ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

‘শহরের ভেতর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ না করে বাইরে করতে হবে’

মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ

মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি  নিষিদ্ধ করার সুপারিশ

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ১১১টি সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে রোড সেফটি অথরিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে কমিটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। সুপারিশগুলোকে চার মেয়াদে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। মোট সদস্য সংখ্যা ১৫ জন।

সুপারিশে মহাসড়কে তিন চাকার নসিমন জাতীয় যানবাহন নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, শহরের ভেতর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ না করে বাইরে করতে হবে। সিটি বাসের জন্য টার্মিনাল নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ মতামত নিতে হবে।

সুপারিশে বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক আইন, রাস্তা পারাপার ও গাড়িতে উঠানামা মনিটরিং করার ব্যবস্থা করতে হবে। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সুপারিশে নারী চালকদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে, নারী চালকরা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকি নেয়। সে জন্য এ পেশায় তাদের আলাদা সুযোগ দিতে হবে। চাকরিতে নারী চালকদের অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) দক্ষ ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে এবং ইন্সট্রাক্টরবিহীন কোনো ব্যক্তি যেন গাড়ি চালানো শিখতে না পারে সে নির্দেশনা দিতে হবে। ২০২০ সালের মধ্যে এক হাজার ইন্সট্রাক্টর তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে। পেশাদার চালকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে। যুব উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ড্রাইভিং ট্রেড কোর্স চালু করা দরকার।

অনিবন্ধিত ড্রাইভিং স্কুলকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে বলা হচ্ছে। লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে দুদিনের নবায়ন প্রশিক্ষণ করতে হবে। অবৈধ চালকদের শনাক্ত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হালকা শ্রেণির লাইসেন্স দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে উঁচু করে জেব্রাক্রসিং নির্মাণ করতে হবে। রোড ডিভাইডারে পথচারী প্রতিবন্ধক দিতে হবে। রাস্তায় কোনো ধরনের ম্যানহোল ও ডাস্টবিন রাখা যাবে না। ম্যানহোল সরানো না গেলে সমতলে রাখতে হবে। যেসব স্থানে সাইকেল বেশি সে সব রাস্তায় সাইকেল লেন করে দিতে হবে। দেশের সব সড়কে প্রয়োজনীয় সাইন, মার্কিং ও স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো প্রকার গতিরোধক স্থাপন করা যাবে না। দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকে প্রতি ৫ ঘণ্টা পর বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা পর একজন বিকল্প চালকের ব্যবস্থা করতে হবে।

রাস্তার সংযোগস্থলগুলোর ১৫০ ফুট পর্যন্ত কোনো ধরনের গাছপালা থাকতে পারবে না। রাস্তায় টিকিট বিক্রি ও বাস থামার ব্যবস্থা করতে হবে।

নতুন যে কোনো রাস্তা নির্মাণের সময় সড়ক নিরাপত্তার সবকিছু আছে কিনা তা বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করে দেখার সুপারিশ করা হচ্ছে। মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ জায়গায় গতিবেগ নির্ধারণ ও ১০০ মিটারের মধ্যে গাছপালা কেটে দিতে হবে। প্রয়োজনীয় সার্ভে করে কিছু কিছু রাস্তার সংযোগস্থল উঁচু করে দিতে হবে। নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সময় সার্ভিস রোডের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মহাসড়কের লেন সংখ্যা বাড়াতে হবে। কমগতির গাড়ির জন্য আলাদা সার্ভিস রোড বা ভিন্ন একটি লেনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। লেনভিত্তিক গতিসীমা নির্ধারণ করতে হবে। নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর ট্রমা সেন্টার ও ফায়ার স্টেশন স্থাপন করতে হবে। রিকশাকে এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। রাজধানী থেকে রিকশা মুক্ত করতে বিষদ পরিকল্পনা নিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন