ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৯ °সে


নারী শ্রমিকদের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে

মহিলা পরিষদের মতবিনিময় সভায় তথ্য
নারী শ্রমিকদের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে

দেশে নারী শ্রমিকের ঝরে পড়ার হার বাড়ছে। বর্তমানে দেশে পোশাক শিল্পে শতকরা ৬৫ ভাগ নারী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। যা আগে ছিল শতকরা ৮৫ শতাংশ। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার না জানা, প্রশিক্ষণের অভাব ছাড়াও—উপযুক্ত চিকিত্সা ব্যবস্থা, নিরাপদ টয়লেটের অভাব, চাকরির অনিশ্চয়তা, মাতৃত্বকালীন ছুটি না পাওয়া, মজুরি বৈষম্য, ডে-কেয়ারের অপ্রতুলতা ও যৌন হয়রানি, প্রত্যক্ষভাবে নারী শ্রমিক কমার বড়ো কারণ বলে জানান বক্তারা। গতকাল শুক্রবার সকালে মহিলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ‘নারী শ্রমিকদের সমমজুরি ও নিরাপত্তা চাই’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী বলেন, নারী নির্যাতনের ধরন এবং ভয়াবহতা সর্বত্র একই। পোশাক শিল্পে নির্ধারিত শ্রমঘণ্টা ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় ১৮৫৭ সালে। নারী শ্রমিকদের এই দাবি এখনো পূরণ হয়নি। এর সঙ্গে বরং যুক্ত হয়েছে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশের অভাব, স্যানিটেশনের অভাব ও ডে-কেয়ার সেন্টারের অপ্রতুলতা। বাধা কাটিয়ে নারী শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীদের শ্রমের কারণেই আজ বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটছে। অথচ তারা কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য, নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব, যৌন হয়রানি ও সহিংসতাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। তারা নিজেদের জীবনমানের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার ভুঁইয়া বলেন, কর্মক্ষেত্রে এখনো নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়। গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ নয়। কোনো আন্দোলনে থাকে না। উপস্থিত শ্রমিক নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন আপনাদের নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। সরকার চায় নিজেরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে নিজেদের অধিকার বুঝে নিন।

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সমন্বয়কারী কামরুল আহসান বলেন, বর্তমানে নারী শ্রমিক আন্দোলন চ্যালেঞ্জের মুখে। আজও শ্রমনীতি বাস্তবায়িত হয়নি। আইএলও কনভেনশন অনুসারে আমাদের দেশের ১৫ ধরনের কাজ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এর জন্য কোনো প্রস্তুতি এখনো নেওয়া হয়নি। এটি সরকারকে আমলে নিতে হবে।

এই অবস্থায় কর্মরত নারী শ্রমিকদের হার বৃদ্ধি করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল করতে কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য দূর করতে হবে, নারী শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য পৃথক বাস চালু করা, কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব টয়লেটের ব্যবস্থা করা, ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাধ্যবাধকতা সংবলিত নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং ২০১৩ সালের শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন বক্তারা।

সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত নারী শ্রমিকসহ ৪৩ জন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেসি ও লবি শাখার পরিচালক জনা গোস্বামী।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন