ঢাকা শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬
৩০ °সে


সবজি

গাজর

গাজর

গাজর জনপ্রিয় একটি সবজি। পুষ্টিমানের দিক থেকেও অতুলনীয়। কেবল পুষ্টিগুণই বা বলি কেন গাজর ভেষজগুণেও সমৃদ্ধ। উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন রং ও আকারের গাজর বন্য অবস্থায় প্রচুর পরিমাণে দেখা যায় বলে অনুমিত হয়েছে যে, ঐ সমস্ত অঞ্চলই গাজরের উত্পত্তিস্থল। আবার অনেকে ইউরোপ, আমেরিকা, ইথিওপিয়া ও উত্তর আফ্রিকাকে গাজরের দ্বিতীয় উত্পত্তিস্থল বলে মনে করেন। যাই হোক, এ সমস্ত স্থান থেকেই গাজরের চাষ পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

গাজরের বোটানিক্যাল নাম ‘ডুকাস ক্যার টালিন’। গাজর গাছ তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। পাতাগুলো বহু অংশে বিভক্ত। এটি সাধারণত সাত-আট ইঞ্চি লম্বা হয়। দেখতে অনেকটা মূলার মতো। তবে মূলার রং যেমন সাদা, এটি সে রকম নয়। দেখতে গাঢ় ও হালকা কমলালেবুর মতো। জাত অনুযায়ী গাজরের ত্বকের বর্ণ হলুদ, কমলা, বেগুনি ও লাল হতে পারে। তবে আধুনিক উন্নত সব জাতই হলুদ ও কমলা বর্ণের।

সাধারণত আমরা গাজর কাঁচা অবস্থায় সালাদ বা তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়ার জন্যই চাষ করে থাকি। কোথাও কোথাও চাটনি বা আচার, মিষ্টান্ন ও পুডিং ইত্যাদি প্রস্তুতের জন্যও গাজর ব্যবহূত হয়। গাজরের হালুয়া অতি সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার বটে। এ হালুয়া ছোট বড় অনেকের প্রিয়। গাজরে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ক্যালসিয়াম, লৌহ, খনিজ পদার্থ ও চিনি রয়েছে। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে রয়েছে ১০,৫২০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন, যা হজমের পর ক্ষুদ্রান্ত্রে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা ভিটামিন ‘এ’-র প্রধান কাজ। তাই অন্ধত্ব ও রাতকানা প্রতিরোধে গাজর খুবই উপকারী। তাছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে থাকে ১.২ গ্রাম আমিষ, ১২.৭ গ্রাম শর্করা, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.২ মিলি গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, ভিটামিন ‘বি’-এ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-০.০৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ‘সি’ ৬ মিলিগ্রাম, আঁশ ১.২ গ্রাম এবং খাদ্যশক্তি ৫৭ কিলো ক্যালরি।

এসব পুষ্টি উপাদান রোগমুক্ত জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজন। গাজর শিশুদের রিকেট রোগ প্রতিরোধক। গাজর শরীরকে ঠান্ডা রাখাসহ হূদপিণ্ড ও মস্তিষ্ককে মজবুত রাখে এবং কোষ্টকাঠিন্য দূর করে। গলস্টোন প্লীহা বৃদ্ধিজনিত রোগ, অর্থরোহণ ও হূদরোগে আক্রান্ত রোগীদের পক্ষে গাজর বিশেষ উপকারী। গাজরে ‘বেটাক্রোন’ বলে এক ধরনের জৈব রাসায়নিক উপাদান থাকে। যাদের ইতিমধ্যে স্ট্রোক হয়েছে, গাজর তাদের পরবর্তী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% হ্রাস করে। এছাড়া গাজর পাকস্থলি পরিষ্কার রাখে। গাজর কাঁচা খেলে দাঁত মজবুত হয় ও হজমশক্তি বাড়ে। গাজরের রস সব ধরনের জ্বর, দুর্বলতা, নাড়ি সম্পর্কিত বিকার, রক্তস্বল্পতা, নৈরাশ্য ও দুর্বলতার ক্ষেত্রে অত্যধিক প্রভাবশালী। গ্রীষ্ম ঋতুতে গাজর খাওয়া উচিত নয়। কারণ গাজর খেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। ঠান্ডায় শরীরকে গরম রাখার জন্য এবং ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গাজর খাওয়া উচিত।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন