ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
২৮ °সে


ফল

নারিকেল

নারিকেল

নারিকেল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও সুস্বাদু ফল। তবে ‘কল্পবৃক্ষ’ নামেও নারিকেলগাছ অনেকের কাছে পরিচিত। নারিকেলের আদি স্থান প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ। এসব স্থান থেকেই পরবর্তী সময়ে শ্রীলংকা, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ওশেনিয়া, আফ্রিকা, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জসহ পৃথিবীর নানা দেশে বিস্তার ঘটে। তবে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভারত নারিকেল উত্পাদনে অগ্রগামী। বাংলাদেশের সর্বত্রই নারিকেলগাছ জন্মায়। তবে উপকূলীয় জেলাসমূহে বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও যশোর জেলায় নারিকেলের উত্পাদন বেশি।

মধ্য জ্যৈষ্ঠ থেকে মধ্য আশ্বিন মাস চারা রোপণের যথাযথ সময়। উপকূলীয় উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়া নারিকেল চাষে উপযোগী। নারিকেলগাছ অনেক উঁচু আকারের হয়। কচি সবুজ নারকেলকে ‘ডাব’ বলা হয় এবং অধিক পরিপক্ব নারিকেলকে বলে ‘ঝুনো নারিকেল’। পাকা অবস্থায় নারিকেলের রং সবুজ থেকে বাদামি বা খয়েরি রং ধারণ করে। নারিকেলের ওপর যে স্তর থাকে তাকে ছোবড়া বলে। নারিকেলের ছোবড়া দড়ি, ম্যাট্রেস, বিভিন্ন হস্তশিল্প ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহূত হয়। ছোবড়ার পরে একটি শক্ত খোলস থাকে। এই কঠিন খোলার ভেতরে সাদা রঙের শাঁস ও পানি থাকে। ডাবের পানি ঠান্ডা, সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে এবং পটাশিয়াম ও সোডিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরে বাড়তি উদ্দীপনা জোগায়। নারিকেলগাছের পাতা, নারকেলের ছোবড়া বিভিন্ন কাজে ব্যবহূত হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি, পূজাপার্বণসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এই ফলটির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

নারিকেলের শাঁসে স্নেহ জাতীয় পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। এছাড়াও প্রচুর চর্বি, আমিষ, শর্করা, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে। নারিকেলের শাঁস দিয়ে নানা রকম খাবার তৈরি হয়। পিঠা-পুলি, পায়েস, নাড়ু তৈরিতে নারিকেল অনন্য। নারিকেলের নাড়ু খুবই মজাদার। নারিকেলগাছের পাতা মাদুর, গৃহের আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহূত হয় এবং পাতার কাঠি থেকে ঝাড়ু তৈরি করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন