বিলকুমারী সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারের পরও বেহাল!

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিবনদীর বিলকুমারী বিলের সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কারের পরও কাজে আসছে না। সংস্কারের পর সংস্কার চলছে কিন্তু অবস্থা একই থেকে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বন্যার পানিতে এটি ভেঙে যায়। আবার প্রতি বছরই তা সংস্কার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজ এর জন্য দায়ী। বছরের পর বছর এমনভাবে কাজ করছে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

২০০৩ সালে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর মাঝখানে ২১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় জেলার তানোর উপজেলার শিবনদীর বিলকুমারী বিলে। যা তানোর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনপুরের সংযোগ সেতু। দুই পারের মানুষের সেতুবন্ধনে যেমন সেতুটি ভূমিকা রেখে চলেছে তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু যাতায়াতের জন্য সেতুর বেহাল রাস্তা চরম দুর্ভোগে ফেলছে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষকে।

গোল্লাপাড়া গ্রামের মত্স্যজীবী বিশ্বজিত কুমার হালদার, প্রতাব               কুমার হালদারসহ আরো অনেকে জানান, দীর্ঘদিন থেকে এই সেতুর               রাস্তার বেহাল অবস্থা। একবার ঠিক করে আবার পরের বছরেই                      মাটি ধসে যায়। ফলে রাস্তা চলাচলে অসুবিধা হয়। আসল সমস্যা কি তা চিহ্নিত করে এর ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে প্রতি বছরই রাস্তা মেরামত করতে হবে।

এ নিয়ে তানোর পৌরসভা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ইলিয়াস আলী মৃধা বলেন, দুই উপজেলার মানুষের পারাপারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এটি। দীর্ঘদিন এই সেতুর রাস্তা বন্যায় ভাঙে আবার করা হয়। আমার মনে হয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে এমনটি হচ্ছে। তাছাড়া সংযোগ রাস্তাটি সরু না করে ৪০ ফিট  প্রশস্ত করলে এমনটি হতো না।

এ বিষয়ে তানোর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে প্রতি বছর এই সেতুর সংযোগ রাস্তা পারাপারে বেহাল অবস্থার শিকার হচ্ছে জনগণ। এ থেকে নিস্তার পেতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

তানোর পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, প্রত্যেক বছরই এই রাস্তা সংস্কার করে সরকারের ব্যয় বাড়ছে। সেতুর রাস্তার দুই পাশে আরো প্রশস্ত করে বাউন্ডারি দিলে এমন হতো না।

তানোর এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এখনো আগের কাজেরই বিল দিইনি।’ এ বিষয়ে এক্সচেঞ্জ সারের সঙ্গে কথা বলেন আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

তানোর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার সড়কটিতে বালু, জিও ব্যাগ, সিমেন্ট দিয়ে সংস্কার করা হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ফলে এর চেয়ে বেশি তথ্য তার কাছে নেই। প্রতিবছরই ঐ সড়কটির সংস্কার কাজ করা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে এই প্রকৌশলী কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।