ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
৩১ °সে


স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস আজ

প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত হলে ৯০ ভাগ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব

প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত হলে ৯০ ভাগ রোগীকে বাঁচানো সম্ভব

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শুধু দ্রুত শনাক্ত করতে না পারার কারণেই স্তন ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। প্রাথমিক স্তরে এ রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে ৯০ ভাগের বেশি রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু তৃণমূলের নারীরা এখনো এ রোগ সম্পর্কে সচেতন নন।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার’—আইএআরসির সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১২ হাজার ৭৬৪ জন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে মারা যান ৬ হাজার ৮৪৪ জন।

গ্লোবাল ক্যানসার স্ট্যাটিসটিক্স ২০১৮ (গ্লোবোক্যান)-এর তথ্যমতে, প্রতিবছর বিশ্বে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪৯ জন নারী। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এখন পুরুষদেরও সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। কারণ, পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যানসার দেখা দিচ্ছে। যদিও পুরুষদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসেবে দেখা যায় যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৪১ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তার বিপরীতে ৩০০ জন পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন।

চিকিত্সকরা বলছেন, মাসিকের পরের সাত দিন নিজে নিজেই স্তনে কোনো চাকা আছে কি না তা দেখে নিতে হবে। মাসিকের তিন থেকে চার দিন পর নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করতে পরামর্শ তাদের। স্তনের কোথাও চাকার অস্তিত্ব পেলে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে। এই রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে শারীরিক কোনো কষ্ট থাকে না। তাই রোগ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগে রোগী বুঝতেও পারেন না, তার স্তন ক্যানসার হয়েছে। রোগী একেবারে শেষ পর্যায়ে চিকিত্সকের কাছে আসেন। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ শনাক্ত করা যায় তাহলে ছোটো অস্ত্রোপচারে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

তারা আরো বলছেন, স্তনে সব চাকাই ক্যানসার নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, স্তনের চাকার ক্ষেত্রে শতকরা ১০ ভাগ শেষ পর্যন্ত ক্যানসার হিসেবে চিহ্নিত হয়। বাকি ৯০ ভাগই অন্য কোনো সাধারণ রোগ, যা সহজে নিরাময় করা সম্ভব। সুতরাং সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের ধরন জানা অত্যন্ত জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে দেশে আজ পালিত হচ্ছে স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের ব্যানারে ১২টি স্বেচ্ছাসেবী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং ৬৮টি রোটারি ক্লাবের মোর্চা যৌথভাবে সপ্তমবারের মতো সারাদেশে ‘স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস’ পালন করছে।

দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বাংলায় লেখা তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ। সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার বিষয়—‘স্তন ক্যানসার সচেতনতা ও স্ক্রিনিং : কেন চাই? কিভাবে চাই?’।

উল্লেখ্য, দেশের প্রায় ৪০০ সরকারি হাসপাতালে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং সেবা দেওয়া হয়। নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করলেই বিনামূল্যে এই সেবা পাওয়া যাবে। এছাড়া রয়েছে ট্রাস্ট পরিচালিত কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার বা সমাজভিত্তিক ক্যানসার সেবা কেন্দ্র। এটি রাজধানীর লালমাটিয়ার বি-ব্লকে অবস্থিত। এখানেও স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার স্ক্রিনিং, প্রাথমিক সেবা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে প্রতিবছর নারীদের একবার করে স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন। তিনি বলেন, শুধু বাড়িতে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করে বসে থাকলেই চলবে না। বছরে একবার বিশেষজ্ঞের দ্বারা স্তন পরীক্ষা (মেমোগ্রাফি) করতে হবে।

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যানসার ইপিডেমোলজি বিভাগের প্রধান এবং বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্য­াহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশপাশি আমরা এবার স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রমে সবাইকে উত্সাহিত করার ওপর জোর দিচ্ছি। কেননা, স্তন ক্যানসার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এবং সঠিক ও পূর্ণ চিকিত্সায় শতকরা ৯০ ভাগ রোগী সুস্থ হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন