শ্রমিকের নিরাপত্তা ও হয়রানি বন্ধ সংক্রান্ত আইএলও নীতিমালা স্বাক্ষরের দাবি

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিভিন্ন দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সমাবেশ —ইত্তেফাক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে বলে মনে করছেন শ্রমিক নেতারা। শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন (নীতিমালা) ১০২ এখনো বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেনি। অন্যদিকে সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধ সংক্রান্ত নীতিমালাও (১৯০) অনুস্বাক্ষর করেনি বাংলাদেশ। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে শ্রমিক নেতারা আইএলওর এ দুটি নীতিমালা স্বাক্ষরের দাবি জানিয়েছেন। শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, এ দুটি নীতিমালা স্বাক্ষর না করায় গার্মেন্টস শিল্পসহ দেশের সব শ্রমিক কোনো ধরনের সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে নিরাপদ কর্মস্থলের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ঐ সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন। এ সময় বলা হয়, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে। মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) এবং গড় আয়ও বেড়েছে। বর্তমানে দেশের জিডিপির আকার প্রায় ২৭ লাখ কোটি টাকা। জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এর জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান গার্মেন্টস শ্রমিকসহ দেশের সব শ্রমিকের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশন সরকার এখনো অনুস্বাক্ষর করেনি। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। অন্য শ্রমিকরাও হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধ সংক্রান্ত আইএলওর এ সংক্রান্ত কনভেনশনও অনুস্বাক্ষর করেনি। দেশের উন্নয়ন এবং শিল্পায়নকে টেকসই করার জন্য আইএলও এ সংক্রান্ত দুটি কনভেনশন স্বাক্ষর করার দাবি জানান তারা। শোভাযাত্রা থেকে ঘোষণা করা হয়, আইএলও কনভেনশন ১০২ ও ১৯০ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুস্বাক্ষর না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলমান থাকবে।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আরিফা আক্তার, একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, কেন্দ্রীয় নেতা সাফিয়া পারভীন, আলোয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম রফিক, ফরিদুল ইসলাম, কবির হোসেন, নাসিমা আক্তার, ইসরাত জাহান ইলা ও পারভীন আক্তার প্রমুখ।