ফরিদপুর আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব নিরসনের নির্দেশ শেখ হাসিনার

ফরিদপুর আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব নিরসনের নির্দেশ শেখ হাসিনার
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতাকা [ফাইল ছবি]

ফরিদপুর জেলা কমিটির ওপর আবারও ক্ষুব্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিল না হলে প্রয়োজনে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে এই নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি।

ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে জেলার সভাপতি সুবল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হেসেনের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আলোচনা উঠলে এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের জমা পড়া পৃথক দুটি কমিটিও বাদ দিতে বলেন শেখ হাসিনা। তবে ঐ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে বসে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয় করার কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বিরোধ নিষ্পত্তি, সমন্বয় করার চেষ্টা বিফলে গেলে সিনিয়র সহ-সভাপতিকে আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করে দিতে বলেন তিনি।

শহর আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে ফরিদপুর জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নতুন বিরোধে জড়িয়েছেন। তবে বিরোধ নিষ্পত্তির সব চেষ্টা করতে বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে একাধিক সদস্য আরও বলেন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দলাদলি ও দ্বন্দ্ব নিরসন করতে ঢাকায় ডেকে পাঠানোর নির্দেশও দেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিরোধ নিষ্পত্তি না হলে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে ব্যবস্থা নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য জানান, যেখানেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ সেসব জেলা-উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতাদের ডেকে সমন্বয় ও নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করতে হবে। তাতেও সম্ভব না হলে বিরোধপূর্ণ ইউনিটের নেতাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে জানিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

মনোনয়ন বোর্ডের আরেক সদস্য বলেন, বিভাগীয় দায়িত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয় করে আওয়ামী লীগের যেসব কমিটি করা হয়েছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে দিতে বলেন শেখ হাসিনা।

মনোনয়ন বোর্ডের সভায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, করোনাকালে নির্বাচনের কারণেই ভারতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচন কমিশনের ওপর হস্তক্ষেপ করবে না তারা।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x