ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
২৮ °সে

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দুই সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

‘গরিবের আবার মাস্ক, ময়লা পরিষ্কার করেই কূল পাই না’
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দুই সিটির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা
হ্যান্ডগ্লাভস ছাড়া এভাবেই ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করছে পরিচ্ছন্নকর্মীরা —ইত্তেফাক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী আল আমিন। কাজে আসেন সকাল ৫টায়। ছুটি হয় বিকাল ৫টার দিকে। সিটি করপোরেশনের রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে গড়িতে তোলা তার কাজ। করোনা ভাইরাসে যে মাস্ক পরতে হয়, সেটা জেনেছেন একদিন আগে। তাও নিজের টাকা দিয়েই একদিন আগে তিনি সেটি কিনেছেন। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে এবং এটির প্রতিরোধে যখন সারাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা তৈরি হচ্ছে, তখন এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন ঝুঁকিতে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। সরকারি অফিসসহ সব অফিস-আদালত বন্ধের ঘোষণার পরে যখন সবাই বাড়িতে অবস্থান করছেন তখন কোনো ধরনের নিরাপত্তা মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়াই সেই বাড়ি ও রাস্তার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। উত্তর সিটি করপোরেশনের আরেক পরিচ্ছন্নকর্মী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সবার ছুটি হবে, কিন্তু আমাদের কোনো ছুটি নেই। মাস্ক কেন পরেন না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গরিবের আবার মাস্ক। ময়লা পরিষ্কার করেই কূল পাই না।’ কে দিবে মাস্ক ?

উত্তরায় উত্তর সিটি করপোরেশনের আবর্জনা পরিষ্কারে নিয়োজিত রয়েছেন ৪২৫ জন কর্মী। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্লিন টেক এই দায়িত্ব পালন করছে। তারা কর্মীদের দিয়ে সিটি করপোরেশনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কেন মাস্ক ও গ্লাভস দেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে ক্লিন টেকের সিআইও আসাদুল হক বলেন, আমরা মাস্ক দেওয়া শুরু করেছি। হয়তো সবাই এখনো পায়নি। আর বুঝেনই তো, তারা আসলে মাস্ক পরতে চায় না। তারা করোনায় আক্রান্ত হলে তো অন্যরাও আক্রান্ত হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে আমরা চেষ্টা করছি তাদের নিরপত্তা নিশ্চিত করতে। তবে এর জন্য সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

এদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত লকডাউন হওয়া টোলারবাগের ময়লা আবর্জনাও আসছে বাইরে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এগুলো পরিষ্কার করে অন্য ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে গাড়িতে করে নিয়ে আসেন। সরেজমিনে দেখা যায়, টোলারবাগের ময়লার গাড়িগুলো ফেলে রাখা হয়েছে। আগে দক্ষিণ টোলারবাগে আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ করতেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি জানান, আমাকে নিজের নিরাপত্তার জন্য জিনিসপত্র না দেওয়ায় আমি কাজে যাইনি। উত্তর টোলারবাগে অন্য একজন যাওয়ার কথা। সকাল সকালই আমরা ময়লা নিয়ে আসি এসব এলাকা থেকে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করেন প্রায় ৪ হাজার কর্মী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কাজ করেন প্রায় ৫ হাজার কর্মী। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে ডিএনসিসি এদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী ব্যবস্থা নিয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এস এম শফিকুর রহমান বলেন, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য আমরা মাস্ক ও গ্লাভসের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা সবাইকে এর আওতায় আনতে পারব। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যারা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে কাজ করেন তারাতো এটি নিশ্চিত করেনি, এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তারা ব্যবস্থা নেবে বলে আমাকে জানিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নিয়মিত তো সবাইকে মাস্ক দেওয়া সম্ভব না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন