ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


নাইজেরিয়ার উপকথা

বজ্র ও বিদ্যুত্

বজ্র ও বিদ্যুত্

এক দেশে বাস করত এক বুড়ি। বুড়ির ছিল এক ছেলে। বুড়ির নাম বজ্র। ছেলের নাম বিদ্যুত্। বিদ্যুত্ ছিল বদমেজাজের। অকারণে সে মানুষের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিত। মা ভীষণ গর্জন করে ছেলেকে শাসন করত। বজ্র-মায়ের গর্জনে প্রতিবেশীদের কানে তালা লেগে যেত।

মা-ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন প্রতিবেশীরা রাজার কাছে গিয়ে নালিশ করল। রাজার কাজ দেশে শান্তি বজায় রাখা। তিনি মা ছেলে দুজনকে রাজ্যের দূরবর্তী এলাকায় নির্বাসন দিলেন।

দিন কয়েক দেশবাসী শান্তিতে কাটাল। আবার শুরু হলো উত্পাত। বিদ্যুত্ দূর থেকে আগের চেয়ে জোরে আগুন ছুড়ে মারতে শুরু করল। বজ্র ছেলেকে শান্ত করার জন্য ভয়ংকর গর্জন করতে লাগল। মানুষের বাড়িঘর বিদ্যুতের আগুনে পুড়ে ছাই হতে লাগল, একইসঙ্গে বজ্রের গর্জনে মানুষের কানে তালা লেগে যেতে লাগল।

লোকজন আবার মা ও ছেলের বিরুদ্ধে রাজার কাছে গেল। রাজা দেশের জ্ঞানী লোকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রাজা মা ও ছেলেকে মেঘের দেশে পাঠিয়ে দিলেন। মা ও ছেলের অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেয়ে মানুষ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

পৃথিবী থেকে অনেক দূরে মেঘের দেশ। সেখানে গিয়ে বজ্র ও বিদ্যুত্ বাস করতে লাগল।

মেঘের দেশে গিয়েও বিদ্যুতের দুষ্টুমি কমল না। সে সেখানে গিয়ে মেঘের গায়ে আগুন ছুড়তে লাগল। বজ্রও আগের মতো ছেলেকে শাসন করতে ভীষণ শব্দে গর্জন করতে থাকে। নিচে পৃথিবীর মানুষ বিদ্যুতের চমকানি ও বজ্রের গর্জন শুনে ভয়ে কাঁপে। তারা আর রাজার কাছে নালিশ করতে গেল না। রাজার কিছু করার নেই। কেননা মেঘের দেশ অনেক দূরে। বজ্র ও বিদ্যুতের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে মেঘের বাসিন্দারা কাঁদে। তাদের কান্নার জল বৃষ্টি হয়ে পৃথিবীতে ঝরতে থাকে।

রূপান্তর : শাহ্জাহান কিবরিয়া

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন