৪০ কোটি টাকা নিয়ে ডেভেলপার কোম্পানির দুই মালিক উধাও

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় শতাধিক গ্রাহকের মাথায় হাত

 কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গোল্ড ডায়মন্ড প্রপার্টিজ নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যান পিন্টু সাহা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্টু সাহা (দুই ভাই) পরিবারসহ ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর থেকে নগরীর রানীর বাজার এলাকার ঐ কোম্পানির তালাবদ্ধ কার্যালয়ের সামনে ও তাদের বাড়িতে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। গ্রাহকরা বলছেন, একটি ফ্ল্যাটের আশায় তাদের অনেকে সারাজীবনের সঞ্চয়, কেউ ব্যাংক থেকে ও নানাভাবে ঋণ করে টাকা দিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডায়মন্ড প্রপার্টিজ ডেভেলপার কোম্পানি নগরীর রানীর বাজার এলাকায় কার্যালয় স্থাপন করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। হঠাত্ করে কোম্পানির চেয়ারম্যান পিন্টু সাহা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্টু সাহা পরিবারসহ উধাও হয়ে যান। এ নিয়ে গত দুই দিন ধরে শহরে আলোচনার ঝড় বইছে। সরেজমিনে গিয়ে ঐ ডেভেলপার কোম্পানির অফিস তালাবদ্ধ দেখা যায়। সেখানে পিন্টু ও মন্টু সাহার পৈতৃক বহুতল ভবন রয়েছে। দুই ভাইয়ের বাসায়ও তালা ঝুলছে। তারা পরিবারসহ কোথায় গেছে তা তাদের মেজো ভাইসহ আশপাশের কেউ বলতে পারছেন না। ঐ কোম্পানির বাগিচাগাঁও এলাকায় একটি, তালপুকুর পাড়ে তিনটি, নওয়াব ফয়জুন্নেছা স্কুলের পাশে একটি, পুরাতন চৌধুরী পাড়ায় একটি, মিশনারী স্কুলের পাশে একটিসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের ১০-১২টি নির্মাণাধীন প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের গ্রাহকদের মধ্যে চাকরিজীবী, রাজনীতিবিদ, চিকিত্সক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। ব্যবসায়ী সুলতান সফিউল্লাহ রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঐ কোম্পানির চেয়ারম্যান পিন্টু সাহা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্টু সাহা আমাকে শহরের মিশনারী স্কুলের পাশের নির্মাণাধীন নাজমা পার্ক হেভেনে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘ডেভেলপার কোম্পানিটির কাছে একটি পক্ষ টাকা পেত, তিনি দরবার করে ২৬ লাখ টাকার মধ্যে ১৪ লাখ টাকা উদ্ধার করে দিয়েছিলেন। এখন শুনছি তারা উধাও হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা যোগাযোগ করলে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।’ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’