ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬
৩১ °সে

‘ভাঁওতাবাজির নির্বাচনে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে’

‘ভাঁওতাবাজির নির্বাচনে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সবাই বলেছেন গণতন্ত্র সংবিধানের মূলনীতি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সবাই প্রহসন বলেছেন। নাটক বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি এটা একটা ভাঁওতাবজি বলা যেতে পারে। দুঃখজনক ৩০ ডিসেম্বরের মত ঘটনা কেনো করতে হলো। এরপর পরেরদিন বলা হল আমি তো পাঁচ বছরের জন্য এসে গেছি। আমরা মনে করি এ ধরনের কাজে ১৬ কোটি মানুষকে অপমান করা হয়েছে। ষোল কোটি মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি ১৬ কোটি মানুষ এটা মেনে নেবে না। আমাদের যা করণীয় আছে তা আমরা করব।

গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পুত্র রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত এক শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর অবদান আমাদের প্রেরণা যোগাবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এটা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে রাশেদ সোহরাওয়ার্দীর নাম এদেশে চিরস্বরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতি বছরই জাতি তাকে এ ভাবে স্মরণ করবে। বিশেষ করে তার অবদান তরুণ সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তাদেরকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

শোকসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, দেশে উদার গণতন্ত্র অনুপস্থিত। রাজনীতির নামে এখন হচ্ছে হিংসা, বিদ্বেষ। সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে আসুন রাজনীতিক হিংসা ভুলে গিয়ে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতি করি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ট ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, রাশেদের মৃত্যুতে এক আলোকোজ্জ্বল পরিবারের শেষ প্রদীপটি নিভে গেল। শহীদ সোহরাওয়াদীর রাজনৈতিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক উদারতা, দূরদর্শীতা, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলী বিদায় নিতে নিতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে সেটা সবাই জানে। তিনি বলেন, জনগণের কর্মচারীদের সগযোগিতায় জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আসলে এটা নিজেরা নিজেদের বঞ্চিত করেছে। এটা স্বাধীন দেশের মানুষের জন্য লজ্জার। এ সব দেখে লজ্জা হচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগছে রাজনীতি কোথায় নেমে এসেছে। রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের হাতে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়, রাশেদের মৃতদেহটা দেশে আনতে পারতো। কেন যে আনা হলো না খুব কষ্ট হচ্ছে।

আরও পড়ুন: অপপ্রচার ঠেকাতে পুলিশের কাছে জেসিয়া

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সঙ্কট নিরসনে সংলাপের বিকল্প নেই। এরজন্য খোলামেলা আন্তরিক হতে হবে। এভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে না। ঐক্যফ্রন্ট নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, যারা কারাগারে আছেন তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া মুক্ত করা যাবে না। আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের মধ্যে সেই মনুষত্ব নেই। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করল না। এটা কি শুধু কোন রাজনৈতিক নেতা করবে, কোনো রাজনৈতিক দল করবে? এটা হয় না।

তিনি বলেন, দলীয় কর্মীদের ওপর নির্ভর নয়, জনগণের শক্তির ওপর ভর করে আন্দোলন করতে হবে। শোকসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোকাব্বির খান প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এমআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন