ঢাকা রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
৩৩ °সে

ফল

হারিয়ে যাওয়া ফল বৈচি

হারিয়ে যাওয়া ফল বৈচি

বৈচি খুবই জনপ্রিয় একটি ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Flacourtia indica। এ ফলের গাছ প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও বরিশালের কিছু কিছু জায়গায় ঝোপেঝাড়ে এখনো বৈচি ফলের দেখা মেলে। এলাকা বিশেষে বৈচি ডুংখইর, বুঁজ, ডঙ্কার ফল, কাঁটাবহরী ইত্যাদি নামে পরিচিত।

সাধারণত ঝোপজঙ্গলে বৈচিগাছ জন্মে। ঘন ডালপালার কাঁটাযুক্ত এ গাছ। কাঁটাগুলো ৩/৪ ইঞ্চি লম্বা হয়, যা বেশ সূঁচালো ও বিষাক্ত। এ গাছের পাতা আকারে গোলাকার ও সবুজাভ রঙের হয়।

ফাল্গুন-চৈত্র মাসে বৈচিগাছে ফুল ধরে। বৈচি পাকা শুরু হয় জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে। কাঁচা অবস্থায় বৈচির রং সবুজ, তবে পাকলে এর রং হয় গাঢ় বেগুনি। দেখতে অনেকটা বরইয়ের মতো। আকারে আমলকির চেয়ে ছোট। টকমিষ্টি স্বাদের এ ফল ছেলেমেয়েদের কাছে খুবই প্রিয়। আগের দিনে তারা পাকা বৈচির মালা গেঁথে গলায় পরে বেড়াত এবং সেই মালা থেকে খুশিমতো ফল ছিঁড়ে খেয়ে খুব মজা করত।

এ ফলের চাষ করা হয় না। অনাদরে-অবহেলায় ঝোপঝাড় ছাড়াও নদীর ধারে, রাস্তার পাশে, বাঁশবনে প্রভৃতি জায়গায় এ গাছ জন্মে এবং ফল দেয়। সে কারণে বৈচির পরিচিতি এখন হারিয়ে যাওয়া মেঠোফল হিসেবে।

বৈচি প্রচুর পুষ্টিকর ফল। এতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়। এ ফল ঔষধিগুণ সম্পন্ন। দাঁতের গোড়া ফোলা এবং জণ্ডিস রোগ প্রতিরোধে বৈচি ভালো ভূমিকা রাখে। তাছাড়া বৈচিগাছের মূলের রস নিউমোনিয়া এবং পাতার নির্যাস জ্বর, কফ ও ডায়রিয়া নিরাময়ে ব্যবহূত হয়। বৈচিগাছের বাকল রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে তিলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মালিশ করলে বাতব্যথায় যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৯ মার্চ, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন