অন্যের চরকায় তেল নয়, নিজের দিকে তাকানো প্রয়োজন

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিগতভাবে আমরা কি খুব বেশি পরচর্চা পছন্দ করি? ইদানীং বিষয়টি বেশ ভাবায়। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে পরচর্চার যে কালচার শুরু হয়েছে, এর ভবিষ্যত্ পরিণতি কি আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে? কারো ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কেন এত মাথাব্যথা! আমাদের কেন গা জ্বলে যায়, কেউ যদি ঠিক পথে না থাকে, তবে তার পরিণতির জন্য সে নিজেই দায়ী থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়াতে কাউকে ছোটো করে আমাদের কী লাভ হচ্ছে! শুধু আমরা নিজেকে একটি নিচু মানসিকতার মানুষ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছি। কাউকে অপমান অথবা ছোটো করে কখনো নিজেকে বড়ো প্রমাণ করা সম্ভব? এই সাধারণ ব্যাপারটি আমরা কেন উপলব্ধি করি না, যার যার জীবনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিজের, ভুল কিছু করলে সে নিজেই এর ফল ভোগ করবে, এতে আমার বা আপনার কী, আপনার যদি কাজটিকে সঠিক মনে না হয়, আপনি সে কাজকে এড়িয়ে যান, আপনি সঠিক কাজ করে ভালো থাকুন। না, অন্যকে অপদস্ত করা কোনো বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে না।

সমালোচনা যদি করতেই হয়, গঠনমূলক করুন। পরচর্চার কালচারটুকু বাদ দিতে পারলে আমরা সামগ্রিকভাবে আরো এগিয়ে যেতে পারতাম বলে আমার মনে হয়। কারো সম্পর্কে কটূক্তি করা, কাউকে নিয়ে উপহাস করার আগে একটু নিজের বিবেক দিয়ে ভাবুন। অবশ্য এর জন্য পারিবারিক শিক্ষার  প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের চরকায় তেল না দিয়ে নিজের চরকায় তেল দেওয়ার চর্চা করতে হবে। সবাই হয়তো পারিপার্শ্বিকতার কারণে শিক্ষিত হতে পারে না, কিন্তু বিবেকবান হতে অসুবিধা কোথায়। চলুন পরচর্চায় সময় অপচয় না করে আমরা নিজেদের কাজ আর দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করি, আলোর পথে এগিয়ে যাই।

ডা. শায়লা শান্তা

সৌদি প্রবাসী চিকিত্সক