ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
৩৩ °সে


গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোনের মতবিনিময় সভায় বক্তারা

ব্যবসায়ী বান্ধব বাজেটে কর্মসংস্থানের দিক নির্দেশনা নেই

ব্যবসায়ী বান্ধব বাজেটে কর্মসংস্থানের দিক নির্দেশনা নেই
ছবি: সংগৃহীত

বাজেট হয় দেশের উন্নয়নের জন্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য। কিন্তু সংসদের যে বাজেট পেশ করা হয়েছে তা হচ্ছে ধনী ও ব্যবসায়ী বান্ধব। এখানে শ্রমিকদের জন্য কিছু নেই। কৃষকের জন্য বরাদ্দ নেই। শিক্ষার উন্নতির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। ঋণ নির্ভর এই বাজেটের লক্ষ্য লুটেরাদের পকেট ভারি করা। বাজেট প্রণয়নের জনগণের মতামত নেওয়া হয় না। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না। এই বাজেট মুক্তিযুদ্ধের দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সভার আয়োজন করে গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন (ডিবিএম)। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা। স্বাগত বক্তব্য দেন নুরুল আলম মাসুদ প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক ডিবিএম। একশন এইডের সঞ্চালনা করেন আসগর আলী সাবরি।

মূল প্রবন্ধে প্রস্তাবিত বাজেটকে দায়সারা গোছের দায়সারা গোছের প্রথা বদ্ধ উল্লেখ করে বলা হয় এখানে দেশের মূল সমস্যাগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। ভৈষম্য কমানোর দিকে নজর দেওয়া হয়নি। মান সম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ শেষ আন্দ্রে রাসেলের

সভায় ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাহ বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন জেলায় জেলায় বাজেট দেওয়া হবে। একটা জেলার মডেল বাজেট দেওয়ার পর এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি নেই। এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন বলেন, বাজেট পেশের আগে জনগণের মতামত নেওয়া হয় না। জন প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের সাথে আলোচনা করা হয় না। এমনকি সংসদীয় কমিটিগুলোতেও এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয় না। তাহলে বাজেট আসলে প্রণয়ন করে কে ? বাজেটের ধনীদের জন্য সুবিধা দেওয়া হয়। এই নীতি মুক্তিযুদ্ধের দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আগের অর্থমন্ত্রী তাও রাখ ঢাক করে চলতেন বলতেন। বর্তমান অর্থমন্ত্রীর কোনো কিছু গোপন থাকছে না, প্রস্তাবিত বাজেটেই এর প্রমাণ। অর্থমন্ত্রী বলছেন দেশ কানাডা হয়ে গেছে। বাংলাদেশ কানাডা হওয়ার জন্য তো মুক্তিযুদ্ধ হয় নি। যে দেশে মুক্তিযোদ্ধারা গরীভ থাকবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর নামে তাদের কিছু ভাতা বরাদ্দ দেওয়ার দর্শনের সাথে তিনি একমত নন।

বাদশা বলেন, কৃষকের বাম্পার ফলনে সরকার বিবৃত হয়েছে মনে হচ্ছে। না হলে একই সময়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় কিভাবে। সরকারে অন্যতম শরীক দলের এই নেতা বলেন, মন্ত্রীরা প্রায় চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কথা বলে যা হবে প্রযুক্তিভিত্তিক। শিক্ষায় কম বরাদ্দ দিয়ে, প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের মাসব্যাপী অনশন দিয়ে কিভাবে এই বিপ্লব হবে তা মাথায় আসে না। তিন টাকা পাচার কারীদের নব্য রাজাকার বলে অবহিত করেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, বাজেট হয়েছে লূটেরা শ্রেণীর জন্য কারণ চোরের নজর সব সময় বস্তার দিকে। সরকার উন্নয়নের নহর বইয়ে দিচ্ছে, ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান দিচ্ছে। আরেক দিকে কাজের খোঁজে ভূমধ্য সাগরের যুবকেরা জীবন দিচ্ছে। আহা উন্নয়ন। বিএনপির অস্তিত্ব নেই। কিন্তু সরকার তাকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে খোঁচাখুঁচি করছে। যেখানে সরকারের প্রতীক্ষা হওয়া উচিত ছিল দুর্নীতি, অপশাসন, অস্বচ্ছতা। তিনি বলেন, ঘরে বসে সমালোচনা করে লাভ নেই পথে নামতে হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা আবদুল্লাহ আল কাফী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ধনী, ব্যবসাবান্ধব বাজেট। এর ফলে জনগণের মধ্যে বৈষম্য বাড়বে। এ বাজেটে পোশাক মালিকদের জন্য প্রণোদনা রাখা হয়। কিন্তু শ্রমিকদের জন্য কিছু বলা হয় না। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ওপর দুই শতাংশ প্রণোদনা রাখার প্রশংসা করেন সিপিবির এই নেতা। বাজেটের আগে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তারা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু বাজেটের তাদের জন্য কিছু বলা নেই। তিনি প্রকৃত কৃষকের মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা ভর্তুকি প্রদানের দাবি জানান। কাফী বলেন, বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু কর্মসংস্থান বিযুক্ত প্রবৃদ্ধি দেশের জন্য সুখকর নয়। বরং তা বৈষম্য বাড়িয়ে দেবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, বাজেট বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাজেটের বরাদ্দ নিয়ে আলোচনার চেয়ে ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। ১০০ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৬০ টাকা লুটে নেওয়া হচ্ছে। তাই সরকারের নীতিতে পরিবর্তন না আসলে বরাদ্দ বাড়িয়েও লাভ নেই। সব লুট হবে। সাকি বলেন, যে সরকার ১১ বছর ধরে টানা ক্ষমতায় থেকে ঢাকা নিয়ে সামগ্রিক পরিকল্পনা নিতে পারে না। সুবিধাভোগী গ্রুপের স্বার্থে একই নগরে সাংঘর্ষিক প্রকল্পের অনুমোদন দিচ্ছে। তাদের কাছে পুরো দেশের জন্য সমন্বিত বাজেট প্রত্যাশা করাই দুরাশা। গণসংহতির প্রধান সনম্বয়ক বলেন, সরকার প্রতি বছর লাগামহীণভঅবে প্রকল্পের ব্যয় বাড়াচ্ছে। এই বরাদ্দ বাড়নো হচ্ছে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর ভর করে। যে সরকার ভেঅটের ধার ধারে না তারা জনগণের জন্য বাজেট দেবে কেনো। সাকি বলেন, কর আদায় ব্যবস্থার আধুনিয়কায়ন প্রয়োজন। রাজস্ব¦ বোর্ড সেদিকে নজর না দিয়ে সহজ আয়ের দিকে ঝুঁকে থাকে। এতে যাদের কর দেওয়ার কথা তারা ফাঁকি দিতে পারে আর সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সংবিধানে অবৈধ উপার্যনের বিরোধীতা করা হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করা সরকার বার বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে, এটা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী নয়। তিনি বলেন, প্রবসী আয়ের ওপর প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এখন কালোটাকা পাচার করে রেমিটেন্স হিসেবে দেশে পাঠিয়ে এই প্রণোদনা লুট হবে না সেই ভরসা কে দেবে? পরিবেশ দূষণ করে উন্নয়ন মডেল দাঁড় করানো হচ্ছে। তিনি পরিবেশ দূষণকারীদের ওপর দূষণকর আরোপের প্রস্তাব করেন।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন