ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


প্রকৃতি

বাতাসে ছাতিম সুবাস

বাতাসে ছাতিম সুবাস

‘ইমতিয়াজ বলল, কী ফুলের গন্ধ বেরুচ্ছে আব্বু? তাদের মা বলল তাদের জেঠামশায়ের ভিটার পিছনে ছাতিম গাছ আছে, সেই ফুলের গন্ধ। ছাতিম ফুলের উগ্র সুবাসে হেমন্তের আঁচলাগা শিশিরাদ্র রাতের বায়ু ভরে যায়। মধ্যরাতে বেণুবন শীর্ষে কৃষ্ণপক্ষের চাঁদের ম্লান জ্যোত্স্না উঠে শিশিরসিক্ত গাছপালায় ডালে পাতায় পাতায় চিকচিক করে।’

দ্বিজেন শর্মা লিখেছেন, ‘কোনো হেমন্ত সন্ধ্যায় ইমতিয়াজের মতো তোমরাও হয়তো এমন মধু গন্ধের ভাগ পেয়ে থাকবে। ছাতিমের ডালের গাঁটে থাকে ৫-৭টি পাতা, তাই এর আরেক নাম সপ্তপর্ণী। পাতাগুলি বেশ লম্বা। ফলগুলি সরু আর লম্বা, পাকলে পাশুটে রঙের, নইলে সবুজ থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। ছাতিমের বীজগুলি ভারি মজার, ছোট একটা কাঠির মতো, দুমাথায় এক থোকা করে বাদামি রোম, যাকে বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। বীজগুলি দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বংশবিস্তারে খুব সুবিধা। একদিন একটা পৌঁছতে পারে জানালা গলিয়ে তোমাদের ঘরেও। ছাতিমের সঙ্গে শিক্ষাদীক্ষার একটা যোগ আছে। গাছটা চিরসবুজ। ছায়া দেয় ভালো। আগের দিনে পাঠশালা বসত ছাতিমের তলায়।’

জাহাঙ্গীরনগরে এক বড়ো আপু একদিন বলছিলেন যে তার বাসার সামনে একটা ছাতিম গাছ আছে। সন্ধ্যাবেলায় বিদেশে কি পাওয়া যাবে এমন ছাতিমের সুবাস! তখনো ছাতিমের গাছ বা সুবাস কারো সঙ্গেই পরিচয় নেই। বছর দেড়েক পর দেখলাম সিলেটে সার্কিট হাউজ পেরিয়ে বড়ো এক গাছভর্তি ফুল, মৌমাছি আর প্রজাপতির ওড়াউড়ি। নাম জানা নেই। কত নাম অজানা রয়ে যায়! লক্ষ্মীপুর মাদাম ব্রিজের উত্তর পাশে একটা জোয়ান ছাতিমগাছ, তার ফুলেই পুরো গাছ মুড়িয়ে রাখে। দেখতে যেন বিশাল একটা পুষ্পমঞ্জুরী।

কয়েকদিন আগে মাঠময় ছড়িয়ে পড়া উগ্র-সুবাসিত সন্ধ্যায় একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ফুলের গন্ধ?’ হুট করে সেই বড়ো ইমতিয়াজের কথা মনে পড়ল। মনে-প্রাণে বলতে চাইলাম ছাতিম, বললাম শিরীষ। হিমুর কোনো এক বইতে ওসি সাহেবকে খাগড়াছড়ি বদলি করা হয়। সেই ওসি সাহেব সন্ধ্যাবেলায় হাতির ভয়ে শিরীষ গাছে উঠে বসে থাকেন। এজন্যই হয়তো শিরীষ নামটা মাথায় ছিল। অবশ্য শিরীষগাছ এখনো চিনি না। ফুল ফুটলে তাও দু-একটিকে চেনা যায়, কিন্তু ফুল না থাকলে কিছু ফলের গাছ বাদে প্রায় সবাই অচেনা।

পুনশ্চ: গন্ধে টের পাচ্ছি আমাদের লক্ষ্মীপুরে ছাতিমেরা বেশ ভালো সংখ্যাতেই আছে। এমনকি ঘরে বসেও পাওয়া যায় মধু-গন্ধের ভাগ। যদিও জানালা আজীবন বন্ধই রাখলাম, তবু অপেক্ষায় আছি ব্যালকনি অব্দি পৌঁছতে পারে কি না সুপ্ত ছাতিমের দল। আমার বাড়ির দুপাশে দুটো ছাতিম রেখে শুধু ঘ্রাণে ব্যকুল হবো বলে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন