ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


পুরাকীর্তি

রানি ময়নামতি প্রাসাদ

রানি ময়নামতি প্রাসাদ

কুমিল্লার লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ে প্রত্নোত্খননে আবিষ্কৃৃত নিদর্শনগুলোর একটি ময়নামতি রানি প্রাসাদের পুরাস্থাপত্যিক কাঠামো। লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের সর্ব উত্তরে বিচ্ছিন্ন একটি পাহাড়ের চূড়ায় এর অবস্থান। প্রাসাদের চারদিকের সীমানা প্রাচীর গত শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে খননে আবিষ্কৃৃত হয়। এরপর ১৯৮৮ সালে প্রত্নোত্খননের আগে সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল এই প্রাসাদ।

ময়নামতি রানি প্রাসাদের উত্তর-দক্ষিণে ১৫৫.৪৫ মিটার ও পূর্ব-পশ্চিমে ১৫২.৪০ মিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর রয়েছে। এর ঠিক মাঝখানে প্রাসাদটি। প্রাসাদ এলাকা খননে চারটি বসতি আমলের অস্তিত্ব মেলে। প্রথম বসতি আমলে ৪৪.১৯ বর্গাকার বিস্তৃতি জুড়ে একটি ক্রুশাকার পুরাস্থাপনার অস্তিত্ব ছিল। সে পুরাস্থাপনার তলপত্তনে আধাগোলাকার ইটের অলঙ্করণ ও ভিতে লহড়ার চিহ্ন রয়েছে। এ ক্রুশাকৃতি পুরাস্থাপনার সঙ্গে শালবন বিহারের প্রথম আমলের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। ক্রুশাকৃতি ভিত পরিকল্পনাটির ওপর পরবর্তীকালে অপর একটি আয়তাকার স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় প্রথমটির সার্বিক বৈশিষ্ট্য নিরুপণ সম্ভব হয়নি। প্রথম বসতি আমলের ভিত পরিকল্পনার ওপর দ্বিতীয় বসতি আমলে ১৫.৬৯ মিটার বাই ১৪.৯৭ মিটার পরিমাপের আয়তাকার একটি নিরেট কাঠামো নির্মিত হয়েছে। এ কাঠামোর মাঝামাঝি স্থানে পূর্বমুখে ছোট পরিমাপের একটি মণ্ডপের চিহ্ন অনাবৃত। পূর্বদিক থেকে এ মণ্ডপে প্রবেশের জন্য একটি পথ রয়েছে। সে পথের দু’পাশে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা একটি দেয়াল। এছাড়া পুরাস্থাপনাটির পূর্ব পাশে একটি প্রাচীর ঘেরা চত্বর ছিল। এই পুরাস্থাপনার কাঠামোর সঙ্গে ময়নামতি সেনানিবাসের দক্ষিণে কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত ইটাখোলা মুড়ায় আবিষ্কৃত মন্দির কাঠামোর কিছু সাদৃশ্য লক্ষণীয়। তৃতীয় বসতি আমলে পূর্ববর্তী আমলের নিরেট কাঠামোটির উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম পাশের আরো কিছু অংশ পরিত্যক্ত রেখে অপর একটি কাঠামো নির্মিত হয়। এ আমলে নিরেট কাঠামোর পূর্বমুখে একটি প্রকোষ্ঠের সংস্থান রাখা হয়েছিল। তাছাড়া এ বসতি আমলে দ্বিতীয় বসতি আমলের বেষ্টনী প্রাচীরকে পিছনের দেয়ালরূপে ব্যবহার করে সম্মুখ ও বিভাজক দেয়াল সংযোজন করে আটটি নতুন কোঠার আয়োজন করা হয়েছে। কোঠাগুলোর সামনে বারান্দার চিহ্নও পরিলক্ষিত হয়। চতুর্থ বসতি আমলে নিরেট কাঠামোটির ধ্বংসাবশেষের ওপর আরো একটু ছোট করে নতুন একটি কাঠামো নির্মাণ করা হয়। সে কাঠামোটির ওপর উনিশ শতকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার মহারাজ কুমার কিশোর মানিক্য বাহাদুর একটি আধুনিক বাংলো নির্মাণ করেন। এতে প্রাচীন এই কাঠামোটির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ায় সার্বিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অজ্ঞাত থেকে যায়।

১৯৮৮ সালে প্রত্নোত্খননে সেখানে আবিষ্কৃত হয় পোড়ামাটির চিত্রফলক। যেগুলোতে আড্ডায় রত তিনজন পুরুষ, শিকারসহ নকুল জাতীয় একটি প্রাণী, নরসিংহ, বামন, কুর্ম (কচ্ছপ), উন্মাসিক আরোহিনীসহ একটি চলমান মহিষ যেটাকে কয়েকজন পুরুষ সমবেতভাবে ধাক্কা দিচ্ছে, রাজহাঁস, রূপান্বিত ময়ুর, হামাগুড়ি দেওয়া শিশুর সঙ্গে খেলায় মত্ত মা, কিষানের হাল কর্ষণ, দুটি চতুষ্পদ প্রাণীর মৈথুন্য কিন্নর অন্যতম। এছাড়া প্রাসাদের পশ্চিম-উত্তর কোণে সীমানা প্রাচীরে ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ সালে প্রত্নোত্খননে আবিষ্কৃৃত হয়েছে অলঙ্কারিত ইট, লোহার পেরেক, পোড়ামাটির বিভিন্ন হাঁড়ি-পাতিলের ভগ্নাবশেষ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন