ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
৩০ °সে


ছাত্রলীগে সমন্বয়ের অভাবে আটকে আছে হল কমিটি

ছাত্রলীগে সমন্বয়ের অভাবে আটকে আছে হল কমিটি
কার্জন হল। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন। সম্মেলনের তিন মাস পর ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন। পদায়নের ১৪ মাসেও হয়নি ১৮টি হলের কমিটি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কর্মী তৈরিতে সময়ক্ষেপণ, হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা ভাগাভাগি নিয়ে আটকে আছে হলগুলোর কমিটি।

ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ওপর নির্ভর করে। তারা বলছেন, হল ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীরা এ চার জনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে তারাই হলগুলোরর সভাপতি-সাধারণ সম্পদক পদ ভাগাভাগি করে নেন।

তবে গত মাসে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বাধ্যতামূলক অব্যাহতির পর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিজেদের কর্মী তৈরির জন্য অপেক্ষা করছেন। যে কারণে হল কমিটি করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

এ বিষয়ে আল নাহিয়ান খান বহিরাগত এবং অতি উত্সাহীদের বাছাই করতে সময়ক্ষেপণ করছেন জানিয়ে বলেন, ছাত্রলীগে অতি উত্সাহী এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাই আমরা দ্রুততার সঙ্গে এই কমিটি দিতে পারছি না ।

এদিকে কমিটি না হওয়ায় হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের অনেকেই কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে হল পরিচালনা করতে গিয়ে দোটানায় পড়তে হচ্ছে তাদেরকেও। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ‘সাংগঠনিক জেলা’র মর্যাদা পায়। আর জেলা শাখার মেয়াদ এক বছর। সে হিসেবে দুই মাস আগে শেষ হয়েছে বর্তমান কমিটির মেয়াদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী এক নেতা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত হল কমিটি হয়নি। কবে নাগাদ কমিটি হবে তাও জানিনা। ফলে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করা হাজার হাজার নেতাকর্মীর।

ছাত্রলীগের একটি সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কমিটি দিতে চাইলেও কেন্দ্রীয় কমিটির অসম্মতির কারণে তারা দিতে পারছেন না হল সম্মেলন।

এ বিষয়ে হলের একাধিক পদপ্রার্থী বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে কমিটি না থাকায় হলগুলোতে অসংখ্য উপগ্রুপ তৈরি হয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে কোনো ধরনের শৃঙ্খলা নেই। তারা জানান, কমিটি না থাকায় দুটি সেশনের জট পড়ে গেছে। অনেক কর্মী রাজনীতির প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সহসভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হল কমিটি না থাকায় কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছে। দীর্ঘসূত্রতার ফলে দলীয় রাজনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, হল কমিটি নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। খোঁজখবর নিচ্ছি কারা নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য। এবার জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা অনুযায়ী নেতা নির্বাচন করা হবে। আমরা কমিটি দেওয়ার বিষয়ে কালক্ষেপণ করছি তা ঠিক নয়। দুই-এক মাসের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন