ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
৩৫ °সে

অণুগল্প

সোলেমান মাস্টার

সোলেমান মাস্টার

তারপরেও আক্কেলপুর ছাড়ে না সোলেমান মাস্টার। লোকে বলাবলি করলে কী হবে ব্যাপার তো সামান্য নয়! যদিও লোকটির প্রতি সবাই বিরক্ত। কিন্তু মুখ খোলে না কেউ। স্কুলে আসার পথে ছাত্রদের নিয়ে রাস্তাঘাটের চারপাশের ময়লা-আবর্জনা সাফ করো ভালো কথা। ডাস্টবিন বানিয়ে সেখানে প্রতিদিন ছাত্রদের ময়লা ফেলার অভ্যাস করো ভালো কথা। পানির বোতল, পলিথিন, টুকরো কাগজ, চিপসের প্যাকেট, সিগারেটের প্যাকেট, ছেঁড়া স্যন্ডেল-জুতো, নেটের ব্যাগ, কলার খোসা, কাগজের ঠোঙা, আইসক্রিমের প্যাকেট, কাঠি, আমড়ার আঁটি, এই অখ্যাত গ্রামগঞ্জেও চলে এসেছে ওয়ান টাইম চায়ের কাপ-প্লেট, নানা ড্রিংসের বোতল, আরো কত যে কী তার কোনো হিসেব-নিকাশ নেই। আবর্জনা বাড়ছেই কেবল।

ছবির মতো একটা গ্রাম। এর থেকে ছোট্ট আর সুন্দর গ্রাম কোথাও আছে বলে মাস্টারের জানা নেই। সেই গ্রামের অলিগলি হাটবাজার—যে যেখানে পারছে আবর্জনা ফেলে অসুন্দর করে তুলছে। যেন রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতায় নেমেছে সবাই। স্কুলের পাশ দিয়ে তিরতির করে বয়ে যাওয়া খালের মুখটা বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে টেকা দায়। মাস্টার এরই বিরুদ্ধে নেমেছে তার ছাত্রদের নিয়ে। লোকে বাহবাও দিচ্ছিল। কিন্তু নিজের সর্বনাশ নিজেই টেনে আনল যেদিন সে পঞ্চাশ হাত পরপর পুঁতে রাখা বাঁশের চোঙ্গায় রাস্তায় রাস্তায়, দেয়ালে দেয়ালে এমনকি গাছে গাছে লাগিয়ে রাখা ছোটো বড়ো পোস্টারগুলোর দিকে নজর দিল। কোনটা কাত চিত হয়ে পড়ে আছে হাটু ভাঙা দ’য়ের মতো। কোনোটা বা মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বুলবুলের আঘাতে কিছু পোস্টার ফ্রেম ভেঙে ছিঁড়েখুঁড়ে বীভত্স অবস্থায়। দেখতে বড়ো বিশ্রী লাগছে। এগুলোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সেই হলো তার কাল!

মাস সাতেক আগে হয়ে যাওয়া ইউপি নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যানের ছবিসহ পোস্টার, এ তো যা-তা বিষয় নয়। সরিয়ে ফেলার তো প্রশ্নই ওঠে না। তার উপর চেয়ারম্যান সাহেব আবার স্কুল কমিটির মা-বাপ। কথাটা কানে যেতে তার সময় লাগল না। জরুরি তলব হলো মাস্টারের।

—তোমাকে আর মাস্টারি করতে হবে না। চাকরি শেষ। তোমার পছন্দের ছাত্রদেরও স্কুলে আসা বন্ধ। তাদের নিয়ে তুমি কাত চিত হওয়া পোস্টারগুলো সোজা করবা, ছেঁড়া পোস্টারগুলো নতুন করে লাগাবা। এই হলো নতুন চাকরি। অর্ডার দিয়ে তিনি বিদেশ গেলেন ক্লিন বাংলাদেশ নামের একটি ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে।

ছাত্রদের নিয়ে মাস্টার হাসিমুখে লেগে গেল নতুন চাকরিতে। সমস্ত পোস্টার সরিয়ে সব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। রাস্তাঘাট আবার ঝকঝক করতে লাগল।

বিদেশফেরত চেয়ারম্যান এ দৃশ্য দেখে এমন হায়দরি হুংকার ছাড়ল মনে হলো সমস্ত গ্রাম বুঝি ভেঙে পড়বে। কিন্তু চারদিক সুনসান।

ছাত্রদের নিয়ে মাস্টার আজ সাজুয়ার বিলে পাখি দেখতে গেছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মার্চ, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন