ঢাকা বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


ধুঁকছে ভুবনেশ্বর নদ

ধুঁকছে ভুবনেশ্বর নদ

ভুবনেশ্বর নদ কুচুরিপানায় সয়লাব হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। দখল-দূষণ ও কর্তৃপক্ষীয় তদারকি না থাকায় নদটি ফরিদপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। সরকার নদী রক্ষার প্রকল্প হাতে নিলেও ঐ প্রকল্পে ভুবনেশ্বর নদের নাম নেই। ভুবনেশ্বর নদই ছিল এক কালে ফরিদপুরের প্রাণ। পরে কুমার নদ খনন করে ফরিদপুরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফরিদপুরের সঙ্গে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশালসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীপথে যোগাযোগের একমাত্র পথ ছিল ভুবনেশ্বর নদ দিয়ে। নদটি ভরাট ও বিভিন্ন স্থানে নদের জমি দখল হয়ে যাওয়ায় এর অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। স্রোতধারা বন্ধ হওয়ায় স্থানে স্থানে পানি দূষিত হয়ে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ভূমিদস্যুরা দখল করে নিচ্ছে নদের হাজার হাজার একর সরকারি খাসজমি। পদ্মা নদী ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের নাড়ারটেক নামক স্থানের উত্সমুখ থেকে শহরের টেপাকোলা, চরভদ্রাসন উপজেলার চরহাজিগঞ্জ বাজার, নগরকান্দা উপজেলার হাটগজারিয়া বাজার, সদরপুর উপজেলার হাটকৃষ্ণপুর, সদপুর সদর বাজার, বাবুরচর বাজার হয়ে দীর্ঘ প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পিঁয়াজখালী নদীবন্দরের কাছে আড়িয়াল খাঁ নদে মিলিত হয়েছিল। অতীতে ঐ নৌপথে স্টিমার, লঞ্চ, গয়নাসহ বড়ো বড়ো নৌকা যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল করত। নদটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাড়ের হাট-বাজারগুলোতে আর প্রাণচাঞ্চল্য নেই। দুপাশের কৃষিজমিতে পলি পড়ে না, বন্ধ হয়ে গেছে কৃষি সেচব্যবস্থা। এ অবস্থায়, নদটির জমি উদ্ধার করে খনন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আবেদন জানাচ্ছি।

আবদুল মজিদ মিয়া

সদরপুর, ফরিদপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১১ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন