ঢাকা রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৭ °সে

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যাকারী সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যাকারী সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার

অনলাইনে জুয়া খেলা নিয়ে পারিবারিক কলহ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর দক্ষিণখানে একই পরিবারের স্ত্রী, শিশুপুত্র ও শিশুকন্যাসহ তিন জনকে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রকিব উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে লিটনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া রকিব বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে উত্তরায় কর্মরত। ডিবির উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানা এলাকা থেকে লিটনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রকিব উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে লিটন ট্রিপল মার্ডার সম্পর্কে ডিবি পুলিশকে জানায়, সে নিজেই তার স্ত্রী, তার শিশুপুত্র এবং কন্যা সন্তানকে হত্যা করে পাগলের বেশ ধারণ করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেছিলেন।

হত্যার কারণ সম্পর্কে রকিব বলেন, স্ত্রী মুন্নী (৩৭), ছেলে ফারহান (১২) ও মেয়ে লাইবা (৩) নিয়ে তাদের সংসার। এদেরসহ তিনি উক্ত বাড়ির ৪র্থ তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডে (বিটিসিএল) কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে উত্তরায় কর্মরত। মাঝেমধ্যে টুকটাক পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝামেলা হলেও সবাইকে নিয়ে সুখেশান্তিতে বসবাস করছিলেন। তার নারী বা মাদক সেবনের কোনো বদ অভ্যাস ছিল না। অফিসের সহকর্মীসহ অন্যান্য ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা সুদে বিভিন্ন সময়ে ধার নিয়েছিলেন। অনলাইনে জুয়া খেলে এসব টাকা তিনি খুইয়ে ফেলেন। এদিকে পাওনাদাররা তাদের পাওনা টাকা আদায়ে তাকে চাপ দিতে থাকে। এ কারণে তিনি বাসায় স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং গত ডিসেম্বর মাসে তিনি কিছু দিন আত্মগোপনে ছিলেন। তখন তার পরিবার দক্ষিণখান থানায় জিডি করে; কিন্তু কিছুদিন পরে তিনি বাসায় ফিরে আসেন। পাওনাদারদের টাকার চাপে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় আলোচনা করলেও তার পরিবার এবং আত্মীয়স্বজন তাকে তার জুয়া খেলার কারণে বিশ্বাস করত না। তখন পাওনাদারদের বিভিন্ন চাপের কারণে স্ত্রী মুন্নী ও তার ছেলে ফারহান তাকে বলে, ‘এভাবে বেঁচে থেকে লাভ কী? আমাদের কাউকে দিয়ে মেরে ফেল, এভাবে বেঁচে থাকতে ভালো লাগে না।’ পাওনাদারদের চাপ, আত্মীয়স্বজনদের অবিশ্বাস এবং স্ত্রী-সন্তানদের বিভিন্ন কথা অসহ্য লাগে তার কাছে। এর জের ধরে তিনি তাদের হত্যা করে পালিয়ে যান।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
৩১ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন