উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তারসহ যুব সংহতি ও ছাত্রসমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ইত্তেফাক/এনএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x